০৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল? আইপিএলে ড্রেসিংরুমে ই-সিগারেট বিতর্কে রিয়ান পরাগ, শাস্তির মুখে রাজস্থান অধিনায়ক

ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে চার্লসের রসিকতা: ‘আমরা না থাকলে আপনারা আজ ফরাসি বলতেন’

যুক্তরাষ্ট্র সফরের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে দাঁড়িয়ে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এমন এক মন্তব্য করলেন, যা একই সঙ্গে হাস্যরস আর ইতিহাস—দুইয়েরই ছোঁয়া এনে দিল কূটনৈতিক পরিবেশে। তাঁর কথায়, যুক্তরাজ্য না থাকলে আজকের আমেরিকানরা হয়তো ইংরেজির বদলে ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন।

এই মন্তব্য তিনি করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে। বক্তব্যের শুরুতেই ট্রাম্পের একটি পুরোনো মন্তব্য তুলে ধরে চার্লস বলেন, প্রেসিডেন্ট একসময় বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইউরোপে জার্মান ভাষা চালু হয়ে যেত। এর জবাবে চার্লসের রসিকতা—“আমরা না থাকলে হয়তো আপনারা ফরাসি বলতেন।” এরপরই তিনি যোগ করেন, ফরাসিদের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা অটুট।

ইতিহাসের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত

King Charles jokes Trump would be speaking French 'if it wasn't for us' at state  dinner — follow live updates

চার্লসের এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। আমেরিকার স্বাধীনতা অর্জনের সময় ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তা ছিল। স্বাধীনতার আগে উত্তর আমেরিকার বড় অংশ ছিল ফরাসি নিয়ন্ত্রণে। ফলে ভাষা ও সংস্কৃতিতে ফরাসি প্রভাব ছিল গভীর।

স্বাধীনতার পরও ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক একেবারে মসৃণ ছিল না। ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ বাহিনী ওয়াশিংটন দখল করে এবং ১৮১৪ সালে হোয়াইট হাউসে আগুন লাগায়। সেই ঘটনাকেও চার্লস তাঁর বক্তব্যে হাস্যরসের মোড়কে তুলে ধরেন।

হোয়াইট হাউস নিয়ে ‘রিয়েল এস্টেট’ ঠাট্টা

নৈশভোজের বক্তৃতায় চার্লস ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস সংস্কার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আপনার সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো আমি লক্ষ্য করেছি। তবে বলতে দুঃখ হচ্ছে, ১৮১৪ সালে আমরাও একবার হোয়াইট হাউসের ‘পুনর্গঠন’ করার চেষ্টা করেছিলাম।” এই মন্তব্যে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে।

সম্পর্কের নতুন বার্তা

King Charles issues Donald Trump with tense 14-word warning as tensions  continue - The Mirror US

রসিকতার মধ্যেও চার্লস যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল মতপার্থক্য থেকে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা শক্তিশালী অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। গণতন্ত্র, প্রতিনিধিত্ব এবং করনীতির মতো মৌলিক ধারণাগুলো দুই দেশকে একই সূত্রে বেঁধেছে।

দিনের শুরুতে কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যেও চার্লস এই সম্পর্কের ভিত্তি ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিনিধিত্ব ছাড়া কর আরোপের বিরুদ্ধে যে নীতি আমেরিকার জন্মের সময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেটিই ছিল দুই দেশের প্রথম মতবিরোধ এবং একই সঙ্গে একটি যৌথ মূল্যবোধ।

নামকরণে ব্রিটিশ ছাপ

চার্লস তাঁর বক্তব্যে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নামেও ব্রিটিশ ইতিহাসের ছাপ তুলে ধরেন। ভার্জিনিয়া নামটি এলিজাবেথ প্রথমের নামে, মেরিল্যান্ড চার্লস প্রথমের স্ত্রী হেনরিয়েটা মারিয়ার নামে, আর ক্যারোলাইনা এসেছে ‘কারোলাস’ থেকে, যা চার্লসের ল্যাটিন রূপ। এভাবেই দুই দেশের ঐতিহাসিক সংযোগ আজও টিকে আছে।

You'd be speaking French': King Charles pokes fun at Trump during state  dinner - France 24

আনুষ্ঠানিকতার বিরল দৃশ্য

এই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ঐতিহ্যবাহী সাদা টাই পোশাকের ব্যবহার ছিল, যা হোয়াইট হাউসে খুব কমই দেখা যায়। এর আগে এমন আয়োজন হয়েছিল ২০০৭ সালে, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সফরের সময়।

এই সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে—যেখানে ইতিহাস, কূটনীতি এবং হাস্যরস একসঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে।

 

সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা

ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে চার্লসের রসিকতা: ‘আমরা না থাকলে আপনারা আজ ফরাসি বলতেন’

০২:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র সফরের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে দাঁড়িয়ে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এমন এক মন্তব্য করলেন, যা একই সঙ্গে হাস্যরস আর ইতিহাস—দুইয়েরই ছোঁয়া এনে দিল কূটনৈতিক পরিবেশে। তাঁর কথায়, যুক্তরাজ্য না থাকলে আজকের আমেরিকানরা হয়তো ইংরেজির বদলে ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন।

এই মন্তব্য তিনি করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে। বক্তব্যের শুরুতেই ট্রাম্পের একটি পুরোনো মন্তব্য তুলে ধরে চার্লস বলেন, প্রেসিডেন্ট একসময় বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইউরোপে জার্মান ভাষা চালু হয়ে যেত। এর জবাবে চার্লসের রসিকতা—“আমরা না থাকলে হয়তো আপনারা ফরাসি বলতেন।” এরপরই তিনি যোগ করেন, ফরাসিদের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা অটুট।

ইতিহাসের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত

King Charles jokes Trump would be speaking French 'if it wasn't for us' at state  dinner — follow live updates

চার্লসের এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। আমেরিকার স্বাধীনতা অর্জনের সময় ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তা ছিল। স্বাধীনতার আগে উত্তর আমেরিকার বড় অংশ ছিল ফরাসি নিয়ন্ত্রণে। ফলে ভাষা ও সংস্কৃতিতে ফরাসি প্রভাব ছিল গভীর।

স্বাধীনতার পরও ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক একেবারে মসৃণ ছিল না। ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ বাহিনী ওয়াশিংটন দখল করে এবং ১৮১৪ সালে হোয়াইট হাউসে আগুন লাগায়। সেই ঘটনাকেও চার্লস তাঁর বক্তব্যে হাস্যরসের মোড়কে তুলে ধরেন।

হোয়াইট হাউস নিয়ে ‘রিয়েল এস্টেট’ ঠাট্টা

নৈশভোজের বক্তৃতায় চার্লস ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস সংস্কার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আপনার সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো আমি লক্ষ্য করেছি। তবে বলতে দুঃখ হচ্ছে, ১৮১৪ সালে আমরাও একবার হোয়াইট হাউসের ‘পুনর্গঠন’ করার চেষ্টা করেছিলাম।” এই মন্তব্যে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে।

সম্পর্কের নতুন বার্তা

King Charles issues Donald Trump with tense 14-word warning as tensions  continue - The Mirror US

রসিকতার মধ্যেও চার্লস যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল মতপার্থক্য থেকে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা শক্তিশালী অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। গণতন্ত্র, প্রতিনিধিত্ব এবং করনীতির মতো মৌলিক ধারণাগুলো দুই দেশকে একই সূত্রে বেঁধেছে।

দিনের শুরুতে কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যেও চার্লস এই সম্পর্কের ভিত্তি ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিনিধিত্ব ছাড়া কর আরোপের বিরুদ্ধে যে নীতি আমেরিকার জন্মের সময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেটিই ছিল দুই দেশের প্রথম মতবিরোধ এবং একই সঙ্গে একটি যৌথ মূল্যবোধ।

নামকরণে ব্রিটিশ ছাপ

চার্লস তাঁর বক্তব্যে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নামেও ব্রিটিশ ইতিহাসের ছাপ তুলে ধরেন। ভার্জিনিয়া নামটি এলিজাবেথ প্রথমের নামে, মেরিল্যান্ড চার্লস প্রথমের স্ত্রী হেনরিয়েটা মারিয়ার নামে, আর ক্যারোলাইনা এসেছে ‘কারোলাস’ থেকে, যা চার্লসের ল্যাটিন রূপ। এভাবেই দুই দেশের ঐতিহাসিক সংযোগ আজও টিকে আছে।

You'd be speaking French': King Charles pokes fun at Trump during state  dinner - France 24

আনুষ্ঠানিকতার বিরল দৃশ্য

এই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ঐতিহ্যবাহী সাদা টাই পোশাকের ব্যবহার ছিল, যা হোয়াইট হাউসে খুব কমই দেখা যায়। এর আগে এমন আয়োজন হয়েছিল ২০০৭ সালে, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সফরের সময়।

এই সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে—যেখানে ইতিহাস, কূটনীতি এবং হাস্যরস একসঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে।