০৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে চার নীতির কথা জানালেন শি জিনপিং ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন চালু করতে ট্রাম্পের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন বর্ণবৈষম্যের অভিযোগে শিশুদের হ্যালোইন পোশাক বিক্রি বন্ধ, ক্ষমা চাইল টার্গেট চাঙ্গি বিমানবন্দরে জ্যাকেট চুরির অভিযোগে দুই বছর পর ব্রিটিশ নাগরিক গ্রেপ্তার রাকী সাওয়ান্তকে ‘তামাশা’য় দেখতে চান আদনান সিদ্দিকি, বললেন ‘স্বপ্নের মতো’ বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ: অর্থনীতিই এখন ক্ষমতার প্রধান অস্ত্র কে নির্ধারণ করছে ‘মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ’-এর সীমারেখা? হরমুজ ঘিরে ছয় মাসে ৬৮ হামলা, নিহত ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী সাইবার নিরাপত্তা সেবার লাইসেন্স জটিলতার অবসান, সমঝোতায় ইওয়াই ঘানা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞার হুমকি, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা চীনের

গোল্ডেন গোলের নায়ক থেকে বিতর্কের শিকার—আন জং-হোয়ানের গল্পে বিশ্বকাপের অন্ধকার অধ্যায়

২০০২ সালের বিশ্বকাপ ছিল চমক আর অপ্রত্যাশিত ঘটনার এক বিরল মঞ্চ। শক্তিশালী দলগুলোর হোঁচট আর নতুন দলগুলোর উত্থানে সেই আসর আজও আলোচিত। সেই টুর্নামেন্টেই জন্ম নেয় এমন এক গল্প, যেখানে একজন ফুটবলার একদিকে জাতীয় নায়ক, অন্যদিকে নিজের ক্লাবের কাছে হয়ে ওঠেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

চমকের বিশ্বকাপ ও দক্ষিণ কোরিয়ার উত্থান

২০০২ বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তির বিদায় ঘটে গ্রুপ পর্বেই। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের মতো দল সেমিফাইনালে উঠে সবাইকে চমকে দেয়। নকআউট পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ইতালির ম্যাচটি হয়ে ওঠে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নাটকীয় লড়াইগুলোর একটি।

নাটকীয় ম্যাচ ও ইতিহাস গড়া গোল

Soccer's wildest stories: How one World Cup goal made Ahn Jung-hwan a South  Korean icon - and got him sacked | Goal.com English Oman

ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস করেন আন জং-হোয়ান। পরে ইতালির ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরির গোলে এগিয়ে যায় ইউরোপীয় দলটি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরান সিওল কি-হিয়ন। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

সেই সময় চালু ছিল ‘গোল্ডেন গোল’ নিয়ম, যেখানে অতিরিক্ত সময়ে প্রথম গোলই নির্ধারণ করত ম্যাচের ভাগ্য। ১১৭ মিনিটে হেডে গোল করে দক্ষিণ কোরিয়াকে জিতিয়ে দেন আন জং-হোয়ান। এই গোলেই ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে দলটি।

নায়ক থেকে বিতর্কে

এই গোলে পুরো দেশে উদযাপনের ঢেউ উঠলেও ইতালিতে শুরু হয় ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। সে সময় আন খেলতেন ইতালির ক্লাব পেরুজিয়ায়। ক্লাবটির মালিক ক্ষোভে তার চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন। তিনি প্রকাশ্যে জানান, এমন খেলোয়াড়কে তিনি রাখতে চান না যিনি ইতালির ক্ষতি করেছেন।

এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। একদিকে বিশ্বকাপের নায়ক, অন্যদিকে নিজের ক্লাবের কাছে শাস্তিপ্রাপ্ত—এ যেন এক অদ্ভুত বৈপরীত্য।

ক্যারিয়ারে অনিশ্চয়তা ও বাধা

চুক্তি বাতিলের ঘোষণা এলেও পেরুজিয়া পরে তার নতুন ক্লাবে যোগদানে বাধা দেয়। ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাব তাকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের একটি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তির কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়।

Soccer's wildest stories: How one World Cup goal made Ahn Jung-hwan a South  Korean icon - and got him sacked | Goal.com English Oman

আইনি জটিলতায় প্রায় ছয় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই বিরতি তার ভবিষ্যৎ পথকে কঠিন করে তোলে।

এশিয়ায় ফিরে নতুন শুরু

শেষ পর্যন্ত তিনি এশিয়ায় ফিরে গিয়ে নতুনভাবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। জাপানের ক্লাবে যোগ দিয়ে আবার খেলায় ফেরেন। যদিও পরে ইউরোপে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন, তবে বিশ্বকাপের পর যে উচ্চতায় ওঠার সম্ভাবনা ছিল, সেখানে আর পৌঁছাতে পারেননি।

হুমকি ও অন্ধকার দিক

বছর কয়েক পর আন জং-হোয়ান জানান, সেই ম্যাচের পর তিনি প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছিলেন। ইতালির অপরাধচক্রের পক্ষ থেকে এমন হুমকির কথা তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘ সময় পরও তিনি ইতালিতে যেতে ভয় পান বলে জানান।

গোল্ডেন গোলের শেষ অধ্যায়

আন জং-হোয়ানের সেই গোল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। পরে সমালোচনার মুখে ২০০৪ সালে ‘গোল্ডেন গোল’ নিয়ম বাতিল করা হয়। এর মাধ্যমে ফুটবলের একটি যুগের সমাপ্তি ঘটে।

এক গোলেই বদলে যাওয়া জীবন

দক্ষিণ কোরিয়ার সেই জয় বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়লেও আন জং-হোয়ানের জন্য তা ছিল দ্বিমুখী বাস্তবতা। যে গোল তাকে জাতীয় নায়ক বানিয়েছিল, সেটিই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফুটবলের অনিশ্চিত ও কঠোর বাস্তবতার এক নির্মম উদাহরণ হয়ে রয়ে গেছে এই ঘটনা।

গোল্ডেন গোলের নায়ক থেকে বিতর্কের শিকার—এই গল্প শুধু এক ম্যাচের নয়, বরং ফুটবলের আলো-অন্ধকারের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে চার নীতির কথা জানালেন শি জিনপিং

গোল্ডেন গোলের নায়ক থেকে বিতর্কের শিকার—আন জং-হোয়ানের গল্পে বিশ্বকাপের অন্ধকার অধ্যায়

০১:১০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

২০০২ সালের বিশ্বকাপ ছিল চমক আর অপ্রত্যাশিত ঘটনার এক বিরল মঞ্চ। শক্তিশালী দলগুলোর হোঁচট আর নতুন দলগুলোর উত্থানে সেই আসর আজও আলোচিত। সেই টুর্নামেন্টেই জন্ম নেয় এমন এক গল্প, যেখানে একজন ফুটবলার একদিকে জাতীয় নায়ক, অন্যদিকে নিজের ক্লাবের কাছে হয়ে ওঠেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

চমকের বিশ্বকাপ ও দক্ষিণ কোরিয়ার উত্থান

২০০২ বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তির বিদায় ঘটে গ্রুপ পর্বেই। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের মতো দল সেমিফাইনালে উঠে সবাইকে চমকে দেয়। নকআউট পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ইতালির ম্যাচটি হয়ে ওঠে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নাটকীয় লড়াইগুলোর একটি।

নাটকীয় ম্যাচ ও ইতিহাস গড়া গোল

Soccer's wildest stories: How one World Cup goal made Ahn Jung-hwan a South  Korean icon - and got him sacked | Goal.com English Oman

ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস করেন আন জং-হোয়ান। পরে ইতালির ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরির গোলে এগিয়ে যায় ইউরোপীয় দলটি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরান সিওল কি-হিয়ন। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

সেই সময় চালু ছিল ‘গোল্ডেন গোল’ নিয়ম, যেখানে অতিরিক্ত সময়ে প্রথম গোলই নির্ধারণ করত ম্যাচের ভাগ্য। ১১৭ মিনিটে হেডে গোল করে দক্ষিণ কোরিয়াকে জিতিয়ে দেন আন জং-হোয়ান। এই গোলেই ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে দলটি।

নায়ক থেকে বিতর্কে

এই গোলে পুরো দেশে উদযাপনের ঢেউ উঠলেও ইতালিতে শুরু হয় ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। সে সময় আন খেলতেন ইতালির ক্লাব পেরুজিয়ায়। ক্লাবটির মালিক ক্ষোভে তার চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন। তিনি প্রকাশ্যে জানান, এমন খেলোয়াড়কে তিনি রাখতে চান না যিনি ইতালির ক্ষতি করেছেন।

এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। একদিকে বিশ্বকাপের নায়ক, অন্যদিকে নিজের ক্লাবের কাছে শাস্তিপ্রাপ্ত—এ যেন এক অদ্ভুত বৈপরীত্য।

ক্যারিয়ারে অনিশ্চয়তা ও বাধা

চুক্তি বাতিলের ঘোষণা এলেও পেরুজিয়া পরে তার নতুন ক্লাবে যোগদানে বাধা দেয়। ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাব তাকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের একটি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তির কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়।

Soccer's wildest stories: How one World Cup goal made Ahn Jung-hwan a South  Korean icon - and got him sacked | Goal.com English Oman

আইনি জটিলতায় প্রায় ছয় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই বিরতি তার ভবিষ্যৎ পথকে কঠিন করে তোলে।

এশিয়ায় ফিরে নতুন শুরু

শেষ পর্যন্ত তিনি এশিয়ায় ফিরে গিয়ে নতুনভাবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। জাপানের ক্লাবে যোগ দিয়ে আবার খেলায় ফেরেন। যদিও পরে ইউরোপে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন, তবে বিশ্বকাপের পর যে উচ্চতায় ওঠার সম্ভাবনা ছিল, সেখানে আর পৌঁছাতে পারেননি।

হুমকি ও অন্ধকার দিক

বছর কয়েক পর আন জং-হোয়ান জানান, সেই ম্যাচের পর তিনি প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছিলেন। ইতালির অপরাধচক্রের পক্ষ থেকে এমন হুমকির কথা তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘ সময় পরও তিনি ইতালিতে যেতে ভয় পান বলে জানান।

গোল্ডেন গোলের শেষ অধ্যায়

আন জং-হোয়ানের সেই গোল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। পরে সমালোচনার মুখে ২০০৪ সালে ‘গোল্ডেন গোল’ নিয়ম বাতিল করা হয়। এর মাধ্যমে ফুটবলের একটি যুগের সমাপ্তি ঘটে।

এক গোলেই বদলে যাওয়া জীবন

দক্ষিণ কোরিয়ার সেই জয় বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়লেও আন জং-হোয়ানের জন্য তা ছিল দ্বিমুখী বাস্তবতা। যে গোল তাকে জাতীয় নায়ক বানিয়েছিল, সেটিই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফুটবলের অনিশ্চিত ও কঠোর বাস্তবতার এক নির্মম উদাহরণ হয়ে রয়ে গেছে এই ঘটনা।

গোল্ডেন গোলের নায়ক থেকে বিতর্কের শিকার—এই গল্প শুধু এক ম্যাচের নয়, বরং ফুটবলের আলো-অন্ধকারের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।