০৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল? আইপিএলে ড্রেসিংরুমে ই-সিগারেট বিতর্কে রিয়ান পরাগ, শাস্তির মুখে রাজস্থান অধিনায়ক

দুই মাসের বিরতি শেষে তেঁতুলিয়ায় ফিরছে জেলেদের স্বপ্ন, ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের আশায় প্রস্তুতি চূড়ান্ত

দীর্ঘ দুই মাসের অপেক্ষা শেষে পটুয়াখালীর তেঁতুলিয়া নদীতে আবারও মাছ ধরার অনুমতি মিলছে। বুধবার মধ্যরাত পেরোলেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে, আর সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় দিন গুনছেন জেলার প্রায় ২০ হাজার জেলে। ইতোমধ্যে নৌকা মেরামত, জাল গোছানোসহ সব প্রস্তুতি শেষ করে নদীর তীরে প্রস্তুত তারা।

অভয়াশ্রমে দুই মাসের বিরতি

ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো এবং জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর নির্দিষ্ট ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করায় নদীতে মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘাটজুড়ে উৎসবের আমেজ

অভাব-অনটনে দিন কাটছে জেলেদের

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে পটুয়াখালীর বিভিন্ন নদীঘাটে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলেরা কেউ ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন, কেউ ট্রলার রং করছেন, আবার কেউ ইঞ্জিন পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর কাজে ফেরার আনন্দ তাদের চোখে-মুখে স্পষ্ট।

আশা আর বাস্তবতার টানাপোড়েন

স্থানীয় জেলে রহিম গাজীর ভাষায়, দুই মাস নদীতে যেতে না পেরে অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন নদীতে নামতে পারলেই ভালো মাছ পেয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তারা।

তবে এই সময়টায় আর্থিক সংকটের কথাও তুলে ধরেছেন অনেক জেলে। তাদের অভিযোগ, খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল পেলেও নগদ অর্থের অভাবে দৈনন্দিন খরচ ও কিস্তি পরিশোধে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ভবিষ্যতে চালের পাশাপাশি কিছু নগদ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নজরদারির সুফল পেতে চায় সবাই

অভাব-অনটনে দিন কাটছে জেলেদের

গত দুই মাস নদীতে কঠোর নজরদারি চালানো হয়েছে। নিয়মিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে নদীর মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরা এর সুফল পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইলিশে ভরসা জেলেদের

পটুয়াখালীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। এর একটি বড় অংশ তেঁতুলিয়া নদী অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের জন্য ভিজিএফের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এখন সঠিক নিয়ম মেনে মাছ ধরতে পারলে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জেলেদেরও বিশ্বাস, এই মৌসুমে ভালো মাছ পেলে গত দুই মাসের ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

তেঁতুলিয়ার জলে তাই আবারও জেগে উঠছে আশার আলো—ইলিশে ভরা জাল নিয়ে ঘরে ফেরার স্বপ্নে বুক বেঁধে নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন হাজারো জেলে।

 

 

সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা

দুই মাসের বিরতি শেষে তেঁতুলিয়ায় ফিরছে জেলেদের স্বপ্ন, ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের আশায় প্রস্তুতি চূড়ান্ত

০২:১২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ দুই মাসের অপেক্ষা শেষে পটুয়াখালীর তেঁতুলিয়া নদীতে আবারও মাছ ধরার অনুমতি মিলছে। বুধবার মধ্যরাত পেরোলেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে, আর সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় দিন গুনছেন জেলার প্রায় ২০ হাজার জেলে। ইতোমধ্যে নৌকা মেরামত, জাল গোছানোসহ সব প্রস্তুতি শেষ করে নদীর তীরে প্রস্তুত তারা।

অভয়াশ্রমে দুই মাসের বিরতি

ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো এবং জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর নির্দিষ্ট ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করায় নদীতে মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘাটজুড়ে উৎসবের আমেজ

অভাব-অনটনে দিন কাটছে জেলেদের

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে পটুয়াখালীর বিভিন্ন নদীঘাটে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলেরা কেউ ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন, কেউ ট্রলার রং করছেন, আবার কেউ ইঞ্জিন পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর কাজে ফেরার আনন্দ তাদের চোখে-মুখে স্পষ্ট।

আশা আর বাস্তবতার টানাপোড়েন

স্থানীয় জেলে রহিম গাজীর ভাষায়, দুই মাস নদীতে যেতে না পেরে অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন নদীতে নামতে পারলেই ভালো মাছ পেয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তারা।

তবে এই সময়টায় আর্থিক সংকটের কথাও তুলে ধরেছেন অনেক জেলে। তাদের অভিযোগ, খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল পেলেও নগদ অর্থের অভাবে দৈনন্দিন খরচ ও কিস্তি পরিশোধে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ভবিষ্যতে চালের পাশাপাশি কিছু নগদ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নজরদারির সুফল পেতে চায় সবাই

অভাব-অনটনে দিন কাটছে জেলেদের

গত দুই মাস নদীতে কঠোর নজরদারি চালানো হয়েছে। নিয়মিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে নদীর মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরা এর সুফল পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইলিশে ভরসা জেলেদের

পটুয়াখালীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। এর একটি বড় অংশ তেঁতুলিয়া নদী অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের জন্য ভিজিএফের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এখন সঠিক নিয়ম মেনে মাছ ধরতে পারলে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জেলেদেরও বিশ্বাস, এই মৌসুমে ভালো মাছ পেলে গত দুই মাসের ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

তেঁতুলিয়ার জলে তাই আবারও জেগে উঠছে আশার আলো—ইলিশে ভরা জাল নিয়ে ঘরে ফেরার স্বপ্নে বুক বেঁধে নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন হাজারো জেলে।