দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে অবশেষে বড় ধাক্কা খেলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জিমি হেনড্রিক্সের ব্যান্ডের দুই সাবেক সদস্যের উত্তরাধিকারীরা। যুক্তরাজ্যের একটি উচ্চ আদালত তাদের করা রয়্যালটি দাবিকে খারিজ করে দিয়েছে, ফলে হেনড্রিক্সের সংগীত থেকে আয়ের দাবি আর এগোলো না।
রেকর্ডিং চুক্তির ব্যাখ্যাই মূল কারণ
আদালতের বিচারক রায়ে বলেন, ১৯৬৬ সালের অক্টোবরে করা একটি রেকর্ডিং চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে ভবিষ্যতের সমস্ত সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের কপিরাইট প্রযোজকদের হাতে থাকবে। সেই চুক্তিতে ব্যান্ডের সদস্যদের স্বাক্ষর থাকায় পরবর্তীতে তারা বা তাদের উত্তরাধিকারীরা এই রেকর্ডিং থেকে আলাদা করে রয়্যালটি দাবি করতে পারবেন না।
বিচারকের মতে, চুক্তির ভাষা ছিল একেবারে পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন, যেখানে সময় বা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কোনো উল্লেখ ছিল না। ফলে এই চুক্তির ভিত্তিতে প্রযোজকদেরই কপিরাইট মালিক হিসেবে ধরা হয়েছে।

হেনড্রিক্স এস্টেটের অবস্থান আরও শক্ত
রায়ে আরও বলা হয়, হেনড্রিক্সের মৃত্যুর পর একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে তার এস্টেটই শেষ পর্যন্ত ওই কপিরাইটের অধিকারী হয়ে ওঠে। এই সিদ্ধান্তের ফলে হেনড্রিক্সের পরিবার তাদের সংগীত ঐতিহ্য রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ করার আইনি ভিত্তি আরও মজবুত করল।
হেনড্রিক্স পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই রায় তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সংগীতের উত্তরাধিকার সঠিকভাবে সংরক্ষণে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার পথ নিশ্চিত করবে।
রয়্যালটি দাবির পেছনের প্রেক্ষাপট
বিরোধের সূত্রপাত হয় কয়েক বছর আগে, যখন সাবেক বেস গিটারিস্ট ও ড্রামারের উত্তরাধিকারীরা দাবি করেন যে হেনড্রিক্সের গান থেকে বিপুল পরিমাণ স্ট্রিমিং আয়ের একটি অংশ তাদের পাওয়ার কথা। তাদের মতে, এই আয়ের পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

এই দাবির প্রেক্ষিতে সংগীত কোম্পানি ও হেনড্রিক্স এস্টেট আইনি ব্যবস্থা নেয় এবং আদালতের মাধ্যমে মালিকানার বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত আদালত প্রযোজকদের পক্ষে রায় দেয়, যা এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যান্ডের ইতিহাস ও উত্তরাধিকার
১৯৬৬ সালে গঠিত হেনড্রিক্সের বিখ্যাত ব্যান্ড দ্রুত বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই ব্যান্ড ভেঙে যায়। এরপরও হেনড্রিক্সের সংগীত বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। তার মৃত্যুর বহু বছর পরও তার গান আজও কোটি কোটি মানুষের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
এই রায় শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, বরং সংগীত শিল্পে কপিরাইট ও চুক্তির গুরুত্বকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















