রংপুরের মিঠাপুকুরে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে সাময়িকভাবে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
অভিযোগে জানা গেছে, অভিযুক্ত এনামুল হক স্থানীয় ভাংগনি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। ভুক্তভোগী নারী, যিনি একজন ভ্যানচালকের স্ত্রী, পূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছিলেন। সেই সময়েই তার সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় হয়।
নির্বাচনের পর ওই নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দেন এনামুল। এই প্রতিশ্রুতির সূত্র ধরেই ঘটনার সূচনা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে যাওয়া
গত শনিবার দুপুরের দিকে অভিযুক্ত ওই নারীর বাড়িতে যান। পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রথমে অশালীন কথাবার্তা বলেন এবং পরে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
তিনি জানান, নিজেকে রক্ষা করতে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে অভিযুক্ত নিজেকে প্রভাবশালী দাবি করে বলেন, তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারবে না।
ভুক্তভোগীর দাবি
ঘটনার বিচার দাবি করে ভুক্তভোগী জানান, তারা একটি দরিদ্র পরিবার এবং তার স্বামী ভ্যানচালক। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত তার বাড়িতে আসেন এবং এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। তিনি দ্রুত বিচার চান।

অভিযুক্তের বক্তব্য
অন্যদিকে অভিযুক্ত এনামুল হক সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত মিথ্যা অভিযোগ এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। তবে কী কারণে তাকে ফাঁসানো হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
দলীয় ও আইনি পদক্ষেপ
উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে সাময়িকভাবে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।
এদিকে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















