ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ছাত্র সংগঠনের এক কর্মীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
টিএসসি এলাকায় আটক
আটক হওয়া শিক্ষার্থীর নাম মো. সাকিব। তিনি দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক ছাত্র। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে টিএসসি এলাকায় তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হয় শিক্ষার্থীদের। পরে তারা তাকে আটক করেন এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান।

আগের অভিযোগ ও বহিষ্কার
জানা গেছে, সাকিবের বিরুদ্ধে আগে থেকেই সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি ১৫ জুলাইয়ের সহিংস ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বহিষ্কার করেছিল।
শিক্ষার্থীদের দাবি
শিক্ষার্থীরা জানান, অতীতের ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে তারা সাকিবকে চিনতে পারেন। তাদের দাবি, তিনি শুধু হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উসকানিমূলক বক্তব্য দিতেন। তাকে আটক করার পর প্রক্টরিয়াল টিমকে খবর দেওয়া হয় এবং পরে একটি গাড়িতে করে তাকে শাহবাগ থানায় পাঠানো হয়।
পুলিশের অবস্থান

শাহবাগ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাকিবের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। যদি তার নাম কোনো মামলায় পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানিয়েছেন, আটক হওয়া ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বের দুটি মামলার তথ্য রয়েছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ক্যাম্পাসে নতুন করে উদ্বেগ
এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। তারা মনে করছেন, এমন পদক্ষেপই ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
ঢাবিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী আটক, টিএসসি থেকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সতর্কতা ও উদ্বেগ দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















