নতুন অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘এপেক্স’-এ দেখা গেল ভিন্ন এক চার্লিজ থেরনকে। এখানে তিনি শুধু অভিনয়ই করেননি, বরং চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি মিশিয়ে দিয়েছেন। এক শোকাহত নারীর বেঁচে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে তৈরি এই সিনেমা দর্শকদের নিয়ে যায় টানটান উত্তেজনার ভেতরে।
বন্য প্রকৃতিতে একা লড়াই
গল্পের কেন্দ্রে থাকা সাশা চরিত্রে অভিনয় করেছেন চার্লিজ থেরন। স্বামী হারানোর শোক কাটাতে তিনি পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ার নির্জন প্রাকৃতিক পরিবেশে। কিন্তু শান্ত সেই ভ্রমণ হঠাৎই রূপ নেয় দুঃস্বপ্নে। এক অস্থির ও বিপজ্জনক ব্যক্তির নজরে পড়ে যান তিনি, শুরু হয় বাঁচার লড়াই।
এই অবস্থায় সাশার প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। পাহাড়ি পাথুরে পথ, নদীর স্রোত আর গভীর বনের মধ্যে দিয়ে তাকে টিকে থাকতে হয় নিজের শক্তি আর সাহসের ওপর ভর করে।

বাস্তব ঝুঁকিতে থেরনের অভিনয়
এই সিনেমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ চার্লিজ থেরনের শারীরিক প্রস্তুতি ও বাস্তবধর্মী অভিনয়। তিনি নিজেই অনেক ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যে অংশ নিয়েছেন। খাড়া পাহাড় বেয়ে ওঠা, উত্তাল নদীতে সাঁতার কাটা কিংবা দ্রুত স্রোতে কায়াক চালানোর মতো দৃশ্যগুলো তাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
তার এই প্রচেষ্টা সিনেমাটিকে আরও বাস্তব ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। দর্শক সহজেই অনুভব করতে পারেন প্রতিটি বিপদের তীব্রতা।
গল্পে পরিচিত ধাঁচ, তবু আকর্ষণ
গল্পের গঠন খুব নতুন কিছু না হলেও উপস্থাপনায় রয়েছে গতি ও উত্তেজনা। খলনায়কের চরিত্রে টেরন এগারটনের উপস্থিতি সিনেমায় বাড়তি চাপ তৈরি করে। তার অপ্রত্যাশিত আচরণ গল্পকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে।
যদিও চরিত্রের গভীরতা বা গল্পের কিছু জায়গায় দুর্বলতা আছে, তবুও ধারাবাহিক অ্যাকশন আর টানটান পরিস্থিতি দর্শককে ধরে রাখে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।

কেন দেখবেন ‘এপেক্স’
এই সিনেমা মূলত তাদের জন্য, যারা বেঁচে থাকার গল্প আর শারীরিক চ্যালেঞ্জভিত্তিক অ্যাকশন উপভোগ করেন। প্রতিটি দৃশ্যেই রয়েছে নতুন বিপদ, নতুন উত্তেজনা। আর চার্লিজ থেরনের পারফরম্যান্স পুরো অভিজ্ঞতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
সব মিলিয়ে ‘এপেক্স’ এমন একটি সিনেমা, যা নিখুঁত না হলেও বিনোদনের জায়গায় সফল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















