ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে গভীর অস্থিরতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি।
প্যারিসে এক সম্মেলনে তিনি বলেন, তেল ও গ্যাসের বাজার বর্তমানে বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১২০ ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে, যা অনেক দেশের অর্থনীতির ওপর তীব্র চাপ তৈরি করছে।
সংকটের গভীরতা বাড়ছে
ফাতিহ বিরোলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিচ্ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে বিভিন্ন দেশে দ্রব্যমূল্যও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে, কারণ তাদের আমদানি নির্ভরতা বেশি।
অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা
উচ্চ জ্বালানি মূল্য সরাসরি শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। এতে করে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিও ব্যাহত হতে পারে।

আইইএ প্রধান স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশগুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে। তেলের দাম ১২০ ডলার অতিক্রম করায় অনেক দেশ বাজেট সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ফাতিহ বিরোলের এই সতর্কবার্তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে পড়বে, তা নিয়ে এখনই উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্বজুড়ে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দ্রুত কমার সম্ভাবনাও কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বে জ্বালানি সংকট, তেলের দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে চাপ বাড়ছে অর্থনীতিতে
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট গভীর হচ্ছে, তেলের দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















