মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ আটকে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জাপানের ওপর, যেখানে সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মজুত তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা
জাপানের তেলের বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, এবং এর বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
মজুত তেল ছাড়ার পদক্ষেপ

সরকার ইতিমধ্যে ধাপে ধাপে জাতীয় মজুত থেকে তেল ছাড়ছে। মার্চে এক দফা তেল ছাড়ার পর এপ্রিলের শেষে আরও প্রায় ২০ দিনের সমপরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সামনে আরও মজুত তেল ব্যবহার করা হতে পারে।
বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব
এই সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যে বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বিমান ভাড়া বেড়েছে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে জ্বালানি সারচার্জ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দামও বাড়তে শুরু করেছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
শিল্পখাতে নতুন উদ্বেগ
জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ‘নাফথা’ সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই উপাদানটি বিভিন্ন রাসায়নিক ও শিল্পপণ্যের উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এর ঘাটতি হলে চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্লাস্টিক পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে।

সরকারের বিকল্প পরিকল্পনা
সরকার জানিয়েছে, তারা মধ্য এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তবে এসব উৎস থেকে আমদানিকৃত তেলের দাম ও সরবরাহ কতটা স্থিতিশীল হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি
সরকার বলছে, চলতি বছরের জন্য প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এখনো জনগণকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়নি, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাপানের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মজুত তেল ব্যবহার ও বিকল্প উৎস খোঁজার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চললেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর ছাপ ফেলতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















