খাদ্যপণ্যে ভোক্তা কর শূন্য করার পরিকল্পনা নিয়ে জাপানে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সরকার যেখানে দুই বছরের জন্য খাদ্যে কর শূন্যে নামানোর লক্ষ্য নিয়েছে, সেখানে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এই উদ্যোগকে কঠিন করে তুলছে।
বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত বাধা
পরিকল্পনা অনুযায়ী কর শূন্যে নামাতে হলে সুপারমার্কেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ রেজিস্টার সিস্টেম পুরোপুরি নতুনভাবে তৈরি করতে হবে। এতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়সীমা দ্রুত বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১% করের প্রস্তাব
এই সমস্যার সমাধান হিসেবে কিছু নীতিনির্ধারক ১% কর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে নতুন করে পুরো সিস্টেম গড়ার প্রয়োজন হবে না, বরং তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। ফলে দ্রুত বাস্তব ফল পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
এই পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, বাইরে খাওয়ার ওপর কর বেশি থাকলে মানুষ ঘরে খাবার কেনার দিকে ঝুঁকবে। এতে তাদের ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে, ক্ষুদ্র কৃষক ও মৎস্যজীবীরা মনে করছেন, কর কমে গেলে তাদের আয় কমে যেতে পারে, কারণ তারা ভোক্তাদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করলেও নিজেরা তা পরিশোধ করেন না।
বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা
কিছু অর্থনৈতিক সংস্থা পুরো কর ছাড় পরিকল্পনাই বাতিল করে অন্য একটি ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে ভোক্তাদের সরাসরি কর ফেরত দেওয়া হবে। তবে এই ব্যবস্থা চালু করতেও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।
রাজস্ব ঘাটতির চ্যালেঞ্জ
খাদ্যে কর শূন্যে নামানো হলে বছরে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এই ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে, সেটিও সরকারের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সরকার এ বিষয়ে দ্রুত আলোচনা এগিয়ে নিয়ে গ্রীষ্মের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চায়। পরবর্তীতে সংসদের অধিবেশনে আইন সংশোধনের প্রস্তাব আনা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে নেওয়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে নানা জটিলতায় আটকে গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, দ্রুত সমাধান খুঁজতে সরকারকে বিভিন্ন বিকল্প পথ বিবেচনা করতে হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















