বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলোর একটি ভারতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে জাপানের বৃহত্তম ব্যাংক। দেশটির রিয়েল এস্টেট খাতে ঋণ দেওয়া শুরু করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ডেরিভেটিভস ব্যবসাও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে তারা।
রিয়েল এস্টেট খাতে নতুন উদ্যোগ
এই উদ্যোগের আওতায় চলতি অর্থবছর থেকেই একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করবে। ব্যাংকটি মূলত দেশীয় ও বিদেশি ডেভেলপারদের প্রকল্পে অর্থায়ন করবে, যেখানে ভারতীয় মুদ্রায় ঋণ দেওয়াই প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়নের সুযোগও রাখা হচ্ছে।
বিনিয়োগে বড় অঙ্ক
সম্প্রতি একটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শেয়ার কেনার মাধ্যমে ব্যাংকটির মোট বিনিয়োগ ভারতে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে তারা ভারতের আর্থিক ও অবকাঠামোগত খাতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরি করতে চাইছে।
কেন আকর্ষণীয় ভারতীয় বাজার
ভারতে দ্রুত নগরায়নের ফলে অফিস স্পেস ও আবাসন খাতে চাহিদা বাড়ছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের কারণে অফিসের চাহিদা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিলাসবহুল আবাসন খাতেও প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যদিও সাধারণ আবাসনের বিক্রি তুলনামূলক ধীর।
ঝুঁকি থাকলেও আগ্রহ
রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগের ঝুঁকি থাকলেও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমছে না। অতীতে ডেভেলপারদের ঋণনির্ভরতা, জমি অধিগ্রহণ সমস্যা এবং প্রকল্প বিলম্বের মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাজারের সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে।
নতুন আর্থিক কেন্দ্র ও ডেরিভেটিভস ব্যবসা

ভারতের কম করযুক্ত আর্থিক কেন্দ্র গিফট সিটিতে বৈদেশিক মুদ্রা ডেরিভেটিভস ব্যবসা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংকটি। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে সহায়তা দেওয়া হবে।
কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা
ভারতে গত কয়েক বছরে ব্যাংকটির কর্মীসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার কর্মী রয়েছে, এবং চলতি বছরে আরও প্রায় ১ হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশটিতে তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।
সব মিলিয়ে, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নগরায়নের সুযোগ কাজে লাগাতে জাপানের এই ব্যাংক বড় বিনিয়োগে এগোচ্ছে। এটি শুধু তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণই নয়, বরং ভারতের রিয়েল এস্টেট ও আর্থিক খাতেও নতুন গতি আনতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















