০৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট, তেলের দাম ১২০ ডলারের ওপরে: আইইএ প্রধানের সতর্কতা টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম-খুলনায় ভোগান্তি, দ্বিতীয় দিনেও দুর্ভোগ বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের নতুন দিগন্ত, সহযোগিতায় বাড়ছে জোর জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে নৃশংস পরিণতি, ফুলপুরে দাদিকে কুপিয়ে হত্যা নাতির চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে ফিরছেন জেলেরা, ইলিশের আশায় নতুন শুরু হরমুজ প্রণালী বন্ধে জাপানে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা, মজুত তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত খাদ্যে শূন্য কর নিয়ে জাপানে জটিলতা, বিকল্প হিসেবে উঠছে ১% প্রস্তাব ভারতের রিয়েল এস্টেটে বড় বিনিয়োগে নামছে জাপানের বৃহত্তম ব্যাংক ড্রোন কূটনীতিতে নতুন শক্তি ইউক্রেন, যুদ্ধ প্রযুক্তি হয়ে উঠছে বিশ্বজোটের হাতিয়ার তেহরানে হিজাব শিথিলতার আভাস, বাস্তবে নারীর স্বাধীনতায় বড় পরিবর্তন নেই

ড্রোন কূটনীতিতে নতুন শক্তি ইউক্রেন, যুদ্ধ প্রযুক্তি হয়ে উঠছে বিশ্বজোটের হাতিয়ার

যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেন এখন কূটনীতির নতুন পথ খুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একাধিক প্রতিরক্ষা ও ড্রোন চুক্তি করেছেন, যা ইউক্রেনের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

ড্রোন প্রযুক্তি থেকে কূটনৈতিক সাফল্য

চলতি মাসেই জার্মানি, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ইউক্রেন প্রতিরক্ষা ও ড্রোন সহযোগিতা চুক্তি করেছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। তুরস্ক ও সিরিয়ার সঙ্গেও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হয়েছে, আর আজারবাইজানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে নতুন সমঝোতা হয়েছে।

এই চুক্তিগুলো দেখাচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত দক্ষতাকে ইউক্রেন কেবল সামরিক শক্তি হিসেবেই নয়, কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব

While US support weakens, Ukraine's homegrown defence tech is going from  strength to strength | Euronews

রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকেই ইউক্রেন বিশ্বজুড়ে নতুন জোট গড়ার চেষ্টা করছে। পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি তথাকথিত বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোও এই কৌশলের অংশ। লক্ষ্য একটাই—রাশিয়ার কূটনৈতিক প্রভাব কমিয়ে আনা।

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতা ইউক্রেনকে নতুন করে গুরুত্ব এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

কম খরচে কার্যকর প্রযুক্তি

ইউক্রেন ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে কম খরচে কার্যকর ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। শত্রুপক্ষের ড্রোন ঠেকাতে তারা সমন্বিতভাবে ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, মেশিনগান ও জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

এছাড়া দীর্ঘ পাল্লার আক্রমণ ড্রোন তৈরি করে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলাও চালিয়েছে ইউক্রেন। এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই এখন দেশটির বড় শক্তি।

রপ্তানি ও উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ

Tech innovation helps Ukraine even the odds against Russia's military might  - Atlantic Council

ড্রোন প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকলেও ইউক্রেন এখনও রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতার মুখে। সরকারের অনুমোদন কম থাকায় অনেক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না।

বিদেশে উৎপাদন শুরু হলেও তা মূলত নিজেদের সামরিক প্রয়োজন মেটানোর জন্যই ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পুরোপুরি প্রবেশ করতে পারছে না ইউক্রেন।

নতুন প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তির চাপ

ইউক্রেনের সাফল্য মূলত কার্যকর পদ্ধতি ও কৌশল উন্নয়নে। কিন্তু অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দ্রুতগতির নতুন ধরনের ড্রোন আসায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

ইউরোপের বিভিন্ন কোম্পানি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে ইউক্রেনের বর্তমান সুবিধাকে কমিয়ে দিতে পারে।

অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

Drone superpower: Ukrainian wartime innovation offers lessons for NATO -  Atlantic Council

প্রতিরক্ষা খাতে রপ্তানি বাড়াতে পারলে ইউক্রেনের অর্থনীতিতে বড় ধরনের সুবিধা আসতে পারে। বর্তমানে দেশটির এই খাতে লাখ লাখ মানুষ কাজ করছেন। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে উঠলে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

জেলেনস্কি আশা করছেন, ড্রোন কূটনীতি জ্বালানি চুক্তি ও কৃষিপণ্যের নতুন বাজার তৈরি করতেও সাহায্য করবে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করাও তার বড় লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে ইউক্রেনের মধ্যে। ফলে দেশটি এখন নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন মিত্র খুঁজে নিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ড্রোন প্রযুক্তি এখন শুধু যুদ্ধের অস্ত্র নয়—এটি ইউক্রেনের জন্য কূটনীতি, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট, তেলের দাম ১২০ ডলারের ওপরে: আইইএ প্রধানের সতর্কতা

ড্রোন কূটনীতিতে নতুন শক্তি ইউক্রেন, যুদ্ধ প্রযুক্তি হয়ে উঠছে বিশ্বজোটের হাতিয়ার

০৩:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেন এখন কূটনীতির নতুন পথ খুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একাধিক প্রতিরক্ষা ও ড্রোন চুক্তি করেছেন, যা ইউক্রেনের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

ড্রোন প্রযুক্তি থেকে কূটনৈতিক সাফল্য

চলতি মাসেই জার্মানি, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ইউক্রেন প্রতিরক্ষা ও ড্রোন সহযোগিতা চুক্তি করেছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। তুরস্ক ও সিরিয়ার সঙ্গেও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হয়েছে, আর আজারবাইজানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে নতুন সমঝোতা হয়েছে।

এই চুক্তিগুলো দেখাচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত দক্ষতাকে ইউক্রেন কেবল সামরিক শক্তি হিসেবেই নয়, কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব

While US support weakens, Ukraine's homegrown defence tech is going from  strength to strength | Euronews

রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকেই ইউক্রেন বিশ্বজুড়ে নতুন জোট গড়ার চেষ্টা করছে। পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি তথাকথিত বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোও এই কৌশলের অংশ। লক্ষ্য একটাই—রাশিয়ার কূটনৈতিক প্রভাব কমিয়ে আনা।

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতা ইউক্রেনকে নতুন করে গুরুত্ব এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

কম খরচে কার্যকর প্রযুক্তি

ইউক্রেন ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে কম খরচে কার্যকর ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। শত্রুপক্ষের ড্রোন ঠেকাতে তারা সমন্বিতভাবে ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, মেশিনগান ও জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

এছাড়া দীর্ঘ পাল্লার আক্রমণ ড্রোন তৈরি করে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলাও চালিয়েছে ইউক্রেন। এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই এখন দেশটির বড় শক্তি।

রপ্তানি ও উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ

Tech innovation helps Ukraine even the odds against Russia's military might  - Atlantic Council

ড্রোন প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকলেও ইউক্রেন এখনও রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতার মুখে। সরকারের অনুমোদন কম থাকায় অনেক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না।

বিদেশে উৎপাদন শুরু হলেও তা মূলত নিজেদের সামরিক প্রয়োজন মেটানোর জন্যই ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পুরোপুরি প্রবেশ করতে পারছে না ইউক্রেন।

নতুন প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তির চাপ

ইউক্রেনের সাফল্য মূলত কার্যকর পদ্ধতি ও কৌশল উন্নয়নে। কিন্তু অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দ্রুতগতির নতুন ধরনের ড্রোন আসায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

ইউরোপের বিভিন্ন কোম্পানি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে ইউক্রেনের বর্তমান সুবিধাকে কমিয়ে দিতে পারে।

অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

Drone superpower: Ukrainian wartime innovation offers lessons for NATO -  Atlantic Council

প্রতিরক্ষা খাতে রপ্তানি বাড়াতে পারলে ইউক্রেনের অর্থনীতিতে বড় ধরনের সুবিধা আসতে পারে। বর্তমানে দেশটির এই খাতে লাখ লাখ মানুষ কাজ করছেন। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে উঠলে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

জেলেনস্কি আশা করছেন, ড্রোন কূটনীতি জ্বালানি চুক্তি ও কৃষিপণ্যের নতুন বাজার তৈরি করতেও সাহায্য করবে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করাও তার বড় লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে ইউক্রেনের মধ্যে। ফলে দেশটি এখন নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন মিত্র খুঁজে নিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ড্রোন প্রযুক্তি এখন শুধু যুদ্ধের অস্ত্র নয়—এটি ইউক্রেনের জন্য কূটনীতি, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।