০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
টাইটানিকের শতাধিক নিদর্শন নিলাম বন্ধ করলেন মার্কিন বিচারক আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ মহেশখালীর সাগরে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিশোর চীনের জে-১০ সিই কিনছে বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৯০৭; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে নানা আয়োজন ঢাকা-যশোর রুটে আবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন দুই ট্রিপ মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন, মূলধন শক্তিশালী হবে প্রিন্স হ্যারি–মেগানের নতুন ব্রিটেনযাত্রা, পেছনে পড়ে থাকবে আর্চির প্রিয় ‘মুরগির বাড়ি’ বিভক্তির ক্ষত ও হারানো ভালোবাসার গল্পে ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’

পাকিস্তানেই সবচেয়ে বেশি হেপাটাইটিস সি রোগী, বিশ্বজুড়ে নতুন সতর্কবার্তা

বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে হেপাটাইটিস সি সংক্রমণ। সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাকিস্তান এখন বিশ্বে হেপাটাইটিস সি রোগীর সংখ্যায় শীর্ষে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস সি–জনিত মৃত্যুর দিক থেকেও দেশটি শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিসের চিত্র
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে ২০২৪ সালে প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি বা সি–তে আক্রান্ত ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ২৪ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি এবং ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস সি–তে ভুগছেন।
একই বছরে এই দুই রোগে মারা গেছেন প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ, যার বেশিরভাগই লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের কারণে। মোট ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর ৯৫ শতাংশের বেশি এই দুই ধরনের সংক্রমণের জন্য দায়ী।

পাকিস্তানের উদ্বেগজনক অবস্থান
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে হেপাটাইটিস সি রোগীর মোট সংখ্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই পাকিস্তানে। এর পরেই রয়েছে ভারত ও চীন। এই তিন দেশ মিলেই বৈশ্বিক হেপাটাইটিস সি রোগীর প্রায় ৩৯ শতাংশ বহন করছে।
এছাড়া ২০২৪ সালে বিশ্বে হেপাটাইটিস সি–জনিত মোট মৃত্যুর ৫৮ শতাংশ ঘটেছে মাত্র ১০টি দেশে, যার মধ্যে পাকিস্তানও রয়েছে।

সংক্রমণের পেছনের কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি, অপরিষ্কার বা পুনর্ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ব্যবহার, ইনজেকশন–নির্ভর চিকিৎসা সংস্কৃতি এবং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ঘাটতি এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
পাকিস্তানে এখনও নিষিদ্ধ পুনর্ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জ ও ভুয়া নিরাপদ সিরিঞ্জ বাজারে পাওয়া যায়। এসব সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহারের ফলে হেপাটাইটিস বি, সি এমনকি এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
অন্যদিকে, অযোগ্য চিকিৎসক ও অনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও সংক্রমণ বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বব্যাপী নতুন সংক্রমণ
২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ১৮ লাখ নতুন হেপাটাইটিস সংক্রমণ হয়েছে, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪,৯০০ নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইনজেকশন–নির্ভর মাদক ব্যবহারকারীদের মধ্যে হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য হলেও, অনিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থাও বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধে ঘাটতি
যদিও হেপাটাইটিস সি–র চিকিৎসা এখন তুলনামূলক সহজ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব, তবুও ২০১৫ সালের পর থেকে আক্রান্তদের মাত্র ২০ শতাংশ চিকিৎসা পেয়েছেন।
হেপাটাইটিস বি–র ক্ষেত্রেও অবস্থা আরও খারাপ, যেখানে আক্রান্তদের ৫ শতাংশেরও কম চিকিৎসার আওতায় এসেছে।
তবে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি–র বিরুদ্ধে ৯৫ শতাংশের বেশি সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।

কী করা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত গণপরীক্ষা, সাশ্রয়ী চিকিৎসা, ভুয়া ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিরাপদ রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অযোগ্য চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
তাদের মতে, অনিরাপদ ইনজেকশন বন্ধ না করা গেলে পুরোনো রোগীর পাশাপাশি নতুন রোগীর সংখ্যাও বাড়তেই থাকবে।

বর্তমান অগ্রগতি পর্যাপ্ত নয়
বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস নির্মূলের জন্য ২০৩০ সালের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও, বর্তমান অগ্রগতি সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয় বলে সতর্ক করা হয়েছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমাতে আরও জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন।

হেপাটাইটিস সি বৈশ্বিক সংকট হিসেবে নতুন করে সামনে আসায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টাইটানিকের শতাধিক নিদর্শন নিলাম বন্ধ করলেন মার্কিন বিচারক

পাকিস্তানেই সবচেয়ে বেশি হেপাটাইটিস সি রোগী, বিশ্বজুড়ে নতুন সতর্কবার্তা

০৭:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে হেপাটাইটিস সি সংক্রমণ। সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাকিস্তান এখন বিশ্বে হেপাটাইটিস সি রোগীর সংখ্যায় শীর্ষে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস সি–জনিত মৃত্যুর দিক থেকেও দেশটি শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিসের চিত্র
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে ২০২৪ সালে প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি বা সি–তে আক্রান্ত ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ২৪ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি এবং ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস সি–তে ভুগছেন।
একই বছরে এই দুই রোগে মারা গেছেন প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ, যার বেশিরভাগই লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের কারণে। মোট ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর ৯৫ শতাংশের বেশি এই দুই ধরনের সংক্রমণের জন্য দায়ী।

পাকিস্তানের উদ্বেগজনক অবস্থান
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে হেপাটাইটিস সি রোগীর মোট সংখ্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই পাকিস্তানে। এর পরেই রয়েছে ভারত ও চীন। এই তিন দেশ মিলেই বৈশ্বিক হেপাটাইটিস সি রোগীর প্রায় ৩৯ শতাংশ বহন করছে।
এছাড়া ২০২৪ সালে বিশ্বে হেপাটাইটিস সি–জনিত মোট মৃত্যুর ৫৮ শতাংশ ঘটেছে মাত্র ১০টি দেশে, যার মধ্যে পাকিস্তানও রয়েছে।

সংক্রমণের পেছনের কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি, অপরিষ্কার বা পুনর্ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ব্যবহার, ইনজেকশন–নির্ভর চিকিৎসা সংস্কৃতি এবং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ঘাটতি এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
পাকিস্তানে এখনও নিষিদ্ধ পুনর্ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জ ও ভুয়া নিরাপদ সিরিঞ্জ বাজারে পাওয়া যায়। এসব সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহারের ফলে হেপাটাইটিস বি, সি এমনকি এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
অন্যদিকে, অযোগ্য চিকিৎসক ও অনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও সংক্রমণ বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বব্যাপী নতুন সংক্রমণ
২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ১৮ লাখ নতুন হেপাটাইটিস সংক্রমণ হয়েছে, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪,৯০০ নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইনজেকশন–নির্ভর মাদক ব্যবহারকারীদের মধ্যে হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য হলেও, অনিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থাও বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধে ঘাটতি
যদিও হেপাটাইটিস সি–র চিকিৎসা এখন তুলনামূলক সহজ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব, তবুও ২০১৫ সালের পর থেকে আক্রান্তদের মাত্র ২০ শতাংশ চিকিৎসা পেয়েছেন।
হেপাটাইটিস বি–র ক্ষেত্রেও অবস্থা আরও খারাপ, যেখানে আক্রান্তদের ৫ শতাংশেরও কম চিকিৎসার আওতায় এসেছে।
তবে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি–র বিরুদ্ধে ৯৫ শতাংশের বেশি সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।

কী করা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত গণপরীক্ষা, সাশ্রয়ী চিকিৎসা, ভুয়া ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিরাপদ রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অযোগ্য চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
তাদের মতে, অনিরাপদ ইনজেকশন বন্ধ না করা গেলে পুরোনো রোগীর পাশাপাশি নতুন রোগীর সংখ্যাও বাড়তেই থাকবে।

বর্তমান অগ্রগতি পর্যাপ্ত নয়
বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস নির্মূলের জন্য ২০৩০ সালের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও, বর্তমান অগ্রগতি সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয় বলে সতর্ক করা হয়েছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমাতে আরও জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন।

হেপাটাইটিস সি বৈশ্বিক সংকট হিসেবে নতুন করে সামনে আসায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।