০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
অর্থমন্ত্রী সতর্কবার্তা: সামনে দুই বছর কঠিন—অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কষ্টের সিদ্ধান্ত জরুরি মঞ্চে ঝড় তোলেন, তবু বুকের ভেতর কাঁপন—জুডি লাভের অজানা লড়াই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থেকে রহস্যকাহিনি লেখক: নতুন উপন্যাসে চমক দিলেন ফিলিপা পেরি সকালে কমে, বিকেলে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম নাটক থেকেই শুরু, এখন ওয়েবটুন-উপন্যাসে বিস্তার—বিনোদন জগতে নতুন ধারা জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ বরদাশত হবে না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি বিসিবি নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু, ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা অন্ধকার থেকে আলো—ব্যক্তিগত সংগ্রামকে হাসিতে বদলে নতুন মঞ্চে অ্যাঞ্জেলা ড্রাভিড ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কৌশল গড়ছে উত্তর কোরিয়া, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনের প্রযুক্তি কৌশলই অনুসরণ করছে

তেল ও গ্যাস সংকট ২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে

হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট আগামী কয়েক মাস নয়, বরং ২০২৭ সাল পর্যন্তও স্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শেল প্রধান নির্বাহী ওয়ায়েল সাওয়ান। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ব জ্বালানি বাজার এখন গভীর চাপের মধ্যে রয়েছে এবং সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য দীর্ঘ সময় ধরে টানাপোড়েনে থাকবে।

সংকটের গভীরতা বাড়ছে
ওয়ায়েল সাওয়ানের মতে, গত কয়েক মাসে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদনই হয়নি। এই ঘাটতি মূলত মজুত থেকে সরবরাহ দিয়ে পূরণ করা হয়েছে। কিন্তু এখন সেই মজুত দ্রুত কমে আসছে। ফলে কিছু অঞ্চলে চাহিদা সীমিত করা, বিকল্প জ্বালানিতে ঝোঁক বাড়ানো—এই ধরনের পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংকটটি সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বৈশ্বিক ধাক্কা
এই জ্বালানি সংকটের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হয়। এর ফলে পারস্য উপসাগর হয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইরাক, কুয়েত ও কাতারের মতো উৎপাদনকারী দেশগুলো বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমিয়েছে বা বন্ধ করেছে। এতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং দামও বাড়তে শুরু করেছে।

দামের ঊর্ধ্বগতি ও বাজারের অস্থিরতা
সংকটের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১১ ডলারের বেশি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এতে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলএনজি বাজারেও চাপ
শুধু তেল নয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস খাতেও একই ধরনের চাপ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শেল প্রধান। অর্থাৎ এই সংকট এককভাবে কোনো জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো জ্বালানি ব্যবস্থাকেই প্রভাবিত করছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শিল্পখাত পর্যন্ত বিস্তৃত প্রভাব পড়তে পারে।

বিকল্প উৎসে নজর ও বিনিয়োগ
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শেল সম্প্রতি কানাডার একটি শেল কোম্পানি অধিগ্রহণের চুক্তি করেছে, যার মূল্য প্রায় ১৩.৬ বিলিয়ন ডলার। এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে এবং এশিয়ায় গ্যাস সরবরাহ শক্তিশালী করবে। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক নয়; গত দুই বছর ধরে মূল্যায়নের পরই এটি চূড়ান্ত হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি চাপের পূর্বাভাস
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য আগামী কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত টানটান অবস্থায় থাকতে পারে। ফলে এই সংকট শুধু তাৎক্ষণিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি, শিল্প ও ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব ফেলবে।

হরমুজ তেল গ্যাস সংকট

হরমুজ প্রণালীর অবরোধে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হয়ে ২০২৭ পর্যন্ত চলতে পারে

হরমুজ সংকটে তেল-গ্যাস বাজারে চাপ বাড়ছে, সামনে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা

অর্থমন্ত্রী সতর্কবার্তা: সামনে দুই বছর কঠিন—অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কষ্টের সিদ্ধান্ত জরুরি

তেল ও গ্যাস সংকট ২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে

০৭:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট আগামী কয়েক মাস নয়, বরং ২০২৭ সাল পর্যন্তও স্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শেল প্রধান নির্বাহী ওয়ায়েল সাওয়ান। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ব জ্বালানি বাজার এখন গভীর চাপের মধ্যে রয়েছে এবং সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য দীর্ঘ সময় ধরে টানাপোড়েনে থাকবে।

সংকটের গভীরতা বাড়ছে
ওয়ায়েল সাওয়ানের মতে, গত কয়েক মাসে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদনই হয়নি। এই ঘাটতি মূলত মজুত থেকে সরবরাহ দিয়ে পূরণ করা হয়েছে। কিন্তু এখন সেই মজুত দ্রুত কমে আসছে। ফলে কিছু অঞ্চলে চাহিদা সীমিত করা, বিকল্প জ্বালানিতে ঝোঁক বাড়ানো—এই ধরনের পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংকটটি সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বৈশ্বিক ধাক্কা
এই জ্বালানি সংকটের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হয়। এর ফলে পারস্য উপসাগর হয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইরাক, কুয়েত ও কাতারের মতো উৎপাদনকারী দেশগুলো বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমিয়েছে বা বন্ধ করেছে। এতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং দামও বাড়তে শুরু করেছে।

দামের ঊর্ধ্বগতি ও বাজারের অস্থিরতা
সংকটের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১১ ডলারের বেশি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এতে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলএনজি বাজারেও চাপ
শুধু তেল নয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস খাতেও একই ধরনের চাপ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শেল প্রধান। অর্থাৎ এই সংকট এককভাবে কোনো জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো জ্বালানি ব্যবস্থাকেই প্রভাবিত করছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শিল্পখাত পর্যন্ত বিস্তৃত প্রভাব পড়তে পারে।

বিকল্প উৎসে নজর ও বিনিয়োগ
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শেল সম্প্রতি কানাডার একটি শেল কোম্পানি অধিগ্রহণের চুক্তি করেছে, যার মূল্য প্রায় ১৩.৬ বিলিয়ন ডলার। এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে এবং এশিয়ায় গ্যাস সরবরাহ শক্তিশালী করবে। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক নয়; গত দুই বছর ধরে মূল্যায়নের পরই এটি চূড়ান্ত হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি চাপের পূর্বাভাস
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য আগামী কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত টানটান অবস্থায় থাকতে পারে। ফলে এই সংকট শুধু তাৎক্ষণিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি, শিল্প ও ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব ফেলবে।

হরমুজ তেল গ্যাস সংকট

হরমুজ প্রণালীর অবরোধে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হয়ে ২০২৭ পর্যন্ত চলতে পারে

হরমুজ সংকটে তেল-গ্যাস বাজারে চাপ বাড়ছে, সামনে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা