জম্মু ও কাশ্মীরের রেল যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে অত্যাধুনিক ভন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর মাধ্যমে। বুধবার জম্মু তাওয়ি রেলস্টেশন থেকে এই সম্প্রসারিত জম্মু–কাত্রা–শ্রীনগর ভন্দে ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সারাক্ষণ রিপোর্ট
নতুন এই পরিষেবার ফলে প্রায় ২৬৬ থেকে ২৬৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে জম্মু থেকে শ্রীনগর পৌঁছানো যাবে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই। আগে এই ট্রেনটি কেবল শ্রীমাতা বৈষ্ণোদেবী কাত্রা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত চলাচল করত, এখন তা সরাসরি জম্মু তাওয়ি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে, যা অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর ও রেলকেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগ আরও সহজ করেছে।
যাত্রীচাহিদা ও কোচ বৃদ্ধি
গত বছরের ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্বোধনের সময় ট্রেনটিতে ছিল মাত্র ৮টি কোচ। তবে শুরু থেকেই যাত্রীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় কোচ সংখ্যা বাড়িয়ে ২০টি করা হয়েছে। এতে আসনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে টিকিটের চাপ ও অপেক্ষমাণ তালিকার সমস্যা অনেকটাই কমবে, বিশেষ করে পর্যটন ও তীর্থ মৌসুমে।
নতুন সময়সূচি ও পরিষেবা
এই সম্প্রসারিত ভন্দে ভারত এক্সপ্রেস ২ মে থেকে নিয়মিত চলাচল শুরু করবে। করিডরে দুটি জোড়া ট্রেন পরিষেবা চালু থাকবে। প্রথম ট্রেনটি (নম্বর ২৬৪০১) ভোর ৬টা ২০ মিনিটে জম্মু তাওয়ি থেকে ছেড়ে কাত্রা, রেয়াসি ও বানিহাল হয়ে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে শ্রীনগর পৌঁছাবে। ফিরতি ট্রেন (২৬৪০২) দুপুর ২টায় শ্রীনগর থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে জম্মু পৌঁছাবে। এই পরিষেবা সপ্তাহে ছয় দিন চলবে, মঙ্গলবার বন্ধ থাকবে।
![]()
দ্বিতীয় পরিষেবার ট্রেন (২৬৪০৪) সকাল ৮টায় শ্রীনগর থেকে ছেড়ে বানিহাল ও কাত্রা হয়ে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে জম্মু পৌঁছাবে। ফিরতি ট্রেন (২৬৪০৩) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে জম্মু থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টায় শ্রীনগর পৌঁছাবে। এই পরিষেবা সপ্তাহে ছয় দিন চলবে, বুধবার বন্ধ থাকবে।
তীর্থযাত্রী ও পর্যটনে সুবিধা
এই সম্প্রসারণের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত তীর্থযাত্রীরা এখন সরাসরি জম্মু তাওয়ি থেকে ভন্দে ভারত এক্সপ্রেসে উঠে কাত্রার বৈষ্ণোদেবী বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে পারবেন এবং সেখান থেকে একই ট্রেনে শ্রীনগর পর্যন্ত যেতে পারবেন, কোনো ধরনের ট্রেন পরিবর্তন ছাড়াই।
বড় অবকাঠামো ও রেল প্রকল্প
এই পরিষেবার পেছনে রয়েছে উদ্যমপুর–শ্রীনগর–বারামুল্লা রেল সংযোগ প্রকল্প, যার ব্যয় প্রায় ৪৩ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে নির্মিত হয়েছে ৩৬টি সুড়ঙ্গ, যার মোট দৈর্ঘ্য ১১৯ কিলোমিটার এবং ৯৪৩টি সেতু। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অঞ্জি সেতু ও চেনাব সেতু, যেগুলো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।
এছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি পৃথক জম্মু রেল বিভাগ গঠন করা হয়েছে এবং জম্মু তাওয়ি, কাত্রা, উদ্যমপুর ও বুদগাম স্টেশনগুলোকে আধুনিকায়নের কাজ চলছে।
এই নতুন ভন্দে ভারত পরিষেবা শুধু সময় বাঁচাচ্ছে না, বরং জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করছে।
জম্মু-শ্রীনগর ভন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু, ৫ ঘণ্টায় যাত্রা সম্ভব
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















