ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হওয়ায় ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে ডেকে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো হয়।
কী ঘটেছে
সরকারি সূত্র জানায়, ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বাদেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক ইশরাত জাহান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য অপ্রত্যাশিত ও অসম্মানজনক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
মন্তব্য নিয়ে আপত্তি
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অসন্তোষ স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
কূটনৈতিক বার্তা
এই তলবের মাধ্যমে ঢাকা স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, পারস্পরিক সম্মান ও সংবেদনশীলতা বজায় রাখা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আশা করছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকা হবে এবং বিদ্যমান সম্পর্কের ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। এমন অবস্থায় রাজনৈতিক বক্তব্য বা বিতর্কিত মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনাটি আপাতত কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সতর্কতা বাড়ছে। পরিস্থিতি যাতে আরও জটিল না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগের মতোই স্থিতিশীল থাকবে।
ঢাকায় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার তলব, আসাম মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি—বাংলাদেশ অসন্তোষ জানাল
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















