০৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
সরকারি নতুন পাটকল নয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেই পুনরুজ্জীবনের পথে পাটশিল্প যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে মোদি সরকারকে নিশানা কংগ্রেসের, ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঢাকার বাইরে যাচ্ছে তিন প্রধান বাস টার্মিনাল, যানজট কমাতে নতুন পরিকল্পনা হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, শান্তি চুক্তির আগে রয়ে গেছে বড় শর্ত যুদ্ধ শেষের পথে, উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য পুনরুজ্জীবনের প্রস্তুতিতে ভারত; সার আমদানি ও চাবাহার বন্দর ব্যবহারে নতুন আশা হলফনামায় ‘মিথ্যা তথ্য’ বিতর্ক: হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিলের দাবি রাশেদ খাঁনের রূপপুরে কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত, সাময়িক বন্ধ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ধর্ম, ভিনগ্রহের প্রাণ ও অজানার বিতর্ক: নতুন করে আলোচনায় বিশ্বাসের প্রশ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে ‘কোটি কোটি টাকা’ নিয়ে ঘোরার অভিযোগের প্রমাণ চাইলেন আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ, মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: মনোনয়ন বাতিলে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচন ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৩ ও ১৪ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের একটি বড় অংশ এবার ভোটে অংশ নিতে পারছেন না। তাদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

নির্বাচন ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান
বুধবার বিষয়টি সামনে আসার পর উভয় পক্ষের আইনজীবীরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন। তবে কতটি মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে এবং কতটি বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩ মে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিনই চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে।

মনোনয়ন বাতিলের পেছনের কারণ
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন আবেদন ও মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটির ব্যানার বা সমর্থনে আগে যারা নির্বাচন করেছেন বা যুক্ত ছিলেন, তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে একটি বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত
গত ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবী জানান, ওই সভায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় তাদের কাগজপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবাদ ও উত্তেজনা
মনোনয়ন যাচাই শেষে যাদের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে, তাদের নাম সমিতির অডিটোরিয়ামে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত আইনজীবীদের নাম সেখানে ঘোষণা করা হয়নি। এর পরপরই তারা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান। পরে মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে আলাদা সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেন তারা।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে স্লোগান দেন এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে করে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আইনজীবীদের অভিযোগ
আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং সমিতির সংবিধান লঙ্ঘন করে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, বরং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী একটি সিদ্ধান্ত।

নির্বাচনের কাঠামো
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটিতে মোট ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে। এক বছরের জন্য এই কমিটি দায়িত্ব পালন করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন সামনে রেখে আইনজীবীদের মধ্যে বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়ছে। মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, সেটিই এখন সবার নজরে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি নতুন পাটকল নয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেই পুনরুজ্জীবনের পথে পাটশিল্প

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: মনোনয়ন বাতিলে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা

০৭:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচন ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৩ ও ১৪ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের একটি বড় অংশ এবার ভোটে অংশ নিতে পারছেন না। তাদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

নির্বাচন ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান
বুধবার বিষয়টি সামনে আসার পর উভয় পক্ষের আইনজীবীরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন। তবে কতটি মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে এবং কতটি বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩ মে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিনই চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে।

মনোনয়ন বাতিলের পেছনের কারণ
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন আবেদন ও মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটির ব্যানার বা সমর্থনে আগে যারা নির্বাচন করেছেন বা যুক্ত ছিলেন, তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে একটি বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত
গত ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবী জানান, ওই সভায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় তাদের কাগজপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবাদ ও উত্তেজনা
মনোনয়ন যাচাই শেষে যাদের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে, তাদের নাম সমিতির অডিটোরিয়ামে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত আইনজীবীদের নাম সেখানে ঘোষণা করা হয়নি। এর পরপরই তারা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান। পরে মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে আলাদা সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেন তারা।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে স্লোগান দেন এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে করে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আইনজীবীদের অভিযোগ
আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং সমিতির সংবিধান লঙ্ঘন করে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, বরং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী একটি সিদ্ধান্ত।

নির্বাচনের কাঠামো
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটিতে মোট ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে। এক বছরের জন্য এই কমিটি দায়িত্ব পালন করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন সামনে রেখে আইনজীবীদের মধ্যে বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়ছে। মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, সেটিই এখন সবার নজরে।