০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬
তথ্যের লড়াইয়ে জয়ী হয় কে: অর্থ, প্রচারণা নাকি বিশ্বাসযোগ্যতা? মাদিবা শার্ট: পোশাক থেকে স্বাধীনতার প্রতীক, জন কানি বললেন ‘নেলসন ম্যান্ডেলা আমাদের স্যুটের শৃঙ্খল ভেঙেছেন’ ক্রিপ্টো-উপনিবেশবাদের নতুন মুখ: ক্যারিবীয় দ্বীপে সার্বভৌমত্বের নীরব লড়াই ঢাকার কালাবাগানে হোস্টেলে নার্সিং শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরের নেছারাবাদেই তৈরি দেশের ৭৫ শতাংশ ক্রিকেট ব্যাট, এবার বৈশ্বিক বাজারে নজর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসছে গাড়ি, চলতি বছরই রপ্তানি হবে ১০০টি যানবাহন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করলেন ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী আকাশে আতঙ্ক, হিথ্রোতে জরুরি অবতরণ: ‘আমি মরতে চাই না’—চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো কেবিন ডেমোক্র্যাটদের পুরোনো ‘পুলিশের তহবিল কমানোর’ অবস্থান ফের বিতর্কে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন চাপে দল চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, নিহত ১, আহত ২

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: মনোনয়ন বাতিলে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচন ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৩ ও ১৪ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের একটি বড় অংশ এবার ভোটে অংশ নিতে পারছেন না। তাদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

নির্বাচন ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান
বুধবার বিষয়টি সামনে আসার পর উভয় পক্ষের আইনজীবীরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন। তবে কতটি মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে এবং কতটি বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩ মে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিনই চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে।

মনোনয়ন বাতিলের পেছনের কারণ
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন আবেদন ও মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটির ব্যানার বা সমর্থনে আগে যারা নির্বাচন করেছেন বা যুক্ত ছিলেন, তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে একটি বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত
গত ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবী জানান, ওই সভায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় তাদের কাগজপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবাদ ও উত্তেজনা
মনোনয়ন যাচাই শেষে যাদের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে, তাদের নাম সমিতির অডিটোরিয়ামে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত আইনজীবীদের নাম সেখানে ঘোষণা করা হয়নি। এর পরপরই তারা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান। পরে মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে আলাদা সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেন তারা।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে স্লোগান দেন এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে করে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আইনজীবীদের অভিযোগ
আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং সমিতির সংবিধান লঙ্ঘন করে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, বরং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী একটি সিদ্ধান্ত।

নির্বাচনের কাঠামো
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটিতে মোট ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে। এক বছরের জন্য এই কমিটি দায়িত্ব পালন করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন সামনে রেখে আইনজীবীদের মধ্যে বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়ছে। মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, সেটিই এখন সবার নজরে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তথ্যের লড়াইয়ে জয়ী হয় কে: অর্থ, প্রচারণা নাকি বিশ্বাসযোগ্যতা?

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: মনোনয়ন বাতিলে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা

০৭:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচন ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৩ ও ১৪ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের একটি বড় অংশ এবার ভোটে অংশ নিতে পারছেন না। তাদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

নির্বাচন ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান
বুধবার বিষয়টি সামনে আসার পর উভয় পক্ষের আইনজীবীরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন। তবে কতটি মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে এবং কতটি বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩ মে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিনই চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে।

মনোনয়ন বাতিলের পেছনের কারণ
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন আবেদন ও মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটির ব্যানার বা সমর্থনে আগে যারা নির্বাচন করেছেন বা যুক্ত ছিলেন, তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে একটি বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত
গত ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবী জানান, ওই সভায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় তাদের কাগজপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবাদ ও উত্তেজনা
মনোনয়ন যাচাই শেষে যাদের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে, তাদের নাম সমিতির অডিটোরিয়ামে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত আইনজীবীদের নাম সেখানে ঘোষণা করা হয়নি। এর পরপরই তারা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান। পরে মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে আলাদা সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেন তারা।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে স্লোগান দেন এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে করে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আইনজীবীদের অভিযোগ
আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং সমিতির সংবিধান লঙ্ঘন করে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, বরং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী একটি সিদ্ধান্ত।

নির্বাচনের কাঠামো
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটিতে মোট ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে। এক বছরের জন্য এই কমিটি দায়িত্ব পালন করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন সামনে রেখে আইনজীবীদের মধ্যে বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়ছে। মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, সেটিই এখন সবার নজরে।