০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
অর্থমন্ত্রী সতর্কবার্তা: সামনে দুই বছর কঠিন—অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কষ্টের সিদ্ধান্ত জরুরি মঞ্চে ঝড় তোলেন, তবু বুকের ভেতর কাঁপন—জুডি লাভের অজানা লড়াই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থেকে রহস্যকাহিনি লেখক: নতুন উপন্যাসে চমক দিলেন ফিলিপা পেরি সকালে কমে, বিকেলে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম নাটক থেকেই শুরু, এখন ওয়েবটুন-উপন্যাসে বিস্তার—বিনোদন জগতে নতুন ধারা জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ বরদাশত হবে না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি বিসিবি নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু, ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা অন্ধকার থেকে আলো—ব্যক্তিগত সংগ্রামকে হাসিতে বদলে নতুন মঞ্চে অ্যাঞ্জেলা ড্রাভিড ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কৌশল গড়ছে উত্তর কোরিয়া, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনের প্রযুক্তি কৌশলই অনুসরণ করছে

যুদ্ধের মাঝেই বদলে গেছে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র, শক্তিশালী হচ্ছে বিপ্লবী গার্ড

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের দুই মাস পার হতে না হতেই ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন অনেকটাই সরে গেছে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে।

সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পরিবর্তন
যুদ্ধের শুরুতেই শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে সামনে আনা হয়। তবে বাস্তবে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ব্যক্তি নন বলে জানা যাচ্ছে। বরং তার ভূমিকা এখন অনেকটাই অনুমোদন দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকৃত ক্ষমতা চলে গেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পসের হাতে, যারা সামরিক কৌশল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করছে।

নিরাপত্তা কাঠামোর প্রভাব বৃদ্ধি
যুদ্ধের চাপ ইরানের ভেতরে একটি সংকীর্ণ কিন্তু শক্তিশালী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গোষ্ঠী তৈরি করেছে। এই গোষ্ঠীর কেন্দ্রে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, বিপ্লবী গার্ড এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়।

ফলে আগের মতো একক নেতৃত্বের পরিবর্তে এখন একটি সমন্বিত কিন্তু কঠোর নিরাপত্তা-নির্ভর কাঠামো তৈরি হয়েছে, যেখানে সামরিক নেতৃত্বই মূল চালিকাশক্তি।

যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র 'উত্তেজনা বাড়ানোর প্রস্তুতি'?

আলোচনায় জটিলতা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনাও এই নতুন ক্ষমতার কাঠামোর কারণে জটিল হয়ে উঠেছে। মধ্যস্থতাকারীরা বলছেন, ইরানের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে, কারণ স্পষ্ট কোনো একক কর্তৃত্ব নেই।

একই সঙ্গে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ফারাক থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই পারমাণবিক ইস্যুতে সমাধান চাইলেও ইরান সেটিকে পরে আলোচনা করতে চায়।

বিপ্লবী গার্ডের বাড়তি প্রভাব
মাঠপর্যায়ে এবং কৌশলগতভাবে বিপ্লবী গার্ডের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তাদেরই চূড়ান্ত ভূমিকা দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে ইরানের নীতি আরও কঠোর হতে পারে। পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার দিকেই ঝুঁকছে দেশটি।

নতুন বাস্তবতা: ধর্মীয় থেকে নিরাপত্তা আধিপত্য
ইরানের ক্ষমতার কাঠামো এখন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। যেখানে আগে ধর্মীয় নেতৃত্ব ছিল প্রধান, এখন সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রভাবই নির্ধারণ করছে দেশের দিকনির্দেশনা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু সাময়িক নয়, বরং ভবিষ্যতের ইরানকে নতুন পথে নিয়ে যেতে পারে—যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কেন্দ্রীভূত ও কঠোর হবে।

অর্থমন্ত্রী সতর্কবার্তা: সামনে দুই বছর কঠিন—অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কষ্টের সিদ্ধান্ত জরুরি

যুদ্ধের মাঝেই বদলে গেছে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র, শক্তিশালী হচ্ছে বিপ্লবী গার্ড

০৮:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের দুই মাস পার হতে না হতেই ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন অনেকটাই সরে গেছে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে।

সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পরিবর্তন
যুদ্ধের শুরুতেই শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে সামনে আনা হয়। তবে বাস্তবে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ব্যক্তি নন বলে জানা যাচ্ছে। বরং তার ভূমিকা এখন অনেকটাই অনুমোদন দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকৃত ক্ষমতা চলে গেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পসের হাতে, যারা সামরিক কৌশল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করছে।

নিরাপত্তা কাঠামোর প্রভাব বৃদ্ধি
যুদ্ধের চাপ ইরানের ভেতরে একটি সংকীর্ণ কিন্তু শক্তিশালী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গোষ্ঠী তৈরি করেছে। এই গোষ্ঠীর কেন্দ্রে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, বিপ্লবী গার্ড এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়।

ফলে আগের মতো একক নেতৃত্বের পরিবর্তে এখন একটি সমন্বিত কিন্তু কঠোর নিরাপত্তা-নির্ভর কাঠামো তৈরি হয়েছে, যেখানে সামরিক নেতৃত্বই মূল চালিকাশক্তি।

যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র 'উত্তেজনা বাড়ানোর প্রস্তুতি'?

আলোচনায় জটিলতা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনাও এই নতুন ক্ষমতার কাঠামোর কারণে জটিল হয়ে উঠেছে। মধ্যস্থতাকারীরা বলছেন, ইরানের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে, কারণ স্পষ্ট কোনো একক কর্তৃত্ব নেই।

একই সঙ্গে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ফারাক থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই পারমাণবিক ইস্যুতে সমাধান চাইলেও ইরান সেটিকে পরে আলোচনা করতে চায়।

বিপ্লবী গার্ডের বাড়তি প্রভাব
মাঠপর্যায়ে এবং কৌশলগতভাবে বিপ্লবী গার্ডের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তাদেরই চূড়ান্ত ভূমিকা দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে ইরানের নীতি আরও কঠোর হতে পারে। পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার দিকেই ঝুঁকছে দেশটি।

নতুন বাস্তবতা: ধর্মীয় থেকে নিরাপত্তা আধিপত্য
ইরানের ক্ষমতার কাঠামো এখন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। যেখানে আগে ধর্মীয় নেতৃত্ব ছিল প্রধান, এখন সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রভাবই নির্ধারণ করছে দেশের দিকনির্দেশনা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু সাময়িক নয়, বরং ভবিষ্যতের ইরানকে নতুন পথে নিয়ে যেতে পারে—যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কেন্দ্রীভূত ও কঠোর হবে।