০৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
অর্থমন্ত্রী সতর্কবার্তা: সামনে দুই বছর কঠিন—অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কষ্টের সিদ্ধান্ত জরুরি মঞ্চে ঝড় তোলেন, তবু বুকের ভেতর কাঁপন—জুডি লাভের অজানা লড়াই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থেকে রহস্যকাহিনি লেখক: নতুন উপন্যাসে চমক দিলেন ফিলিপা পেরি সকালে কমে, বিকেলে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম নাটক থেকেই শুরু, এখন ওয়েবটুন-উপন্যাসে বিস্তার—বিনোদন জগতে নতুন ধারা জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ বরদাশত হবে না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি বিসিবি নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু, ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা অন্ধকার থেকে আলো—ব্যক্তিগত সংগ্রামকে হাসিতে বদলে নতুন মঞ্চে অ্যাঞ্জেলা ড্রাভিড ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কৌশল গড়ছে উত্তর কোরিয়া, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনের প্রযুক্তি কৌশলই অনুসরণ করছে

ব্যাটসম্যানদের দাপটে আইপিএল, বোলারদের টিকে থাকতে বদলাতে হবে কৌশল

বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একতরফা লড়াইয়ের চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে আইপিএলে ব্যাটসম্যানদের আধিপত্য এতটাই বেড়েছে যে, বোলারদের জন্য ম্যাচে প্রভাব ফেলাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি স্পিনার মুথিয়া মুরালিধরনের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হলো বিনোদননির্ভর ক্রিকেট এবং এর বাণিজ্যিক রূপ।

তিনি মনে করেন, এখনকার ক্রিকেটে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আগে যেখানে পাওয়ারপ্লেতে ৪০-৫০ রান ভালো ধরা হতো, এখন সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০-৮০ রানে। ফলে বোলারদের ওপর চাপ অনেক বেশি, আর ভুলের সুযোগ খুবই কম।

ব্যাটিংয়ের নতুন ধারা
নতুন প্রজন্মের ব্যাটসম্যানরা ভয়হীন মানসিকতা নিয়ে খেলছে। বড় বোলারদের বিপক্ষেও তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আক্রমণ চালাচ্ছে। এমনকি তরুণ খেলোয়াড়রাও বিশ্বমানের বোলারদের বিরুদ্ধে ছক্কা হাঁকাতে দ্বিধা করছে না। এই পরিবর্তন শুধু কৌশলে নয়, মানসিকতাতেও এসেছে।

মুরালিধরন বলেন, এখনকার ব্যাটসম্যানদের লক্ষ্য শুধু টিকে থাকা নয়, বরং প্রতিটি বলকে আক্রমণ করা। ফলে বোলারদের পরিকল্পনা ভেঙে যাচ্ছে খুব দ্রুত। ভালো বলও অনেক সময় বাউন্ডারিতে পরিণত হচ্ছে।

আইপিএলে দিল্লির চরম ব্যাটিং বিপর্যয়: এক ম্যাচেই ভাঙল একগুচ্ছ রেকর্ড

বোলারদের কঠিন বাস্তবতা
বর্তমান পরিস্থিতিতে বোলারদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধারাবাহিকতা এবং নিখুঁত লাইন-লেন্থ ধরে রাখা। তবুও অনেক সময় ভালো বোলিং করেও ফল পাওয়া যায় না। উইকেটের ধরন, মাঠের আকার এবং ব্যাটসম্যানদের শক্তিশালী শট—সব মিলিয়ে বোলাররা প্রায়শই বিপাকে পড়ছেন।

বিশেষ করে স্পিনারদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও প্রকট। অনেক তরুণ স্পিনার বল ঘোরানোর বদলে গতি বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছেন। এতে ব্যাটসম্যানদের জন্য বল খেলা সহজ হয়ে যাচ্ছে। মুরালিধরনের মতে, ছোটবেলা থেকেই বল ঘোরানোর দক্ষতা তৈরি না হলে পরবর্তীতে সেটা অর্জন করা কঠিন।

খেলার পরিবর্তিত রূপ
বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বড় রান তাড়া করাও এখন আর অসম্ভব নয়। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ২০০-র বেশি রানও সহজে পেরিয়ে যাচ্ছে দলগুলো। ফলে ম্যাচের ভারসাম্য পুরোপুরি ব্যাটসম্যানদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

অতীতের তুলনায় এখনকার উইকেটগুলো অনেক বেশি ব্যাটিং সহায়ক। তাই কিংবদন্তি বোলাররাও যদি এখন খেলতেন, তারাও একই সমস্যার মুখে পড়তেন বলে মনে করেন মুরালিধরন।

বাণিজ্যিক চাপ ও ভবিষ্যৎ
আইপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্ট এখন বিশাল বাণিজ্যিক কাঠামোর অংশ। দর্শকদের বিনোদনই এখানে প্রধান লক্ষ্য। তাই চার-ছক্কার বন্যাই দর্শকদের আকর্ষণ করে। এই কারণে খেলার ধরণ বদলানোর সম্ভাবনা খুব কম।

তবে মুরালিধরনের বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোলাররাও নিজেদের মানিয়ে নেবে। নতুন কৌশল, ভিন্ন পরিকল্পনা এবং কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে তারা আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরতে পারে। কিন্তু এই লড়াই চলতেই থাকবে—ব্যাটসম্যান নতুন কিছু আনবে, বোলারও পাল্টা জবাব খুঁজবে।

অর্থমন্ত্রী সতর্কবার্তা: সামনে দুই বছর কঠিন—অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কষ্টের সিদ্ধান্ত জরুরি

ব্যাটসম্যানদের দাপটে আইপিএল, বোলারদের টিকে থাকতে বদলাতে হবে কৌশল

০৮:১১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একতরফা লড়াইয়ের চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে আইপিএলে ব্যাটসম্যানদের আধিপত্য এতটাই বেড়েছে যে, বোলারদের জন্য ম্যাচে প্রভাব ফেলাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি স্পিনার মুথিয়া মুরালিধরনের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হলো বিনোদননির্ভর ক্রিকেট এবং এর বাণিজ্যিক রূপ।

তিনি মনে করেন, এখনকার ক্রিকেটে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আগে যেখানে পাওয়ারপ্লেতে ৪০-৫০ রান ভালো ধরা হতো, এখন সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০-৮০ রানে। ফলে বোলারদের ওপর চাপ অনেক বেশি, আর ভুলের সুযোগ খুবই কম।

ব্যাটিংয়ের নতুন ধারা
নতুন প্রজন্মের ব্যাটসম্যানরা ভয়হীন মানসিকতা নিয়ে খেলছে। বড় বোলারদের বিপক্ষেও তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আক্রমণ চালাচ্ছে। এমনকি তরুণ খেলোয়াড়রাও বিশ্বমানের বোলারদের বিরুদ্ধে ছক্কা হাঁকাতে দ্বিধা করছে না। এই পরিবর্তন শুধু কৌশলে নয়, মানসিকতাতেও এসেছে।

মুরালিধরন বলেন, এখনকার ব্যাটসম্যানদের লক্ষ্য শুধু টিকে থাকা নয়, বরং প্রতিটি বলকে আক্রমণ করা। ফলে বোলারদের পরিকল্পনা ভেঙে যাচ্ছে খুব দ্রুত। ভালো বলও অনেক সময় বাউন্ডারিতে পরিণত হচ্ছে।

আইপিএলে দিল্লির চরম ব্যাটিং বিপর্যয়: এক ম্যাচেই ভাঙল একগুচ্ছ রেকর্ড

বোলারদের কঠিন বাস্তবতা
বর্তমান পরিস্থিতিতে বোলারদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধারাবাহিকতা এবং নিখুঁত লাইন-লেন্থ ধরে রাখা। তবুও অনেক সময় ভালো বোলিং করেও ফল পাওয়া যায় না। উইকেটের ধরন, মাঠের আকার এবং ব্যাটসম্যানদের শক্তিশালী শট—সব মিলিয়ে বোলাররা প্রায়শই বিপাকে পড়ছেন।

বিশেষ করে স্পিনারদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও প্রকট। অনেক তরুণ স্পিনার বল ঘোরানোর বদলে গতি বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছেন। এতে ব্যাটসম্যানদের জন্য বল খেলা সহজ হয়ে যাচ্ছে। মুরালিধরনের মতে, ছোটবেলা থেকেই বল ঘোরানোর দক্ষতা তৈরি না হলে পরবর্তীতে সেটা অর্জন করা কঠিন।

খেলার পরিবর্তিত রূপ
বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বড় রান তাড়া করাও এখন আর অসম্ভব নয়। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ২০০-র বেশি রানও সহজে পেরিয়ে যাচ্ছে দলগুলো। ফলে ম্যাচের ভারসাম্য পুরোপুরি ব্যাটসম্যানদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

অতীতের তুলনায় এখনকার উইকেটগুলো অনেক বেশি ব্যাটিং সহায়ক। তাই কিংবদন্তি বোলাররাও যদি এখন খেলতেন, তারাও একই সমস্যার মুখে পড়তেন বলে মনে করেন মুরালিধরন।

বাণিজ্যিক চাপ ও ভবিষ্যৎ
আইপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্ট এখন বিশাল বাণিজ্যিক কাঠামোর অংশ। দর্শকদের বিনোদনই এখানে প্রধান লক্ষ্য। তাই চার-ছক্কার বন্যাই দর্শকদের আকর্ষণ করে। এই কারণে খেলার ধরণ বদলানোর সম্ভাবনা খুব কম।

তবে মুরালিধরনের বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোলাররাও নিজেদের মানিয়ে নেবে। নতুন কৌশল, ভিন্ন পরিকল্পনা এবং কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে তারা আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরতে পারে। কিন্তু এই লড়াই চলতেই থাকবে—ব্যাটসম্যান নতুন কিছু আনবে, বোলারও পাল্টা জবাব খুঁজবে।