গণভোটকে ঘিরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিল থেকে অনুদান দেওয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ও অন্যান্য সংগঠনের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট মহল।
কোথায় কত টাকা গেছে
তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকারদের সংগঠন থেকে সুজনকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বিতর্ক আয়োজনের জন্য আরেকটি সংগঠনও অনুদান পেয়েছে। এছাড়া গণভোটের প্রচারণায় অংশ নিতে আরও বড় অঙ্কের অর্থ চাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অর্থের উৎস ছিল ব্যাংকগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির তহবিল। সাধারণত শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে এ ধরনের অর্থ ব্যবহারের কথা থাকলেও এবার তা রাজনৈতিক বা গণভোট সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যবহৃত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।

সংগঠনগুলোর ব্যাখ্যা
অনুদান পাওয়া সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এই অর্থ ব্যবহার করেছে। গণভোটে অংশগ্রহণ ও মতামত গঠনে নাগরিকদের উৎসাহিত করা ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে বিতর্ক আয়োজনকারী সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা কোনো পক্ষের প্রচারণা চালায়নি, বরং নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে জনসচেতনতা বাড়াতে বিতর্কের আয়োজন করেছে।
আইন ও নীতির প্রশ্ন
এই ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—ব্যাংকের সিএসআর তহবিল কি এভাবে ব্যবহার করা যায়? অর্থনীতিবিদদের মতে, ভোট বা গণভোটের প্রচারণা মূলত সরকারের দায়িত্ব। সেখানে ব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করা হলে তা নীতিগতভাবে সঠিক নয়।

তারা আরও বলছেন, অনুদান দেওয়ার প্রক্রিয়াটিও স্বচ্ছ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ ব্যাংকের অর্থ শেষ পর্যন্ত জনগণের অর্থ হিসেবেই বিবেচিত হয়।
তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বিতর্ক বাড়তে থাকায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই তদন্তে দেখা হবে, কীভাবে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে এবং তা বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই এই ধরনের অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















