০৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
এআই উল্লাসে শেয়ারবাজার চাঙ্গা, উপসাগরীয় সংঘাতে তেলের দাম ১০১ ডলার ছুঁইছুঁই আটলান্টিক সাগরের স্রোত ভেঙে পড়লে বদলে যেতে পারে ভারতের বর্ষা, বাড়ছে বৈশ্বিক জলবায়ু বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মাদকবিরোধী সমঝোতা, তথ্য বিনিময় ও যৌথ অভিযানে জোর কলকাতার পুনর্জন্ম কি সত্যিই সম্ভব? চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড, সেনাবাহিনীতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নতুন বার্তা রবীন্দ্রনাথ আর কতদিন থাকবেন এই বাংলাদেশে? আসামে ভরাডুবির পর কংগ্রেসে ফাটল, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে ঘিরে ক্ষোভ জোটসঙ্গীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন মডেল ঘিরে হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ, বদলাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বিচারপতির পদ ছাড়লেন পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সদস্য, রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা যমুনা তীরের ঘর ছাড়ার নোটিশে আতঙ্ক, ‘আমরা কোথায় যাব’ প্রশ্নে দিশেহারা শত শত পরিবার

কংগ্রেস-টিভিকে জোটে বিস্ফোরক মন্তব্য মণি শঙ্কর আইয়ারের, বললেন ‘রাজনৈতিক বোকামি ও নৈতিক বিচ্যুতি’

তামিলনাড়ুর সরকার গঠনকে ঘিরে কংগ্রেস ও বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগমের (টিভিকে) জোট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এবার নিজের দলকেই সরাসরি আক্রমণ করলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মণি শঙ্কর আইয়ার। তিনি অভিযোগ করেছেন, টিভিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কংগ্রেস নৈতিক রাজনীতির পথ থেকে সরে গেছে এবং এটি “রাজনৈতিক বোকামি”র উদাহরণ।

শুক্রবার এক প্রতিক্রিয়ায় আইয়ার বলেন, মহাত্মা গান্ধী একশ বছর আগে ‘নবজীবন’ পত্রিকায় লিখেছিলেন, স্বরাজ মানে হবে নৈতিকতার ভিত্তিতে সরকার পরিচালনা। কিন্তু কংগ্রেস সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই নীতির বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। তাঁর দাবি, গত নির্বাচনে যে দলকে কংগ্রেস বিরোধিতা করেছিল, এখন সেই টিভিকের সঙ্গেই সরকার গঠনের জন্য জোট করা হয়েছে।

নির্বাচনের ফল ঘিরে জটিল সমীকরণ

সাম্প্রতিক তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে পরাজিত হয়েছে। বিজয়ের টিভিকে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। দলটি ১০৫টি আসন জিতলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সীমা থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ৫টি আসন পাওয়া কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই সমর্থন সত্ত্বেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা এখনও পূরণ হয়নি। ফলে রাজ্যে ঝুলন্ত বিধানসভার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Far too much younger': Congress leader Mani Shankar Aiyar explains why he is not a 'Rahulian' | India News - The Times of India

নিজ দলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ আইয়ার

মণি শঙ্কর আইয়ার কংগ্রেসের কৌশল নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করে বলেন, দলটি ভেবেছিল ডিএমকের জোট ছাড়লে অন্য ছোট শরিকরাও বেরিয়ে আসবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তাঁর কথায়, “আমরা এখন মাঝআকাশে ঝুলে আছি। বিজয়ের সঙ্গে গিয়ে নৈতিক ভুল করেছি, আবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না করায় রাজনৈতিক বোকামিও করেছি।”

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সুবিধাবাদী রাজনীতি ভবিষ্যতের পথ হতে পারে না। তাঁর প্রশ্ন, এই সিদ্ধান্তে আদৌ ভালো রাজনীতি, ভালো বোধ বা নৈতিকতার কোন দিকটি রক্ষা হয়েছে?

ডিএমকের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ অভিযোগ

কংগ্রেসের এই অবস্থানের পর ডিএমকে সরাসরি অভিযোগ করেছে, জোটের সংকটময় সময়ে কংগ্রেস তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ডিএমকের নেতারা মনে করছেন, কেন্দ্রের বিরোধী জোটে একসঙ্গে থাকার পরও তামিলনাড়ুতে এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

অখিলেশ যাদবের পরোক্ষ কটাক্ষ

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও কংগ্রেসকে ঘিরে পরোক্ষ মন্তব্য করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, “কঠিন সময়ে আমরা একে অপরকে ছেড়ে যাই না।”

সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধী দলগুলোর ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে অখিলেশের এই বার্তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই উল্লাসে শেয়ারবাজার চাঙ্গা, উপসাগরীয় সংঘাতে তেলের দাম ১০১ ডলার ছুঁইছুঁই

কংগ্রেস-টিভিকে জোটে বিস্ফোরক মন্তব্য মণি শঙ্কর আইয়ারের, বললেন ‘রাজনৈতিক বোকামি ও নৈতিক বিচ্যুতি’

০৬:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

তামিলনাড়ুর সরকার গঠনকে ঘিরে কংগ্রেস ও বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগমের (টিভিকে) জোট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এবার নিজের দলকেই সরাসরি আক্রমণ করলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মণি শঙ্কর আইয়ার। তিনি অভিযোগ করেছেন, টিভিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কংগ্রেস নৈতিক রাজনীতির পথ থেকে সরে গেছে এবং এটি “রাজনৈতিক বোকামি”র উদাহরণ।

শুক্রবার এক প্রতিক্রিয়ায় আইয়ার বলেন, মহাত্মা গান্ধী একশ বছর আগে ‘নবজীবন’ পত্রিকায় লিখেছিলেন, স্বরাজ মানে হবে নৈতিকতার ভিত্তিতে সরকার পরিচালনা। কিন্তু কংগ্রেস সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই নীতির বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। তাঁর দাবি, গত নির্বাচনে যে দলকে কংগ্রেস বিরোধিতা করেছিল, এখন সেই টিভিকের সঙ্গেই সরকার গঠনের জন্য জোট করা হয়েছে।

নির্বাচনের ফল ঘিরে জটিল সমীকরণ

সাম্প্রতিক তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে পরাজিত হয়েছে। বিজয়ের টিভিকে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। দলটি ১০৫টি আসন জিতলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সীমা থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ৫টি আসন পাওয়া কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই সমর্থন সত্ত্বেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা এখনও পূরণ হয়নি। ফলে রাজ্যে ঝুলন্ত বিধানসভার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Far too much younger': Congress leader Mani Shankar Aiyar explains why he is not a 'Rahulian' | India News - The Times of India

নিজ দলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ আইয়ার

মণি শঙ্কর আইয়ার কংগ্রেসের কৌশল নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করে বলেন, দলটি ভেবেছিল ডিএমকের জোট ছাড়লে অন্য ছোট শরিকরাও বেরিয়ে আসবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তাঁর কথায়, “আমরা এখন মাঝআকাশে ঝুলে আছি। বিজয়ের সঙ্গে গিয়ে নৈতিক ভুল করেছি, আবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না করায় রাজনৈতিক বোকামিও করেছি।”

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সুবিধাবাদী রাজনীতি ভবিষ্যতের পথ হতে পারে না। তাঁর প্রশ্ন, এই সিদ্ধান্তে আদৌ ভালো রাজনীতি, ভালো বোধ বা নৈতিকতার কোন দিকটি রক্ষা হয়েছে?

ডিএমকের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ অভিযোগ

কংগ্রেসের এই অবস্থানের পর ডিএমকে সরাসরি অভিযোগ করেছে, জোটের সংকটময় সময়ে কংগ্রেস তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ডিএমকের নেতারা মনে করছেন, কেন্দ্রের বিরোধী জোটে একসঙ্গে থাকার পরও তামিলনাড়ুতে এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

অখিলেশ যাদবের পরোক্ষ কটাক্ষ

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও কংগ্রেসকে ঘিরে পরোক্ষ মন্তব্য করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, “কঠিন সময়ে আমরা একে অপরকে ছেড়ে যাই না।”

সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধী দলগুলোর ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে অখিলেশের এই বার্তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।