০৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
ক্যারিবিয়ান দ্বীপে চিকিৎসা শিক্ষা: যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক তৈরির নতুন পথ ও লুকানো ঝুঁকি হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকলেও কমছে না ইরানের প্রভাব ইবোলা আতঙ্কে কঙ্গো, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ ভাইরাস খুলনার আতাই নদীর দুর্বল বাঁধে ভাঙনের শঙ্কা, বন্যা হুমকিতে অন্তত ১০ গ্রাম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী ছিল: নুরুল হক ফরিদপুরে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার, মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ আফ্রিকার বৃহত্তম জ্বালানি প্রকল্পের কাজ শুরু, নাইজেরিয়ার গ্যাস যাবে আলজেরিয়া হয়ে বিশ্ববাজারে গ্যারি সোবার্স: ইয়র্কশায়ারে তাঁর সঙ্গে খেলেছি, তিনিই ছিলেন সর্বকালের সেরা তাজমহল এককালে মন্দির ছিল বলে আবার দাবি; কী বলছে ইতিহাস?

রবীন্দ্রনাথ আর কতদিন থাকবেন এই বাংলাদেশে?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন কেউ ননযিনি কোন আরাধনার ঠাকুর। তাঁকে জন্ম ও মৃত্যু দিবসে বা নিয়ম করে স্মরণ করলেবা তাঁর উপলক্ষ্যে কয়েকটি গান গাইলেই বিষয়টি শেষ হয়ে গেল।

রবীন্দ্রনাথের কাছে প্রার্থনা করার কিছু নেই। রবীন্দ্রনাথ চর্চার এক মহাসাগর তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন। যাকে চর্চা করে একটি আধুনিক মানুষ গোষ্ঠী একটি বুদ্ধিবৃত্তিক শান্তির পৃথিবী গড়তে পারে।

মানুষের চিন্তার অজস্র দিক তিনি খুলে দিয়ে গেছেন। পৃথিবীর খুব কম চিন্তাবিদ লেখক এত বেশি চিন্তার দুয়ার মানুষের জন্যে খুলতে পেরেছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলোতিনি যা সৃষ্টি করে গেছেন সবই তাঁর লেখায়তাঁর ছবিতে। সুরেও আছে। তবে সুরের বাইরেই সিংহভাগ। তাই তাঁকে স্মরণ করতে হলেঅনুসরণ করতে হলেতাঁকে ঘিরে নিজের চিন্তার জগৎ বাড়াতে হলে তাঁর বই পড়তে হবে।

গত সপ্তাহের দুটো রিপোর্ট যা এই সারাক্ষণেই ছাপা হয়েছে ভাবানুবাদের মাধ্যমে। সেখানে একটি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে এ মুহূর্তে সব থেকে বেশি বই পড়ছে সাউথ ইস্ট এশিয়ার দেশগুলো এর ভেতর তারা চীন ও জাপানকেও ধরেছে। ইউরোপআমেরিকা ও ভারতের বই পড়ার হার স্থিতিশীল আছে। সেখানে বাংলাদেশপাকিস্তান বা আফগানিস্তানের কথা আসেনি। তবে অন্য একটি রিপোর্টে বাংলাদেশের কথা এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে সব থেকে কম বই (ছাপা ও পিডিএফ) পড়ে আফগানিস্তানের মানুষযার হার ২.৬৪ এবং তার ওপরে আছে বাংলাদেশ ২.৭৫%।

যে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের

বই পড়ার হার যখন এখানে চলে গেছে দেশের। আর দেশ যেভাবে এগিয়ে চলেছে তাতে রবীন্দ্র-নজরুলের অনেক লেখা তো বেশ আগেই পাঠ্যপুস্তক থেকে এক শ্রেণীর দাবির মুখে বাদ পড়েছে।

এছাড়া সম্প্রতি এক ছাত্রের অভিযোগএসএসসি পরীক্ষার একটি প্রশ্নে তাকে টিক মার্ক দিতে বলা হয়েছে। প্রশ্নে একটি কবিতা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে কবি এখানে কী প্রকাশ করতে চেয়েছেনকিন্তু যে কটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা মূলত কাছাকাছি বা একই অর্থ বহন করে। ছাত্রের প্রশ্নএখানে আমি কোনটাতে টিক মার্ক দেবওই ছাত্রের এ প্রশ্ন মূলত জাতির ভবিষ্যতের এক চরম ইঙ্গিত এবং তা অনেক গভীরে।

এর পরে আর খুব বেশিদিন কি আর রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশে থাকবেনরবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বর্তমানে যে নোংরা আলোচনা করে কিছু মানুষ সেগুলো কোন বিষয় নয়যে কোন সমাজে কিছু দুর্গন্ধ সব সময়ই থাকে। কিন্তু বই পড়ার হারটি তো বর্তমানের আফগানিস্তানের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। দেশটার গতি মুখটা তো ভাগ্যদোষে হোক আর চক্রান্তের ফলে হোক বর্তমানের আফগানিস্তানমুখী হয়ে গেছে।

তারপরেও আশা করি পৃথিবী সুস্থ হোকবাংলাদেশ অসুস্থতা থেকে বের হয়ে আসুক। রবীন্দ্রনাথ বাঙালির এই রক্তে ভেজা রাষ্ট্রের জাতির মননের মণি হয়েই থাকুন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যারিবিয়ান দ্বীপে চিকিৎসা শিক্ষা: যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক তৈরির নতুন পথ ও লুকানো ঝুঁকি

রবীন্দ্রনাথ আর কতদিন থাকবেন এই বাংলাদেশে?

০৭:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন কেউ ননযিনি কোন আরাধনার ঠাকুর। তাঁকে জন্ম ও মৃত্যু দিবসে বা নিয়ম করে স্মরণ করলেবা তাঁর উপলক্ষ্যে কয়েকটি গান গাইলেই বিষয়টি শেষ হয়ে গেল।

রবীন্দ্রনাথের কাছে প্রার্থনা করার কিছু নেই। রবীন্দ্রনাথ চর্চার এক মহাসাগর তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন। যাকে চর্চা করে একটি আধুনিক মানুষ গোষ্ঠী একটি বুদ্ধিবৃত্তিক শান্তির পৃথিবী গড়তে পারে।

মানুষের চিন্তার অজস্র দিক তিনি খুলে দিয়ে গেছেন। পৃথিবীর খুব কম চিন্তাবিদ লেখক এত বেশি চিন্তার দুয়ার মানুষের জন্যে খুলতে পেরেছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলোতিনি যা সৃষ্টি করে গেছেন সবই তাঁর লেখায়তাঁর ছবিতে। সুরেও আছে। তবে সুরের বাইরেই সিংহভাগ। তাই তাঁকে স্মরণ করতে হলেঅনুসরণ করতে হলেতাঁকে ঘিরে নিজের চিন্তার জগৎ বাড়াতে হলে তাঁর বই পড়তে হবে।

গত সপ্তাহের দুটো রিপোর্ট যা এই সারাক্ষণেই ছাপা হয়েছে ভাবানুবাদের মাধ্যমে। সেখানে একটি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে এ মুহূর্তে সব থেকে বেশি বই পড়ছে সাউথ ইস্ট এশিয়ার দেশগুলো এর ভেতর তারা চীন ও জাপানকেও ধরেছে। ইউরোপআমেরিকা ও ভারতের বই পড়ার হার স্থিতিশীল আছে। সেখানে বাংলাদেশপাকিস্তান বা আফগানিস্তানের কথা আসেনি। তবে অন্য একটি রিপোর্টে বাংলাদেশের কথা এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে সব থেকে কম বই (ছাপা ও পিডিএফ) পড়ে আফগানিস্তানের মানুষযার হার ২.৬৪ এবং তার ওপরে আছে বাংলাদেশ ২.৭৫%।

যে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের

বই পড়ার হার যখন এখানে চলে গেছে দেশের। আর দেশ যেভাবে এগিয়ে চলেছে তাতে রবীন্দ্র-নজরুলের অনেক লেখা তো বেশ আগেই পাঠ্যপুস্তক থেকে এক শ্রেণীর দাবির মুখে বাদ পড়েছে।

এছাড়া সম্প্রতি এক ছাত্রের অভিযোগএসএসসি পরীক্ষার একটি প্রশ্নে তাকে টিক মার্ক দিতে বলা হয়েছে। প্রশ্নে একটি কবিতা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে কবি এখানে কী প্রকাশ করতে চেয়েছেনকিন্তু যে কটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা মূলত কাছাকাছি বা একই অর্থ বহন করে। ছাত্রের প্রশ্নএখানে আমি কোনটাতে টিক মার্ক দেবওই ছাত্রের এ প্রশ্ন মূলত জাতির ভবিষ্যতের এক চরম ইঙ্গিত এবং তা অনেক গভীরে।

এর পরে আর খুব বেশিদিন কি আর রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশে থাকবেনরবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বর্তমানে যে নোংরা আলোচনা করে কিছু মানুষ সেগুলো কোন বিষয় নয়যে কোন সমাজে কিছু দুর্গন্ধ সব সময়ই থাকে। কিন্তু বই পড়ার হারটি তো বর্তমানের আফগানিস্তানের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। দেশটার গতি মুখটা তো ভাগ্যদোষে হোক আর চক্রান্তের ফলে হোক বর্তমানের আফগানিস্তানমুখী হয়ে গেছে।

তারপরেও আশা করি পৃথিবী সুস্থ হোকবাংলাদেশ অসুস্থতা থেকে বের হয়ে আসুক। রবীন্দ্রনাথ বাঙালির এই রক্তে ভেজা রাষ্ট্রের জাতির মননের মণি হয়েই থাকুন।