০৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দ্বন্দ্ব: শক্তির সীমা নাকি কৌশলের ব্যর্থতা? কদমতলীর সাদ্দাম মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট সাত সন্তান একসঙ্গে জন্ম, কিন্তু বাঁচল না কেউ: নড়াইলে শোকের ছায়া তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দৌড়ে বিজয়, গভর্নরের কাছে ১১৮ বিধায়কের সমর্থনের দাবি মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বর্ষায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা হরমুজ সংকটে ভারতের এলপিজি আমদানি অর্ধেকে, সরবরাহ সংকট দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা এআই কি মানবসভ্যতার জন্য নতুন হুমকি? মো গাওদাতের সতর্কবার্তায় গভীর উদ্বেগ আইপিএলে ব্যাটারদের দাপট, বোলারদের জন্য নিয়ম বদলের আহ্বান গাভাস্কারের অ্যামাজনের ৩ কোটি ডলারের কার্বন চুক্তি: ভারতের ধানচাষে নতুন সম্ভাবনা নাকি ‘গ্রিনওয়াশ’ বিতর্ক? বাবার শরীর, সন্তানের ভবিষ্যৎ: প্রজননস্বাস্থ্যের আলোচনায় পুরুষেরা কেন অনুপস্থিত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন মডেল ঘিরে হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ, বদলাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি এবার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। বিশেষ করে এমন কিছু উন্নত এআই মডেল সামনে এসেছে, যেগুলো নিজেরাই সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করতে পারে এবং সাইবার হামলার পথ খুলে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন আগের তুলনায় আরও কঠোর নজরদারি নীতির কথা ভাবছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেখানে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, গুগল, মাইক্রোসফট ও স্পেসএক্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় উঠে আসে, নতুন প্রজন্মের এআই মডেলগুলো স্থানীয় ব্যাংক, হাসপাতাল ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নতুন মডেল নিয়ে বাড়ছে সতর্কতা

বিশেষভাবে আলোচনায় আসে অ্যানথ্রপিকের নতুন এআই মডেল “মিথোস”। এই মডেল এতটাই উন্নত যে এটি নিজেই সফটওয়্যার দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারে। প্রশাসনের আশঙ্কা, যদি এই প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়ে, তাহলে বড় ধরনের সাইবার হামলা হতে পারে এবং ছোট শহর বা স্থানীয় প্রশাসন তা মোকাবিলা করতে পারবে না।

এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস একটি নতুন নির্বাহী আদেশ জারির বিষয় বিবেচনা করছে। এতে অত্যাধুনিক এআই মডেল বাজারে ছাড়ার আগে একটি আনুষ্ঠানিক তদারকি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অ্যানথ্রপিককে আপাতত “মিথোস” মডেলের ব্যবহার আরও বিস্তৃত না করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

White House Considers Vetting A.I. Models Before They Are Released - The New  York Times

ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত এআই খাতে কম নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত উদ্ভাবনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নতুন পরিস্থিতি প্রশাসনকে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

হোয়াইট হাউসের ভেতরেও এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি খাতের গতি কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনই কঠোর নীতিমালা না আনলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাতেও এআই নিরাপত্তা

আগামী সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে দুই দেশ এআই ঝুঁকি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার কথাও ভাবছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

এদিকে ওপেনএআইও তাদের উন্নত সাইবার সক্ষমতাসম্পন্ন নতুন মডেলের ব্যবহার সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সরকারকে আগেই বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এআই নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্কও। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কতটা কঠোর নীতি গ্রহণ করে এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাতে কীভাবে সাড়া দেয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক, ট্রাম্প প্রশাসন আনতে পারে কঠোর নজরদারি নীতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দ্বন্দ্ব: শক্তির সীমা নাকি কৌশলের ব্যর্থতা?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন মডেল ঘিরে হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ, বদলাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি

০৭:৪১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি এবার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। বিশেষ করে এমন কিছু উন্নত এআই মডেল সামনে এসেছে, যেগুলো নিজেরাই সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করতে পারে এবং সাইবার হামলার পথ খুলে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন আগের তুলনায় আরও কঠোর নজরদারি নীতির কথা ভাবছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেখানে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, গুগল, মাইক্রোসফট ও স্পেসএক্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় উঠে আসে, নতুন প্রজন্মের এআই মডেলগুলো স্থানীয় ব্যাংক, হাসপাতাল ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নতুন মডেল নিয়ে বাড়ছে সতর্কতা

বিশেষভাবে আলোচনায় আসে অ্যানথ্রপিকের নতুন এআই মডেল “মিথোস”। এই মডেল এতটাই উন্নত যে এটি নিজেই সফটওয়্যার দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারে। প্রশাসনের আশঙ্কা, যদি এই প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়ে, তাহলে বড় ধরনের সাইবার হামলা হতে পারে এবং ছোট শহর বা স্থানীয় প্রশাসন তা মোকাবিলা করতে পারবে না।

এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস একটি নতুন নির্বাহী আদেশ জারির বিষয় বিবেচনা করছে। এতে অত্যাধুনিক এআই মডেল বাজারে ছাড়ার আগে একটি আনুষ্ঠানিক তদারকি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অ্যানথ্রপিককে আপাতত “মিথোস” মডেলের ব্যবহার আরও বিস্তৃত না করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

White House Considers Vetting A.I. Models Before They Are Released - The New  York Times

ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত এআই খাতে কম নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত উদ্ভাবনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নতুন পরিস্থিতি প্রশাসনকে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

হোয়াইট হাউসের ভেতরেও এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি খাতের গতি কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনই কঠোর নীতিমালা না আনলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাতেও এআই নিরাপত্তা

আগামী সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে দুই দেশ এআই ঝুঁকি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার কথাও ভাবছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

এদিকে ওপেনএআইও তাদের উন্নত সাইবার সক্ষমতাসম্পন্ন নতুন মডেলের ব্যবহার সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সরকারকে আগেই বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এআই নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্কও। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কতটা কঠোর নীতি গ্রহণ করে এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাতে কীভাবে সাড়া দেয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক, ট্রাম্প প্রশাসন আনতে পারে কঠোর নজরদারি নীতি।