০৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সাত সন্তান একসঙ্গে জন্ম, কিন্তু বাঁচল না কেউ: নড়াইলে শোকের ছায়া তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দৌড়ে বিজয়, গভর্নরের কাছে ১১৮ বিধায়কের সমর্থনের দাবি মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বর্ষায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা হরমুজ সংকটে ভারতের এলপিজি আমদানি অর্ধেকে, সরবরাহ সংকট দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা এআই কি মানবসভ্যতার জন্য নতুন হুমকি? মো গাওদাতের সতর্কবার্তায় গভীর উদ্বেগ আইপিএলে ব্যাটারদের দাপট, বোলারদের জন্য নিয়ম বদলের আহ্বান গাভাস্কারের অ্যামাজনের ৩ কোটি ডলারের কার্বন চুক্তি: ভারতের ধানচাষে নতুন সম্ভাবনা নাকি ‘গ্রিনওয়াশ’ বিতর্ক? বাবার শরীর, সন্তানের ভবিষ্যৎ: প্রজননস্বাস্থ্যের আলোচনায় পুরুষেরা কেন অনুপস্থিত এআই উল্লাসে শেয়ারবাজার চাঙ্গা, উপসাগরীয় সংঘাতে তেলের দাম ১০১ ডলার ছুঁইছুঁই আটলান্টিক সাগরের স্রোত ভেঙে পড়লে বদলে যেতে পারে ভারতের বর্ষা, বাড়ছে বৈশ্বিক জলবায়ু বিপর্যয়ের আশঙ্কা

যমুনা তীরের ঘর ছাড়ার নোটিশে আতঙ্ক, ‘আমরা কোথায় যাব’ প্রশ্নে দিশেহারা শত শত পরিবার

দিল্লির যমুনা নদীর তীরঘেঁষা বন্যাপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী শত শত পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। উচ্ছেদের নোটিশ হাতে পাওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলবে কোথায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।

যমুনার তীরঘেঁষা ধোবি ঘাট এলাকায় বহু বছর ধরে বসবাস করছেন শ্রমজীবী মানুষরা। বেশিরভাগই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর প্রদেশ থেকে আসা মুসলিম অভিবাসী পরিবার। কেউ কাঠমিস্ত্রি, কেউ দিনমজুর, কেউবা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। তাদের সন্তানদের অনেকেই আশপাশের সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। কিন্তু এখন সবকিছুই অনিশ্চয়তার মুখে।

উচ্ছেদ নোটিশ ঘিরে আতঙ্ক

দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি আলাদা দুটি নোটিশ জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, যমুনার বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে থাকা বসতিগুলো ১৫ দিনের মধ্যে খালি করতে হবে। অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। প্রশাসনের দাবি, এসব এলাকা অবৈধ দখলে রয়েছে এবং বর্ষাকালে এখানে বসবাস করা ঝুঁকিপূর্ণ।

২২ বছর বয়সী মারজিনা জানান, কয়েক বছর পর উচ্ছেদ হলে হয়তো তারা অন্য কোথাও থাকার মতো কিছু টাকা জোগাড় করতে পারতেন। এখন হঠাৎ করে সব ছেড়ে কোথায় যাবেন, সেটাই বুঝতে পারছেন না। তার ভাষায়, এলাকায় নানা সমস্যা থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ করা অমানবিক।

Where will we go?' Families living along Yamuna floodplains get 15 days to vacate homes amid looming threat of eviction | Delhi News - The Indian Express

বাসাভাড়ার চাপ নতুন দুশ্চিন্তা

উচ্ছেদের শঙ্কার পাশাপাশি নতুন করে দেখা দিয়েছে বাড়িভাড়ার সমস্যা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের এলাকায় একটি ছোট ঘর ভাড়া নিতেও তিন থেকে ছয় হাজার রুপি পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর পক্ষে এত ভাড়া বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করা সুরজ মণ্ডল বলেন, পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে এত বেশি ভাড়া দিয়ে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন আরও অনেক বাসিন্দা। কেউ কেউ বলছেন, অতীতেও উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে, কিন্তু তখন পুনর্বাসনের কিছু সুযোগ ছিল। এবার সেই নিশ্চয়তাও নেই।

পুনর্বাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা

দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নোটিশে কিছু অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের কথা উল্লেখ থাকলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নোটিশে পুনর্বাসন বা আশ্রয়ের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেক পরিবার এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে সত্যিই তাদের ঘর ভেঙে ফেলা হতে পারে।

স্থানীয় অধিকারকর্মীরা বলছেন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য একই এলাকায় নির্মাণকাজ হয়েছে, অথচ গরিব মানুষের বসতিগুলোকে পরিবেশ রক্ষার যুক্তিতে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তাদের মতে, পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়া উচ্ছেদ সামাজিকভাবে অন্যায্য।

বর্ষার আগে প্রশাসনের এই পদক্ষেপে যমুনা তীরের পুরো এলাকায় এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— উচ্ছেদের পর এই মানুষগুলো কোথায় যাবে।

যমুনা তীরের উচ্ছেদ নোটিশে আতঙ্কে শত শত পরিবার, পুনর্বাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে

জনপ্রিয় সংবাদ

সাত সন্তান একসঙ্গে জন্ম, কিন্তু বাঁচল না কেউ: নড়াইলে শোকের ছায়া

যমুনা তীরের ঘর ছাড়ার নোটিশে আতঙ্ক, ‘আমরা কোথায় যাব’ প্রশ্নে দিশেহারা শত শত পরিবার

০৭:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

দিল্লির যমুনা নদীর তীরঘেঁষা বন্যাপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী শত শত পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। উচ্ছেদের নোটিশ হাতে পাওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলবে কোথায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।

যমুনার তীরঘেঁষা ধোবি ঘাট এলাকায় বহু বছর ধরে বসবাস করছেন শ্রমজীবী মানুষরা। বেশিরভাগই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর প্রদেশ থেকে আসা মুসলিম অভিবাসী পরিবার। কেউ কাঠমিস্ত্রি, কেউ দিনমজুর, কেউবা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। তাদের সন্তানদের অনেকেই আশপাশের সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। কিন্তু এখন সবকিছুই অনিশ্চয়তার মুখে।

উচ্ছেদ নোটিশ ঘিরে আতঙ্ক

দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি আলাদা দুটি নোটিশ জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, যমুনার বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে থাকা বসতিগুলো ১৫ দিনের মধ্যে খালি করতে হবে। অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। প্রশাসনের দাবি, এসব এলাকা অবৈধ দখলে রয়েছে এবং বর্ষাকালে এখানে বসবাস করা ঝুঁকিপূর্ণ।

২২ বছর বয়সী মারজিনা জানান, কয়েক বছর পর উচ্ছেদ হলে হয়তো তারা অন্য কোথাও থাকার মতো কিছু টাকা জোগাড় করতে পারতেন। এখন হঠাৎ করে সব ছেড়ে কোথায় যাবেন, সেটাই বুঝতে পারছেন না। তার ভাষায়, এলাকায় নানা সমস্যা থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ করা অমানবিক।

Where will we go?' Families living along Yamuna floodplains get 15 days to vacate homes amid looming threat of eviction | Delhi News - The Indian Express

বাসাভাড়ার চাপ নতুন দুশ্চিন্তা

উচ্ছেদের শঙ্কার পাশাপাশি নতুন করে দেখা দিয়েছে বাড়িভাড়ার সমস্যা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের এলাকায় একটি ছোট ঘর ভাড়া নিতেও তিন থেকে ছয় হাজার রুপি পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর পক্ষে এত ভাড়া বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করা সুরজ মণ্ডল বলেন, পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে এত বেশি ভাড়া দিয়ে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন আরও অনেক বাসিন্দা। কেউ কেউ বলছেন, অতীতেও উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে, কিন্তু তখন পুনর্বাসনের কিছু সুযোগ ছিল। এবার সেই নিশ্চয়তাও নেই।

পুনর্বাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা

দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নোটিশে কিছু অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের কথা উল্লেখ থাকলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নোটিশে পুনর্বাসন বা আশ্রয়ের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেক পরিবার এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে সত্যিই তাদের ঘর ভেঙে ফেলা হতে পারে।

স্থানীয় অধিকারকর্মীরা বলছেন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য একই এলাকায় নির্মাণকাজ হয়েছে, অথচ গরিব মানুষের বসতিগুলোকে পরিবেশ রক্ষার যুক্তিতে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তাদের মতে, পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়া উচ্ছেদ সামাজিকভাবে অন্যায্য।

বর্ষার আগে প্রশাসনের এই পদক্ষেপে যমুনা তীরের পুরো এলাকায় এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— উচ্ছেদের পর এই মানুষগুলো কোথায় যাবে।

যমুনা তীরের উচ্ছেদ নোটিশে আতঙ্কে শত শত পরিবার, পুনর্বাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে