০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের খেলাপি ঋণের চাপে ‘মোট শকে’ ব্যাংকিং খাত, সংসদে রেজা কিবরিয়ার কঠোর সমালোচনা ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার মেধাতালিকা ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের

অ্যাটেনবরোর ১০০তম জন্মদিন: প্রকৃতির বিস্ময়ের আড়ালে উপনিবেশিক নীরবতার দীর্ঘ ছায়া

ডেভিড অ্যাটেনবরোকে ছাড়া আধুনিক পৃথিবীর প্রকৃতি-চেতনার ইতিহাস কল্পনা করা কঠিন। কয়েক প্রজন্ম ধরে তিনি কোটি কোটি মানুষকে বন্যপ্রাণী, সমুদ্র, বন আর পৃথিবীর বিস্ময়কর জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠে প্রকৃতি শুধু দৃশ্যমান হয়নি, আবেগের বিষয়েও পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই বিশাল সাংস্কৃতিক প্রভাবের মধ্যেই লুকিয়ে আছে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন: প্রকৃতির সৌন্দর্যকে দেখানোর এই দীর্ঘ যাত্রা কি একই সঙ্গে প্রকৃতির ওপর উপনিবেশবাদী সহিংসতার ইতিহাসকেও আড়াল করেছে?

অ্যাটেনবরোর কাজের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর নান্দনিকতা। তিনি দর্শকদের সামনে এমন এক প্রকৃতির ছবি হাজির করেছেন, যা নির্মল, রহস্যময় এবং মানুষের সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু এই নির্মাণের মধ্যেই একটি রাজনৈতিক নীরবতা কাজ করেছে। কারণ প্রকৃতি কখনোই মানুষের ইতিহাস থেকে আলাদা নয়। বন, প্রাণী, নদী কিংবা পাহাড়—সবই ক্ষমতা, দখল, শোষণ এবং প্রতিরোধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। অথচ অ্যাটেনবরোর বহু কাজ সেই বাস্তবতাকে প্রায় অদৃশ্য করে দিয়েছে।

তাঁর জনপ্রিয়তার সূচনা ঘটে ‘জু কোয়েস্ট’ সিরিজ দিয়ে। সেই সময় ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম এবং লন্ডনের চিড়িয়াখানা বিশ্বের নানা দেশ থেকে প্রাণী সংগ্রহ করে ইউরোপীয় দর্শকদের সামনে হাজির করত। এটিকে শুধু টেলিভিশন বিনোদন হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর ভেতরে ছিল উপনিবেশিক ক্ষমতার সেই পুরোনো যুক্তি—দক্ষিণের ভূখণ্ড ও জীবজগতকে পশ্চিমা কৌতূহলের উপকরণে পরিণত করা। আফ্রিকা বা এশিয়া তখন যেন ছিল এক ধরনের মঞ্চ, যেখানে ইউরোপ এসে ‘অজানা’ পৃথিবীকে আবিষ্কার করছে।

অ্যাটেনবরো পরবর্তী সময়ে স্বীকার করেছেন যে সেই যুগের দৃষ্টিভঙ্গি আজ গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু তিনি খুব কম ক্ষেত্রেই সরাসরি বলেছেন যে এই প্রকৃতি-চর্চার ভেতরে উপনিবেশিক আধিপত্য গভীরভাবে কাজ করেছিল। ফলে তাঁর নির্মিত বিস্ময়ের জগৎ অনেক সময় সেই সহিংস ইতিহাসকে আড়াল করেছে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় শক্তিগুলো প্রকৃতি ও মানুষ উভয়কেই নিয়ন্ত্রণ করেছে।

এই সমস্যার আরেকটি দিক রয়েছে সংরক্ষণ রাজনীতিতে। বহু দশক ধরে আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ নীতিতে একটি ধারণা শক্তিশালী ছিল—প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হলে মানুষকে বন থেকে সরাতে হবে। এই ‘ফর্ট্রেস কনজারভেশন’ মডেল এশিয়া ও আফ্রিকার বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করেছে। অথচ ইতিহাস বলছে, বহু বন ও জীববৈচিত্র্য টিকে আছে সেই জনগোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘস্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই।

100 years on Earth: Iconic naturalist Attenborough marks century | The  Daily Star

অ্যাটেনবরোর ডকুমেন্টারিগুলো প্রায়ই প্রকৃতিকে এমনভাবে দেখিয়েছে, যেন সেটি মানুষের উপস্থিতি ছাড়া এক পবিত্র অঞ্চল। এর ফলে দর্শকদের কাছে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে বন মানেই মানুষহীন বন্যতা। কিন্তু বাস্তব পৃথিবীতে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক এত সরল নয়। ইউরোপের বহু জাতীয় উদ্যানে যেমন শহর ও কৃষিকাজ সহাবস্থান করে, তেমনি দক্ষিণ এশিয়া বা আফ্রিকায়ও বহু সম্প্রদায় প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের ঐতিহ্য বহন করে এসেছে। এই বাস্তবতা অনুপস্থিত থাকলে সংরক্ষণ সহজেই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও দমননীতির অংশে পরিণত হয়।

ভারতের বাঘ সংরক্ষণ প্রসঙ্গেও একই ধরনের অসম্পূর্ণতা দেখা যায়। অ্যাটেনবরো যখন বলেন বাঘের জীবন আজ আগের চেয়ে কঠিন, তখন কথাটি আংশিক সত্য। কিন্তু যদি উপনিবেশিক শিকারনীতি, বন ধ্বংস এবং সাম্রাজ্যবাদী শোষণের ইতিহাস বাদ যায়, তাহলে বর্তমান সংকটের দায় যেন কেবল স্থানীয় সমাজের ওপর বর্তায়। বাস্তবে ব্রিটিশ শাসনামলেই ভারতে বাঘের বিপুল হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল। স্বাধীনতার পর নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ভারত বাঘ সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই জটিল ইতিহাস বাদ দিলে সমস্যার রাজনৈতিক চরিত্রও আড়াল হয়ে যায়।

জনসংখ্যা নিয়ে অ্যাটেনবরোর অবস্থানও বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি বহুবার জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে পরিবেশ সংকটের প্রধান কারণগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু পরিবেশ বিপর্যয়ের পেছনে বৈষম্যমূলক ভোগবাদী অর্থনীতি যে অনেক বড় ভূমিকা রাখে, তা তাঁর বক্তব্যে তুলনামূলকভাবে কম এসেছে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিশ্বের ধনী অংশের কার্বন নিঃসরণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তুলনায় বহুগুণ বেশি। ফলে সমস্যাটি শুধু “মানুষ বেশি” নয়; বরং কোন সমাজ কত সম্পদ ভোগ করছে, সেটিও কেন্দ্রীয় প্রশ্ন।

এই সমালোচনার অর্থ অবশ্য অ্যাটেনবরোর অবদান অস্বীকার করা নয়। প্রকৃতির প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ঐতিহাসিক। অসংখ্য বিজ্ঞানী, গবেষক ও পরিবেশকর্মী তাঁর কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য যে সৌন্দর্যের ভাষা যদি ক্ষমতার ইতিহাসকে নীরব করে দেয়, তাহলে সেই সৌন্দর্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

আজকের পরিবেশ আন্দোলন ধীরে ধীরে বুঝতে শিখছে যে প্রকৃতিকে রক্ষা করার অর্থ শুধু বন সংরক্ষণ নয়; বরং সেই মানুষগুলোর অধিকার রক্ষা করা, যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই পরিবেশের অংশ হয়ে বেঁচে আছে। বিস্ময় গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে ইতিহাস ও রাজনীতির মুখোমুখি হওয়াও সমান জরুরি। অ্যাটেনবরোর উত্তরাধিকার তাই একাধারে অনুপ্রেরণার এবং প্রশ্ন তোলার—দুটোই।

জনপ্রিয় সংবাদ

বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ

অ্যাটেনবরোর ১০০তম জন্মদিন: প্রকৃতির বিস্ময়ের আড়ালে উপনিবেশিক নীরবতার দীর্ঘ ছায়া

০৬:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

ডেভিড অ্যাটেনবরোকে ছাড়া আধুনিক পৃথিবীর প্রকৃতি-চেতনার ইতিহাস কল্পনা করা কঠিন। কয়েক প্রজন্ম ধরে তিনি কোটি কোটি মানুষকে বন্যপ্রাণী, সমুদ্র, বন আর পৃথিবীর বিস্ময়কর জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠে প্রকৃতি শুধু দৃশ্যমান হয়নি, আবেগের বিষয়েও পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই বিশাল সাংস্কৃতিক প্রভাবের মধ্যেই লুকিয়ে আছে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন: প্রকৃতির সৌন্দর্যকে দেখানোর এই দীর্ঘ যাত্রা কি একই সঙ্গে প্রকৃতির ওপর উপনিবেশবাদী সহিংসতার ইতিহাসকেও আড়াল করেছে?

অ্যাটেনবরোর কাজের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর নান্দনিকতা। তিনি দর্শকদের সামনে এমন এক প্রকৃতির ছবি হাজির করেছেন, যা নির্মল, রহস্যময় এবং মানুষের সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু এই নির্মাণের মধ্যেই একটি রাজনৈতিক নীরবতা কাজ করেছে। কারণ প্রকৃতি কখনোই মানুষের ইতিহাস থেকে আলাদা নয়। বন, প্রাণী, নদী কিংবা পাহাড়—সবই ক্ষমতা, দখল, শোষণ এবং প্রতিরোধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। অথচ অ্যাটেনবরোর বহু কাজ সেই বাস্তবতাকে প্রায় অদৃশ্য করে দিয়েছে।

তাঁর জনপ্রিয়তার সূচনা ঘটে ‘জু কোয়েস্ট’ সিরিজ দিয়ে। সেই সময় ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম এবং লন্ডনের চিড়িয়াখানা বিশ্বের নানা দেশ থেকে প্রাণী সংগ্রহ করে ইউরোপীয় দর্শকদের সামনে হাজির করত। এটিকে শুধু টেলিভিশন বিনোদন হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর ভেতরে ছিল উপনিবেশিক ক্ষমতার সেই পুরোনো যুক্তি—দক্ষিণের ভূখণ্ড ও জীবজগতকে পশ্চিমা কৌতূহলের উপকরণে পরিণত করা। আফ্রিকা বা এশিয়া তখন যেন ছিল এক ধরনের মঞ্চ, যেখানে ইউরোপ এসে ‘অজানা’ পৃথিবীকে আবিষ্কার করছে।

অ্যাটেনবরো পরবর্তী সময়ে স্বীকার করেছেন যে সেই যুগের দৃষ্টিভঙ্গি আজ গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু তিনি খুব কম ক্ষেত্রেই সরাসরি বলেছেন যে এই প্রকৃতি-চর্চার ভেতরে উপনিবেশিক আধিপত্য গভীরভাবে কাজ করেছিল। ফলে তাঁর নির্মিত বিস্ময়ের জগৎ অনেক সময় সেই সহিংস ইতিহাসকে আড়াল করেছে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় শক্তিগুলো প্রকৃতি ও মানুষ উভয়কেই নিয়ন্ত্রণ করেছে।

এই সমস্যার আরেকটি দিক রয়েছে সংরক্ষণ রাজনীতিতে। বহু দশক ধরে আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ নীতিতে একটি ধারণা শক্তিশালী ছিল—প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হলে মানুষকে বন থেকে সরাতে হবে। এই ‘ফর্ট্রেস কনজারভেশন’ মডেল এশিয়া ও আফ্রিকার বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করেছে। অথচ ইতিহাস বলছে, বহু বন ও জীববৈচিত্র্য টিকে আছে সেই জনগোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘস্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই।

100 years on Earth: Iconic naturalist Attenborough marks century | The  Daily Star

অ্যাটেনবরোর ডকুমেন্টারিগুলো প্রায়ই প্রকৃতিকে এমনভাবে দেখিয়েছে, যেন সেটি মানুষের উপস্থিতি ছাড়া এক পবিত্র অঞ্চল। এর ফলে দর্শকদের কাছে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে বন মানেই মানুষহীন বন্যতা। কিন্তু বাস্তব পৃথিবীতে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক এত সরল নয়। ইউরোপের বহু জাতীয় উদ্যানে যেমন শহর ও কৃষিকাজ সহাবস্থান করে, তেমনি দক্ষিণ এশিয়া বা আফ্রিকায়ও বহু সম্প্রদায় প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের ঐতিহ্য বহন করে এসেছে। এই বাস্তবতা অনুপস্থিত থাকলে সংরক্ষণ সহজেই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও দমননীতির অংশে পরিণত হয়।

ভারতের বাঘ সংরক্ষণ প্রসঙ্গেও একই ধরনের অসম্পূর্ণতা দেখা যায়। অ্যাটেনবরো যখন বলেন বাঘের জীবন আজ আগের চেয়ে কঠিন, তখন কথাটি আংশিক সত্য। কিন্তু যদি উপনিবেশিক শিকারনীতি, বন ধ্বংস এবং সাম্রাজ্যবাদী শোষণের ইতিহাস বাদ যায়, তাহলে বর্তমান সংকটের দায় যেন কেবল স্থানীয় সমাজের ওপর বর্তায়। বাস্তবে ব্রিটিশ শাসনামলেই ভারতে বাঘের বিপুল হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল। স্বাধীনতার পর নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ভারত বাঘ সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই জটিল ইতিহাস বাদ দিলে সমস্যার রাজনৈতিক চরিত্রও আড়াল হয়ে যায়।

জনসংখ্যা নিয়ে অ্যাটেনবরোর অবস্থানও বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি বহুবার জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে পরিবেশ সংকটের প্রধান কারণগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু পরিবেশ বিপর্যয়ের পেছনে বৈষম্যমূলক ভোগবাদী অর্থনীতি যে অনেক বড় ভূমিকা রাখে, তা তাঁর বক্তব্যে তুলনামূলকভাবে কম এসেছে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিশ্বের ধনী অংশের কার্বন নিঃসরণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তুলনায় বহুগুণ বেশি। ফলে সমস্যাটি শুধু “মানুষ বেশি” নয়; বরং কোন সমাজ কত সম্পদ ভোগ করছে, সেটিও কেন্দ্রীয় প্রশ্ন।

এই সমালোচনার অর্থ অবশ্য অ্যাটেনবরোর অবদান অস্বীকার করা নয়। প্রকৃতির প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ঐতিহাসিক। অসংখ্য বিজ্ঞানী, গবেষক ও পরিবেশকর্মী তাঁর কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য যে সৌন্দর্যের ভাষা যদি ক্ষমতার ইতিহাসকে নীরব করে দেয়, তাহলে সেই সৌন্দর্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

আজকের পরিবেশ আন্দোলন ধীরে ধীরে বুঝতে শিখছে যে প্রকৃতিকে রক্ষা করার অর্থ শুধু বন সংরক্ষণ নয়; বরং সেই মানুষগুলোর অধিকার রক্ষা করা, যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই পরিবেশের অংশ হয়ে বেঁচে আছে। বিস্ময় গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে ইতিহাস ও রাজনীতির মুখোমুখি হওয়াও সমান জরুরি। অ্যাটেনবরোর উত্তরাধিকার তাই একাধারে অনুপ্রেরণার এবং প্রশ্ন তোলার—দুটোই।