০৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
কদমতলীর সাদ্দাম মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট সাত সন্তান একসঙ্গে জন্ম, কিন্তু বাঁচল না কেউ: নড়াইলে শোকের ছায়া তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দৌড়ে বিজয়, গভর্নরের কাছে ১১৮ বিধায়কের সমর্থনের দাবি মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বর্ষায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা হরমুজ সংকটে ভারতের এলপিজি আমদানি অর্ধেকে, সরবরাহ সংকট দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা এআই কি মানবসভ্যতার জন্য নতুন হুমকি? মো গাওদাতের সতর্কবার্তায় গভীর উদ্বেগ আইপিএলে ব্যাটারদের দাপট, বোলারদের জন্য নিয়ম বদলের আহ্বান গাভাস্কারের অ্যামাজনের ৩ কোটি ডলারের কার্বন চুক্তি: ভারতের ধানচাষে নতুন সম্ভাবনা নাকি ‘গ্রিনওয়াশ’ বিতর্ক? বাবার শরীর, সন্তানের ভবিষ্যৎ: প্রজননস্বাস্থ্যের আলোচনায় পুরুষেরা কেন অনুপস্থিত এআই উল্লাসে শেয়ারবাজার চাঙ্গা, উপসাগরীয় সংঘাতে তেলের দাম ১০১ ডলার ছুঁইছুঁই

টোকিওর পিৎজার বিশ্বজয়: জাপানি উপকরণে ইতালিয়ান স্বাদের নতুন বিপ্লব

একসময় টোকিওর পিৎজার পরিচয় ছিল ভুট্টা, মেয়োনিজ আর টুনা মাছের অদ্ভুত টপিংয়ে। কিন্তু সেই শহরই এখন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সেরা পিৎজার রাজধানী হিসেবে নতুন পরিচয় তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক ‘৫০ টপ পিৎজা এশিয়া-প্যাসিফিক’ তালিকায় টোকিওর সাতটি পিৎজার দোকান জায়গা করে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক খাদ্যবিশ্বে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে জাপানের পিৎজা সংস্কৃতি।

এই তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছে টোকিওর ‘রিস্তোপিৎজা বাই নাপোলি স্টা কা’। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘দ্য পিৎজা বার অন ৩৮থ’। অথচ এই দুই রেস্তোরাঁর পরিবেশে নেই কোনো বাড়তি আড়ম্বর। বরং সহজ, প্রাণবন্ত আর অতিথিবান্ধব পরিবেশই তাদের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।

নেপলস থেকে টোকিও: জিউসেপ্পে এরিকিয়েলোর যাত্রা

‘রিস্তোপিৎজা বাই নাপোলি স্টা কা’-এর প্রাণপুরুষ জিউসেপ্পে এরিকিয়েলো নিজেকে কখনো শেফ বলতে চান না। তিনি নিজেকে পরিচয় দেন ‘পিৎসাইওলো’ হিসেবে, অর্থাৎ পিৎজা তৈরির কারিগর। মাত্র ১২ বছর বয়সে নেপলসে তার চাচার পিৎজার দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। পরে ২০০৬ সালে জাপানে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

তার মতে, ভালো পিৎজার মূল রহস্য শুধু ডো বা টপিং নয়, ওভেনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি তিনি বলেন, “ওভেন যেন সন্তানের মতো। যত্ন না নিলে ভালো পিৎজা সম্ভব নয়।”

এরিকিয়েলো ইতালির বাফেলো মোজারেলা, অলিভ অয়েল ও সান মারজানো টমেটো ব্যবহার করলেও সবজি, ওয়াগিউ গরুর মাংস এবং অন্যান্য তাজা উপকরণ সংগ্রহ করেন জাপান থেকেই। তার ওমাকাসে মেনুতে ওয়াসাবি, ইউনাগি, সানশো মরিচ, ইউনির মতো জাপানি উপাদানও ব্যবহার করা হয়।

তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে জাপানি পিৎজা আরও বেশি স্থানীয় উপকরণ ও জাপানি রান্নার কৌশলের দিকে ঝুঁকবে। কারণ বিশ্বের বহু শীর্ষ শেফ ইতোমধ্যেই জাপানি রান্নার পদ্ধতি শিখতে জাপানে আসছেন।

Gino Sorbillo, Tokyo's Most Legit Pizza — As Seen In Japan

ওমাকাসে পিৎজার নতুন অভিজ্ঞতা

অন্যদিকে ‘দ্য পিৎজা বার অন ৩৮থ’-এর শেফ দানিয়েলে ক্যাসন টোকিওর পিৎজাকে তুলে ধরছেন ভিন্ন এক ধারায়। রোমান স্টাইলের পাতলা ও হালকা ডো দিয়ে তৈরি তার পিৎজায় থাকে জাপানের মৌসুমি উপকরণের ব্যবহার। অতিথিরা এখানে পুরো একটি পিৎজা নয়, বরং একাধিক স্বাদের স্লাইস চেখে দেখার সুযোগ পান।

বর্তমান বসন্তকালীন মেনুতে রয়েছে পাহাড়ি বুনো শাকসবজি ‘সানসাই’। এছাড়া কচি পেঁয়াজ, কালো ট্রাফল, সামুদ্রিক চিংড়ি ও কোচি অঞ্চলের শুকনো মাছের ডিমও ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন পিৎজায়।

ক্যাসনের ভাষায়, “আমি জাপানকে ইতালিয়ান আত্মা দিয়ে উপস্থাপন করতে চাই।” তিনি আরও বলেন, কৃষক ও উৎপাদকদের নাম মেনুতে উল্লেখ করার কারণ হলো তারাই প্রকৃত স্বাদের নেপথ্য নায়ক।

কেন এগিয়ে টোকিও?

‘৫০ টপ পিৎজা’ গাইডের সহ-সমন্বয়ক বারবারা গুয়েরার মতে, জাপানের কৃষক ও উৎপাদকদের উপকরণ সম্পর্কে গভীর জ্ঞানই দেশটিকে আলাদা করেছে। ২০২৬ সালের তালিকায় জাপানের ১১টি পিৎজার দোকান স্থান পেয়েছে, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তার মতে, টোকিওর সাফল্যের পেছনে রয়েছে স্থানীয় ও মৌসুমি উপকরণের প্রতি গুরুত্ব, উচ্চমানের কৃষিপণ্য এবং খাবারের প্রতি জাপানিদের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা।

এখন টোকিওর পিৎজা শুধু ইতালিয়ান খাবারের অনুকরণ নয়; বরং জাপানি সংস্কৃতি, উপকরণ ও কৌশলের সঙ্গে মিশে তৈরি হয়েছে এক নতুন খাদ্যপরিচয়।

টোকিওর সেরা পিৎজা

টোকিওর দুই পিৎজার দোকান এশিয়া-প্যাসিফিকের শীর্ষে উঠে এসে জাপানি উপকরণের নতুন শক্তি দেখাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কদমতলীর সাদ্দাম মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

টোকিওর পিৎজার বিশ্বজয়: জাপানি উপকরণে ইতালিয়ান স্বাদের নতুন বিপ্লব

০৭:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

একসময় টোকিওর পিৎজার পরিচয় ছিল ভুট্টা, মেয়োনিজ আর টুনা মাছের অদ্ভুত টপিংয়ে। কিন্তু সেই শহরই এখন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সেরা পিৎজার রাজধানী হিসেবে নতুন পরিচয় তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক ‘৫০ টপ পিৎজা এশিয়া-প্যাসিফিক’ তালিকায় টোকিওর সাতটি পিৎজার দোকান জায়গা করে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক খাদ্যবিশ্বে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে জাপানের পিৎজা সংস্কৃতি।

এই তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছে টোকিওর ‘রিস্তোপিৎজা বাই নাপোলি স্টা কা’। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘দ্য পিৎজা বার অন ৩৮থ’। অথচ এই দুই রেস্তোরাঁর পরিবেশে নেই কোনো বাড়তি আড়ম্বর। বরং সহজ, প্রাণবন্ত আর অতিথিবান্ধব পরিবেশই তাদের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।

নেপলস থেকে টোকিও: জিউসেপ্পে এরিকিয়েলোর যাত্রা

‘রিস্তোপিৎজা বাই নাপোলি স্টা কা’-এর প্রাণপুরুষ জিউসেপ্পে এরিকিয়েলো নিজেকে কখনো শেফ বলতে চান না। তিনি নিজেকে পরিচয় দেন ‘পিৎসাইওলো’ হিসেবে, অর্থাৎ পিৎজা তৈরির কারিগর। মাত্র ১২ বছর বয়সে নেপলসে তার চাচার পিৎজার দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। পরে ২০০৬ সালে জাপানে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

তার মতে, ভালো পিৎজার মূল রহস্য শুধু ডো বা টপিং নয়, ওভেনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি তিনি বলেন, “ওভেন যেন সন্তানের মতো। যত্ন না নিলে ভালো পিৎজা সম্ভব নয়।”

এরিকিয়েলো ইতালির বাফেলো মোজারেলা, অলিভ অয়েল ও সান মারজানো টমেটো ব্যবহার করলেও সবজি, ওয়াগিউ গরুর মাংস এবং অন্যান্য তাজা উপকরণ সংগ্রহ করেন জাপান থেকেই। তার ওমাকাসে মেনুতে ওয়াসাবি, ইউনাগি, সানশো মরিচ, ইউনির মতো জাপানি উপাদানও ব্যবহার করা হয়।

তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে জাপানি পিৎজা আরও বেশি স্থানীয় উপকরণ ও জাপানি রান্নার কৌশলের দিকে ঝুঁকবে। কারণ বিশ্বের বহু শীর্ষ শেফ ইতোমধ্যেই জাপানি রান্নার পদ্ধতি শিখতে জাপানে আসছেন।

Gino Sorbillo, Tokyo's Most Legit Pizza — As Seen In Japan

ওমাকাসে পিৎজার নতুন অভিজ্ঞতা

অন্যদিকে ‘দ্য পিৎজা বার অন ৩৮থ’-এর শেফ দানিয়েলে ক্যাসন টোকিওর পিৎজাকে তুলে ধরছেন ভিন্ন এক ধারায়। রোমান স্টাইলের পাতলা ও হালকা ডো দিয়ে তৈরি তার পিৎজায় থাকে জাপানের মৌসুমি উপকরণের ব্যবহার। অতিথিরা এখানে পুরো একটি পিৎজা নয়, বরং একাধিক স্বাদের স্লাইস চেখে দেখার সুযোগ পান।

বর্তমান বসন্তকালীন মেনুতে রয়েছে পাহাড়ি বুনো শাকসবজি ‘সানসাই’। এছাড়া কচি পেঁয়াজ, কালো ট্রাফল, সামুদ্রিক চিংড়ি ও কোচি অঞ্চলের শুকনো মাছের ডিমও ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন পিৎজায়।

ক্যাসনের ভাষায়, “আমি জাপানকে ইতালিয়ান আত্মা দিয়ে উপস্থাপন করতে চাই।” তিনি আরও বলেন, কৃষক ও উৎপাদকদের নাম মেনুতে উল্লেখ করার কারণ হলো তারাই প্রকৃত স্বাদের নেপথ্য নায়ক।

কেন এগিয়ে টোকিও?

‘৫০ টপ পিৎজা’ গাইডের সহ-সমন্বয়ক বারবারা গুয়েরার মতে, জাপানের কৃষক ও উৎপাদকদের উপকরণ সম্পর্কে গভীর জ্ঞানই দেশটিকে আলাদা করেছে। ২০২৬ সালের তালিকায় জাপানের ১১টি পিৎজার দোকান স্থান পেয়েছে, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তার মতে, টোকিওর সাফল্যের পেছনে রয়েছে স্থানীয় ও মৌসুমি উপকরণের প্রতি গুরুত্ব, উচ্চমানের কৃষিপণ্য এবং খাবারের প্রতি জাপানিদের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা।

এখন টোকিওর পিৎজা শুধু ইতালিয়ান খাবারের অনুকরণ নয়; বরং জাপানি সংস্কৃতি, উপকরণ ও কৌশলের সঙ্গে মিশে তৈরি হয়েছে এক নতুন খাদ্যপরিচয়।

টোকিওর সেরা পিৎজা

টোকিওর দুই পিৎজার দোকান এশিয়া-প্যাসিফিকের শীর্ষে উঠে এসে জাপানি উপকরণের নতুন শক্তি দেখাচ্ছে।