বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ঘিরে উত্তেজনা ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে বাধা দেওয়া, টেবিল সরিয়ে ফেলা এবং আয়োজকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন আয়োজকরা।
শুক্রবার দুপুরের দিকে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়ামের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষার্থী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

নির্ধারিত স্থানে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে সংবাদ সম্মেলনের জন্য রাখা টেবিল সরিয়ে ফেলা হয় এবং আয়োজকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও কলার ধরা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
হাফিজুর রহমান সিয়াম দাবি করেন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলাকালে তাকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রদলের
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রিফাত রাফি। তার দাবি, হাফিজুর রহমান সিয়াম আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠনের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান জানান, সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেওয়া শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি সেখানে কথা বলছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















