ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনে চমক সৃষ্টি করেছেন চলচ্চিত্র তারকা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বিজয়। তার দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগম (টিভিকে) অভাবনীয় সাফল্য পেয়ে প্রায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
অখ্যাত প্রার্থীও জিতলেন বড় ব্যবধানে
মাদুরাই সেন্ট্রাল আসনে টিভিকে প্রার্থী মাধার বাধুরুদ্দিন—যিনি একজন সাধারণ মাংস ব্যবসায়ী—প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিশালী প্রার্থীদের হারিয়ে ১৯ হাজার ভোটের বেশি ব্যবধানে জয় পান। যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা ছিলেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রিয় অভিনেতা।
মাঠে কম, অনলাইনে বেশি সক্রিয় প্রচারণা
নির্বাচনী প্রচারণায় বিজয় নিজে খুব কম সময় মাঠে ছিলেন। বড় সমাবেশ বা প্রচলিত রাজনৈতিক কার্যক্রমের বদলে তার দল জোর দেয় ডিজিটাল প্রচারণায়।

সোশ্যাল মিডিয়াই গড়ে দেয় ‘রাজনৈতিক ঢেউ’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া বড় ভূমিকা রেখেছে। ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে হাজার হাজার কর্মী নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালান।
বিজয়ের বক্তব্যগুলো ছোট ভিডিওতে রূপান্তর করে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
৯০ মিলিয়ন ভিউ—ডিজিটাল শক্তির প্রমাণ
মাদুরাইয়ের এক সম্মেলনে বিজয়ের একটি ভিডিও মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৯ কোটি ভিউ পায়। এটি তার জনপ্রিয়তা ও ডিজিটাল প্রভাবের বড় উদাহরণ।
৩০ বছরের ফ্যানবেসই রাজনৈতিক শক্তি
দীর্ঘ ৩০ বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে বিজয় প্রায় ৮৫ হাজার ফ্যান ক্লাব গড়ে তুলেছেন। এই ফ্যানবেসই পরে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক ও ডিজিটাল বাহিনীতে রূপ নেয়।

নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে এই কৌশল
বিশেষ করে তরুণ (Gen Z) ও নারী ভোটারদের মধ্যে এই ডিজিটাল প্রচারণা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রচলিত জনমত জরিপগুলোও এই ঢেউ ধরতে পারেনি।
তবে সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনে জয় পাওয়া যতটা কঠিন, ক্ষমতায় এসে তা ধরে রাখা আরও কঠিন। বিজয়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
নতুন ইতিহাসের শুরু
সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে বিজয়ের এই জয় একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আসল পরীক্ষা এখনই শুরু।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















