ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকু অঞ্চলের ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় তিন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন সিঙ্গাপুরের নাগরিক এবং একজন ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরিটিতে প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে।
ঘটনার সময় গাইড হিসেবে থাকা রেজা সেলাং জানান, বিস্ফোরণের মুহূর্তটি ছিল একেবারে বিভীষিকাময়। তার ভাষায়, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে আসা বিশাল পাথর দুই পর্বতারোহীকে চাপা দেয়। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
হঠাৎ বদলে যায় পরিস্থিতি
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ২০ সদস্যের একটি দল ডুকোনো পাহাড়ে আরোহণ শুরু করে। দলে ছিলেন ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের অভিযাত্রীরা। গাইড রেজা দাবি করেন, আরোহণের সময় আগ্নেয়গিরিতে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। এমনকি পরদিন সকালে শীর্ষে ওঠার সময়ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

রেজা ড্রোন উড়িয়ে আগ্নেয়গিরির মুখ পরীক্ষা করেছিলেন। তার দাবি, তখন ধোঁয়া বা বিস্ফোরণের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। পরে কয়েকজন অভিযাত্রী আগ্নেয়গিরির ক্রেটারের আরও কাছে যান। ঠিক তখনই শুরু হয় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত।
মুহূর্তেই মৃত্যু
রেজার বর্ণনায় জানা যায়, প্রথম বিস্ফোরণে ধোঁয়া বের হলেও দ্বিতীয় বিস্ফোরণে আগ্নেয়গিরি থেকে গরম ছাই, পাথর ও আগ্নেয় উপাদান ছিটকে বের হয়। আতঙ্কে সবাই নিচের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন।
এ সময় এক সিঙ্গাপুরীয় পর্বতারোহী আহত অবস্থায় পড়ে যান। তাকে উদ্ধার করতে গেলে আরেক অভিযাত্রী ফিরে আসেন। ঠিক তখনই প্রায় দুই মিটার আকারের একটি বিশাল পাথর তাদের ওপর এসে পড়ে। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। পরে আরও একজন নিখোঁজ অভিযাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আগেই ছিল নিষেধাজ্ঞা
ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মার্চের শেষ দিক থেকে ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে দুই শতাধিক অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকেই সেখানে আরোহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আগ্নেয়গিরির চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা ছিল।

তবে গাইড রেজা দাবি করেছেন, তিনি ওই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতেন না। স্থানীয় সহযোগীরাও তাকে কিছু জানাননি বলে তিনি দাবি করেন।
তদন্ত শুরু
ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযানে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রেজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তার ড্রোনের ভিডিও ফুটেজ তদন্তকারীদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, আইনগত যে পরিণতিই আসুক, সেটি মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ভূতাত্ত্বিক এলাকার মধ্যে পড়ে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















