বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে চীন সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তবে এই সফরের সময়সূচি ও বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবির বলেন, চীন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী দেশ। সফরের বিষয়ে সবকিছু চূড়ান্ত হলে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চীন সফর এবং তিস্তা প্রকল্প নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ নিয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকে।
তিস্তা প্রকল্পে অগ্রগতি

হুমায়ুন কবির জানান, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে চীনের এক্সিম ব্যাংক।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের সমীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সুপারিশ নিয়েও কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে আরও বিস্তারিত আলোচনা ও পরামর্শ প্রয়োজন হবে।
তার ভাষায়, এখনো অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য আরও সময় লাগবে।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার
গত ৫ থেকে ৭ মে চীন সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সফরে দুই দেশের মধ্যে বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সফরে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানি সম্পদ, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে চীনের সহায়তার প্রশংসাও জানানো হয় বৈঠকে।
ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই এই সম্পর্কের ভিত্তি শক্তিশালী হতে শুরু করে।
চীনকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার পাশাপাশি তিস্তা প্রকল্পের অগ্রগতি এখন দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















