০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র

কুষ্টিয়ায় অসমাপ্ত ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অসমাপ্ত ড্রেনের পানিতে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে পৌর এলাকার এলাঙ্গি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ ইফাত। তার বয়স ছিল ছয় বছর। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল তিনটার দিকে চাচাতো ভাই সামাদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয় ইফাত। তারা ছাগল চরাতে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পার হলেও ইফাত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বিকেল চারটার দিকে মানিক শেখের বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ড্রেনের পাশে ইফাতের স্যান্ডেল দেখতে পান স্বজনরা। পরে ড্রেনের পানিভর্তি গর্ত থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলকাতায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, যা বললেন মেয়র

অসমাপ্ত প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে মানিক শেখের বাড়ি থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত প্রায় পাঁচশ মিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় পৌরসভা। বর্ষার আগেই খননকাজ শেষ হলেও এরপর আর নির্মাণকাজ এগোয়নি। ফলে বড় গর্তে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে ছিল।

এলাকাবাসীর দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শোকের ছায়া পরিবারে

শিশুর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। ইফাতের মা শারমিন আক্তার বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। সন্তানের মৃত্যুতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার বাবা কামরুল হাসানও। তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ড্রেন নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার লিটন আলী জানিয়েছেন, তিনি প্রকল্পের কাজ দেখভাল করছিলেন, তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না।

প্রশাসনের অবস্থান

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পেছনে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন

কুষ্টিয়ায় অসমাপ্ত ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

১১:৩৫:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অসমাপ্ত ড্রেনের পানিতে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে পৌর এলাকার এলাঙ্গি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ ইফাত। তার বয়স ছিল ছয় বছর। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল তিনটার দিকে চাচাতো ভাই সামাদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয় ইফাত। তারা ছাগল চরাতে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পার হলেও ইফাত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বিকেল চারটার দিকে মানিক শেখের বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ড্রেনের পাশে ইফাতের স্যান্ডেল দেখতে পান স্বজনরা। পরে ড্রেনের পানিভর্তি গর্ত থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলকাতায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, যা বললেন মেয়র

অসমাপ্ত প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে মানিক শেখের বাড়ি থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত প্রায় পাঁচশ মিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় পৌরসভা। বর্ষার আগেই খননকাজ শেষ হলেও এরপর আর নির্মাণকাজ এগোয়নি। ফলে বড় গর্তে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে ছিল।

এলাকাবাসীর দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শোকের ছায়া পরিবারে

শিশুর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। ইফাতের মা শারমিন আক্তার বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। সন্তানের মৃত্যুতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার বাবা কামরুল হাসানও। তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ড্রেন নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার লিটন আলী জানিয়েছেন, তিনি প্রকল্পের কাজ দেখভাল করছিলেন, তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না।

প্রশাসনের অবস্থান

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পেছনে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।