বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু করতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে অকার্যকর প্রতিষ্ঠান বা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের জন্য কোনো ধরনের সামগ্রিক প্রণোদনা বা আর্থিক ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিল্প উদ্যোক্তাদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান।
বন্ধ শিল্প নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা দেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই সহায়তা দেওয়া হবে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে।

বৈঠক শেষে ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের চেয়ারম্যান ও একটি শিল্পগ্রুপের প্রধান আবদুল হাই সরকার বলেন, কোন কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে তা আগে খতিয়ে দেখা হবে। বিদ্যুৎ সংকট, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া কিংবা ক্রেতা সংকটের মতো বাস্তব কারণ থাকলে সেসব প্রতিষ্ঠানকে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব প্রকৃত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িক মূলধন সংকটে পড়ে উৎপাদন বন্ধ করেছে, তাদের সহায়তা দিয়ে আবার উৎপাদনে ফেরানো এবং খেলাপি ঋণ ঠেকানোই হবে মূল লক্ষ্য।
ব্যাংক রেজল্যুশন আইন নিয়ে শঙ্কা
বৈঠকে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়েও আলোচনা হয়। ব্যবসায়ী নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ধারার অপব্যবহার হলে অতীতে ব্যাংক খাতে অনিয়মে জড়িত কিছু ব্যক্তি আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে পারেন।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনের শর্তগুলো এতটাই কঠোর যে বিতর্কিত ব্যক্তিদের জন্য সেই সুযোগ পাওয়া বাস্তবে কঠিন হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সরকারকে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান, যাতে ব্যাংক খাতে আবারও অনিয়মের সংস্কৃতি তৈরি না হয়।
পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ বহাল
বৈঠকে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার পরিকল্পনার বিষয়টিও উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এ সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। গভর্নর মনে করেন, ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল ও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে এই একীভূতকরণ জরুরি।
নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণের দাবি
শিল্প উদ্যোক্তারা বড় ধরনের অর্থনৈতিক নীতি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও বেশি আলোচনা করার আহ্বান জানান। তাদের মতে, মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে নীতিনির্ধারণ আরও কার্যকর হবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















