কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য আলাদা কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। “কক্সবাজারে সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে” শীর্ষক এই কর্মসূচির আয়োজন করে কক্সবাজার সিএসও–এনজিও ফোরাম।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও দুর্বল রয়েছে। এতে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা সীমান্তে বিজিবির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা, সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় স্থানীয় জনগণ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় এনজিওদের বঞ্চনার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় এনজিওগুলোকে অংশীদার না করে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। এতে স্থানীয় সংগঠনগুলো আর্থিক ও কার্যক্রমগতভাবে পিছিয়ে পড়ছে।
ফোরামের নেতারা দাবি করেন, মানবিক সহায়তার বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ হলেও স্থানীয় এনজিওগুলো সেই সহায়তার যথাযথ অংশ পাচ্ছে না। তারা আইন করে স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান।
স্থায়ী অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কিছু সংস্থা স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এতে ভবিষ্যতে আরও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ উৎসাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

এ সময় ক্যাম্প এলাকায় ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেও দাবি করা হয়।
পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতি
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশবাদীরা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প নির্মাণের কারণে বিপুল বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। এতে জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, ক্যাম্পের বর্জ্যের কারণে আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কৃষকরা উৎপাদন কমে যাওয়াসহ নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের দাবি

বক্তারা রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রত্যাবাসন কমিশন গঠনের ওপর জোর দেন তারা।
তাদের মতে, স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে সংকট আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার মধ্যেই এসব দাবি সামনে এলো।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















