সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক জুলাই আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। এর ফলে তার বিরুদ্ধে থাকা সবগুলো মামলায় জামিন সম্পন্ন হয়েছে এবং মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ও অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, নতুন দুই মামলায় জামিন পাওয়ার মধ্য দিয়ে খায়রুল হক সব সাতটি মামলায় জামিন নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় মুক্তিতে আর আইনি বাধা নেই।
আগের পাঁচ মামলায়ও জামিন বহাল
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগ খায়রুল হকের পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন। এসব মামলার মধ্যে ছিল জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী হত্যার মামলা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় বিকৃতির অভিযোগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলা।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ সে সময় রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে দেন।
এরও আগে গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের বেঞ্চ চারটি মামলায় রুল জারি করে তাকে জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলাতেও জামিন পান তিনি। তবে এসব জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল।
পরবর্তীতে নিম্ন আদালতে তাকে আরও দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সর্বশেষ সেই দুই মামলাতেই মঙ্গলবার জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট।
গ্রেপ্তার ও মামলার পটভূমি
২০২৪ সালের ২৪ জুলাই ঢাকার ধানমন্ডির বাসা থেকে এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহমেদ হত্যার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার রায় পরিবর্তনের অভিযোগে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়। একই ধরনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানাতেও আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
গত বছরের ৪ আগস্ট প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনও তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে।
নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন এবং ধাপে ধাপে সব মামলায় জামিন লাভ করেন।
বিচারপতি থেকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান
এবিএম খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যাওয়ার পর তিনি তিন দফায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
খায়রুল হকের সব মামলায় জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক দুই হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। সব সাত মামলায় জামিন পাওয়ায় মুক্তিতে আর বাধা নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















