দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক অধ্যায়ের পর হাঙ্গেরিতে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজার দায়িত্ব নিয়েই গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজধানী বুদাপেস্টে তার শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল বিশেষ আয়োজন ও প্রতীকী বার্তা।
ইউরোপ দিবসেই শপথ
৯ মে ইউরোপ দিবসে শপথ নেন পিটার মাজার। এই দিনটি বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি হাঙ্গেরির নতুন অঙ্গীকার তুলে ধরতে চেয়েছেন। বুদাপেস্টের ঐতিহাসিক পার্লামেন্ট ভবনে শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংগীতও পরিবেশিত হয়।
দিনের দ্বিতীয় ভাগে রাজধানীর কশুথ স্কয়ারে হাজারো মানুষ “শাসন পরিবর্তন” উদযাপনে অংশ নেন। সেখানে মাজার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, হাঙ্গেরি আবার গণতান্ত্রিক পথে ফিরছে এবং দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চ্যালেঞ্জ
নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। আগের সরকারের বিরুদ্ধে আইনের শাসন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ইউরোর তহবিল আটকে রেখেছে ইইউ। এই অর্থ হাঙ্গেরির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পিটার মাজার জানিয়েছেন, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি ইউরোপীয় তহবিল জালিয়াতি ও দুর্নীতির তদন্তে কাজ করা ইউরোপীয় প্রসিকিউটর কার্যালয়ে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন।
দুর্নীতি দমন ও বিচার সংস্কারে জোর
নতুন সরকার অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতে মামলা বণ্টনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
নতুন মুখে সাজানো মন্ত্রিসভা
পিটার মাজারের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ পেশাজীবী ও নতুন মুখ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন জ্বালানি ও কূটনীতি বিশেষজ্ঞ আনিতা অরবান। অর্থমন্ত্রী করা হয়েছে বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তা ইস্তভান কাপিতানিকে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হয়েছেন সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান রোমুলুস রুশিন-সেন্দি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোল্ট হেগেদুস ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তার প্রাণবন্ত উপস্থিতির কারণে।
তবে সরকারের শুরুতেই একটি বিতর্ক তৈরি হয়। পিটার মাজার তার শ্যালক মার্তোন মেলেতেই-বার্নাকে বিচারমন্ত্রী করার ঘোষণা দিলে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগের সরকারের দীর্ঘদিনের স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের অভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষ এখন এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনেক বেশি সংবেদনশীল।
হাঙ্গেরির নতুন সরকার এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে গণতন্ত্র পুনর্গঠন, দুর্নীতি দমন এবং আন্তর্জাতিক আস্থা ফিরিয়ে আনার লড়াই একসঙ্গে সামলাতে হবে। পিটার মাজারের সামনে তাই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















