০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা বিমানের ওয়েবসাইটে ‘অনটাইম’, বাস্তবে ২২ ঘণ্টা বিলম্ব: সিলেট-জেদ্দা ফ্লাইটে ৮ শতাধিক যাত্রীর দুর্ভোগ বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগ, বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান আজহারির ঢাকা ক্লাবের ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেইন লাউঞ্জ ঝুঁকিতে, জরুরি প্রকৌশল মূল্যায়নের তাগিদ ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ডিএমপি ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ, বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রতিবন্ধী সেবার অধিকার সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলের আহ্বান খেলনা গাড়ির চাকার হুইলচেয়ারে নতুন জীবন পেল আহত বিড়ালছানা জেলাটো কাবেরীর পানি নিয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু, কর্ণাটকের বিরুদ্ধে আদেশ অমান্যের অভিযোগ এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ মাঝআকাশে ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল কেন? বর্ষার আকাশে টার্বুলেন্সের ঝুঁকি ব্যাখ্যা

রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে ধাক্কা, ইউক্রেনের পাল্টা আঘাতে বদলাচ্ছে যুদ্ধের চিত্র

মস্কোর রেড স্কয়ারে এবারের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ ছিল এক ভিন্ন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বহু বছর পর সেখানে দেখা যায়নি ভারী ট্যাংকের গর্জন। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে রাশিয়া নিজেই সাঁজোয়া যান সরিয়ে রাখে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার আশঙ্কায় রাজধানীজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেটও সীমিত করা হয়। যুদ্ধের তিন বছরের মাথায় এই দৃশ্য অনেক বিশ্লেষকের চোখে রাশিয়ার দুর্বলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে পাল্টে যাচ্ছে পরিস্থিতি

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধের গতি কিছুটা হলেও ইউক্রেনের পক্ষে ঘুরতে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়ার প্রত্যাশিত বসন্তকালীন অভিযান কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারেনি। বরং এপ্রিল মাসে রুশ বাহিনী নতুন এলাকা দখলের বদলে কিছু অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনের পাল্টা হামলা, মাঝারি পাল্লার ড্রোন ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি রাশিয়ার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

ড্রোন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

এই যুদ্ধে এখন সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ড্রোন। বিশেষ করে ছোট আকারের আত্মঘাতী ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। রুশ সেনাদের অভিযোগ, ইউক্রেনের নতুন প্রজন্মের ড্রোন প্রায় নিঃশব্দে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। অনেক ড্রোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা এগুলোকে আরও কার্যকর করে তুলছে।

যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সামনের যুদ্ধরেখার আশপাশে এখন এমন একটি এলাকা তৈরি হয়েছে যেখানে যেকোনো যানবাহন বা সেনা চলাচল সহজেই ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে। এতে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

Socially Inclusive and Exclusive Warfighting: Comparing Ukraine and Russia's Ways of War | DGAP

রাশিয়ার বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি

প্রতিমাসে বিপুলসংখ্যক রুশ সেনা হতাহত হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছে রাশিয়া। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের আধিপত্যের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই আহত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রাখার অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে ইউক্রেনের গভীর পাল্টা হামলাও বাড়ছে। সীমান্ত থেকে অনেক দূরের তেল স্থাপনা, গোলাবারুদ গুদাম এবং সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশটির অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুতিনের সামনে কঠিন বাস্তবতা

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের পথ স্পষ্ট নয়। যদিও মস্কো এখনও বড় আকারের নতুন আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবু সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সহজ হবে না।

এই যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক সংঘর্ষ নয়, প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং ধৈর্যের লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে। আর সেই লড়াইয়ে প্রতিদিনই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা

রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে ধাক্কা, ইউক্রেনের পাল্টা আঘাতে বদলাচ্ছে যুদ্ধের চিত্র

০৫:৪২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

মস্কোর রেড স্কয়ারে এবারের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ ছিল এক ভিন্ন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বহু বছর পর সেখানে দেখা যায়নি ভারী ট্যাংকের গর্জন। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে রাশিয়া নিজেই সাঁজোয়া যান সরিয়ে রাখে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার আশঙ্কায় রাজধানীজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেটও সীমিত করা হয়। যুদ্ধের তিন বছরের মাথায় এই দৃশ্য অনেক বিশ্লেষকের চোখে রাশিয়ার দুর্বলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে পাল্টে যাচ্ছে পরিস্থিতি

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধের গতি কিছুটা হলেও ইউক্রেনের পক্ষে ঘুরতে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়ার প্রত্যাশিত বসন্তকালীন অভিযান কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারেনি। বরং এপ্রিল মাসে রুশ বাহিনী নতুন এলাকা দখলের বদলে কিছু অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনের পাল্টা হামলা, মাঝারি পাল্লার ড্রোন ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি রাশিয়ার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

ড্রোন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

এই যুদ্ধে এখন সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ড্রোন। বিশেষ করে ছোট আকারের আত্মঘাতী ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। রুশ সেনাদের অভিযোগ, ইউক্রেনের নতুন প্রজন্মের ড্রোন প্রায় নিঃশব্দে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। অনেক ড্রোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা এগুলোকে আরও কার্যকর করে তুলছে।

যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সামনের যুদ্ধরেখার আশপাশে এখন এমন একটি এলাকা তৈরি হয়েছে যেখানে যেকোনো যানবাহন বা সেনা চলাচল সহজেই ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে। এতে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

Socially Inclusive and Exclusive Warfighting: Comparing Ukraine and Russia's Ways of War | DGAP

রাশিয়ার বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি

প্রতিমাসে বিপুলসংখ্যক রুশ সেনা হতাহত হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছে রাশিয়া। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের আধিপত্যের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই আহত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রাখার অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে ইউক্রেনের গভীর পাল্টা হামলাও বাড়ছে। সীমান্ত থেকে অনেক দূরের তেল স্থাপনা, গোলাবারুদ গুদাম এবং সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশটির অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুতিনের সামনে কঠিন বাস্তবতা

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের পথ স্পষ্ট নয়। যদিও মস্কো এখনও বড় আকারের নতুন আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবু সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সহজ হবে না।

এই যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক সংঘর্ষ নয়, প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং ধৈর্যের লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে। আর সেই লড়াইয়ে প্রতিদিনই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।