কন্নড় অভিনেতা দর্শনকে ঘিরে চলা আলোচিত হত্যা মামলার মধ্যে এবার আবেগঘন এক মুহূর্ত সামনে এল। বিবাহবার্ষিকীর দিন বেঙ্গালুরুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে অভিনেতার সঙ্গে দেখা করলেন তার স্ত্রী বিজয়লক্ষ্মী ও ছেলে বিনীশ। দীর্ঘ সময় পর পরিবারের এই সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে দর্শনের ব্যক্তিগত জীবন।
কারাগারে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নজরদারির মধ্যেই দর্শনের সঙ্গে দেখা করেন তার স্ত্রী ও ছেলে। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে তাদের মধ্যে কথা হয়। পুরো সাক্ষাৎকারই সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল এবং কারা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তা সম্পন্ন হয়।
২০০৩ সালের ১৯ মে কর্ণাটকের ধর্মস্থল মন্দিরে বিজয়লক্ষ্মীর সঙ্গে বিয়ে করেছিলেন দর্শন। সেই বিবাহবার্ষিকীর দিনেই কারাগারে এই সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
![]()
সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা
সাক্ষাতের পর সামাজিক মাধ্যমে পুরনো একটি সুখের মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন বিজয়লক্ষ্মী। সেখানে তিনি লিখেছেন, যেকোনো ঝড় কিংবা কঠিন সময়েও তিনি দর্শনের হাত ছাড়বেন না। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, তার হৃদয় সবসময় দর্শনকেই বেছে নেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও একটি বার্তায় তিনি জানান, পুরো পৃথিবী যদি দর্শনের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তবুও তিনি স্বামীর পাশেই থাকবেন। বিজয়লক্ষ্মীর এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
হত্যা মামলায় জেলবন্দি দর্শন
এক ভক্ত রেণুকাস্বামী হত্যার অভিযোগে ২০২৪ সালের জুনে গ্রেপ্তার হন দর্শন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ভক্ত অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ এক নারীকে আপত্তিকর বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে দর্শন ও তার সহযোগীরা ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।

এই মামলায় আরও কয়েকজনের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন অভিনেতা। মামলাটি শুরু থেকেই দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
জেলে স্বাস্থ্য নিয়ে অভিযোগ
কারাগারে থাকার সময় নিজের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথাও আদালতে জানিয়েছিলেন দর্শন। তিনি দাবি করেছিলেন, দীর্ঘদিন সূর্যের আলো দেখতে পাননি এবং তার হাতে ছত্রাকজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে।
পরবর্তীতে আদালত তাকে কারাগারের ভেতরে হাঁটার অনুমতি দেয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত বিছানা, বালিশ ও চাদরের মতো কিছু মৌলিক সুবিধাও ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে কারা বিধি ভঙ্গ করলে কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে বলেও আদালত সতর্ক করে দেয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















