পাহাড়ে হামে আক্রান্ত শিশু ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য খাগড়াছড়িতে দুই দিনব্যাপী বিশেষ চলচ্চিত্র ও নাট্য উৎসবের আয়োজন করেছে সিএইচটি ফিল্ম সোসাইটি। “মানুষ ও মানবতার জন্য শিল্প” এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এ উৎসবে অংশ নিচ্ছে পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নাট্যদল ও শিল্পীরা।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, শিল্প শুধু বিনোদনের জন্য নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন, যেখানে প্রতিটি টিকিটের অর্থ ব্যয় করা হবে দুর্গম পাহাড়ে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও সহায়তায়।
দুই দিনের আয়োজন
আগামী ২২ ও ২৩ মে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার কালচারাল ইনস্টিটিউটে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজনটি হচ্ছে রাঙ্গামাটির জুমফুল থিয়েটার ও খাগড়াছড়ির অড়ং থিয়েটারের সহযোগিতায়। উৎসবের সৌজন্যে রয়েছে ডোয়েল ওটিটি প্ল্যাটফর্ম।

সম্প্রতি নির্মিত পাঁচটি আদিবাসী নাটক এবং একটি মঞ্চ নাটক নিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন। খাগড়াছড়িতে উৎসব শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানেও একই আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথম দিনের সূচি
২২ মে শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হবে অনুষ্ঠান। প্রথমে প্রদর্শিত হবে ম্রো ভাষার নাটক ‘রিনা প্লুং’। এরপর থাকবে ত্রিপুরা নাটক ‘খেলাংবার’ এবং চাকমা নাটক ‘ধনপুদি’।

দ্বিতীয় দিনের আয়োজন
২৩ মে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হবে তঞ্চঙ্গ্যা নাটক ‘কাইন্স্যা গাঙান’। পরে মারমা নাটক ‘মাছেং’ এবং রাত ৭টায় মঞ্চস্থ হবে চাকমা ভাষার মঞ্চ নাটক ‘হাত্তন’।
আয়োজকদের ভাষ্য, একটি টিকিটেই প্রতিদিন তিনটি নাটক উপভোগ করার সুযোগ থাকছে দর্শকদের জন্য। এতে একদিকে যেমন পাহাড়ি সংস্কৃতি ও ভাষাভিত্তিক নাট্যচর্চা তুলে ধরা হবে, অন্যদিকে মানবিক সহায়তার একটি উদ্যোগও বাস্তবায়ন হবে।

টিকিট ও অনুদান
উৎসবের টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ছাড়, তাদের জন্য টিকিট মূল্য ১০০ টাকা।
টিকিট পাওয়া যাবে খাগড়াছড়ির কালচারাল ইনস্টিটিউটে। এছাড়া আয়োজকদের নির্ধারিত নম্বরগুলোতে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে অনুদান পাঠানোর সুযোগও রয়েছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুদানের প্রতিটি টাকা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও সহায়তায় ব্যয় করা হবে। যারা সরাসরি সহায়তা দিতে চান, তারাও নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
মানবতার পাশে শিল্প
এই আয়োজনের মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি বার্তাও তুলে ধরা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, মানুষের জন্যই শিল্প, আর শিল্পের মধ্য দিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।

পাহাড়ের শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে শিল্পীদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
খাগড়াছড়িতে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা তহবিল
খাগড়াছড়িতে বিশেষ চলচ্চিত্র ও নাট্য উৎসবের মাধ্যমে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সহায়তায় তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাহাড়ের শিশুদের চিকিৎসায় এগিয়ে এলো শিল্প। খাগড়াছড়িতে দুই দিনের চলচ্চিত্র ও নাট্য উৎসবে অংশ নিয়ে আপনিও হতে পারেন মানবিক উদ্যোগের অংশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















