০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
শিশুকে বহনের জন্যই কি তৈরি হয়েছিল মানুষের প্রথম সরঞ্জাম? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ তথ্য আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধকে নতুন চোখে দেখার বিশ্বইতিহাস ক্যানেস চলচ্চিত্র উৎসবে শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা, নতুন মুখদের বৈশ্বিক স্বীকৃতি ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শিক্ষাতেও ধাক্কা দিয়েছে আদালতে বাণিজ্যিক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আইনে চারটি সমস্যা সারানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন আইনমন্ত্রী এডিবির হিসাবে ইরান যুদ্ধ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ১.৩ শতাংশ কমাতে পারে, বাংলাদেশ বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রোমান সাম্রাজ্যের অহংকার ভেঙে দিয়েছিল ইহুদি বিদ্রোহ, ধ্বংস হয়েছিল পুরো একটি লিজিয়ন এথেন্স-স্পার্টার রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব: যেভাবে ভেঙে পড়েছিল প্রাচীন গ্রিসের ঐক্য ভিক্টোরিয়ান যুগে ট্রেনভ্রমণের আতঙ্ক, ‘রেলওয়ে উন্মাদনা’ কীভাবে ছড়িয়েছিল ব্রিটেনে নারী যৌনতার ইতিহাসে লুকানো ক্ষমতার রাজনীতি, নতুন বই ঘিরে আলোড়ন

সুপার এল নিনোর আশঙ্কা, ২০২৭ সালে ভাঙতে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রার সব রেকর্ড

প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি। আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি যদি “সুপার এল নিনো”তে রূপ নেয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরে বিশ্বের আবহাওয়া আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ২০২৭ সালকে নিয়ে এখন থেকেই সতর্কতা বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা নোয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাইয়ের মধ্যেই এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। ইতোমধ্যে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সমুদ্রের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অস্বাভাবিক উষ্ণ পানির বিশাল স্তরও জমতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, চলতি বছরের শেষ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। আধুনিক ইতিহাসে মাত্র তিনটি এল নিনো—১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬—এই মাত্রা অতিক্রম করেছিল।

এল নিনো কতটা শক্তিশালী হতে পারে

যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অ্যাডাম স্কেইফ জানিয়েছেন, এবারকার এল নিনো কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এমনকি রেকর্ড গড়ার মতোও হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন।

এর বড় কারণ হলো বাণিজ্যিক বায়ুপ্রবাহ বা ট্রেড উইন্ডসের আচরণ। সাধারণত নিরক্ষরেখা বরাবর পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত এই বাতাস দুর্বল হয়ে গেলে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়। কিন্তু এসব বায়ুপ্রবাহ অনেক সময় হঠাৎ শক্তিশালী হয়ে এল নিনোর গতি থামিয়ে দিতে পারে বা দুর্বল করে ফেলতে পারে।

নোয়ার বিশেষজ্ঞ মিশেল এল’হুরো বলেছেন, এই বায়ুপ্রবাহ কয়েক মাস আগে থেকে নির্ভুলভাবে অনুমান করা খুব কঠিন। ফলে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, এবারের এল নিনো কতটা ভয়াবহ হবে।

A Super El Niño is coming. Here's how a hotter ocean could change the  weather near you | CNN

বাড়তে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা

সাধারণত এল নিনো ডিসেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে সমুদ্রের জমে থাকা তাপ ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলে ছড়ায়। ফলে এর প্রভাব পরের বছরগুলোতেও থাকে।

ইতিহাস বলছে, ১৯৯৮, ২০১০, ২০১৬, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো রেকর্ড গরম বছরগুলো বড় এল নিনোর সময় বা তার পরপরই দেখা গেছে। এবারও বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, যদি শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হয়, তাহলে ২০২৭ সালে নতুন বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনকার পৃথিবী আগের চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ। ফলে মাঝারি মাত্রার এল নিনোও অতীতের তুলনায় বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতা ইতোমধ্যেই বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ফলে খরা, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব মেটিওরোলজির জলবায়ুবিদ ফেলিসিটি গ্যাম্বল বলেছেন, ২০ বছর আগে এল নিনোর সময় যা ঘটেছিল, এখন একই ধরনের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরণ অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

কোন অঞ্চল বেশি ঝুঁকিতে

বড় এল নিনোর সময় সাধারণত আমাজনের কিছু অংশ, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় খরা দেখা দেয়। ভারতীয় মৌসুমি বৃষ্টিতেও প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এল নিনো নিজে আরও শক্তিশালী হচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এর প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভয়াবহ হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুকে বহনের জন্যই কি তৈরি হয়েছিল মানুষের প্রথম সরঞ্জাম? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ তথ্য

সুপার এল নিনোর আশঙ্কা, ২০২৭ সালে ভাঙতে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রার সব রেকর্ড

০৮:০৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি। আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি যদি “সুপার এল নিনো”তে রূপ নেয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরে বিশ্বের আবহাওয়া আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ২০২৭ সালকে নিয়ে এখন থেকেই সতর্কতা বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা নোয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাইয়ের মধ্যেই এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। ইতোমধ্যে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সমুদ্রের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অস্বাভাবিক উষ্ণ পানির বিশাল স্তরও জমতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, চলতি বছরের শেষ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। আধুনিক ইতিহাসে মাত্র তিনটি এল নিনো—১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬—এই মাত্রা অতিক্রম করেছিল।

এল নিনো কতটা শক্তিশালী হতে পারে

যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অ্যাডাম স্কেইফ জানিয়েছেন, এবারকার এল নিনো কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এমনকি রেকর্ড গড়ার মতোও হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন।

এর বড় কারণ হলো বাণিজ্যিক বায়ুপ্রবাহ বা ট্রেড উইন্ডসের আচরণ। সাধারণত নিরক্ষরেখা বরাবর পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত এই বাতাস দুর্বল হয়ে গেলে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়। কিন্তু এসব বায়ুপ্রবাহ অনেক সময় হঠাৎ শক্তিশালী হয়ে এল নিনোর গতি থামিয়ে দিতে পারে বা দুর্বল করে ফেলতে পারে।

নোয়ার বিশেষজ্ঞ মিশেল এল’হুরো বলেছেন, এই বায়ুপ্রবাহ কয়েক মাস আগে থেকে নির্ভুলভাবে অনুমান করা খুব কঠিন। ফলে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, এবারের এল নিনো কতটা ভয়াবহ হবে।

A Super El Niño is coming. Here's how a hotter ocean could change the  weather near you | CNN

বাড়তে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা

সাধারণত এল নিনো ডিসেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে সমুদ্রের জমে থাকা তাপ ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলে ছড়ায়। ফলে এর প্রভাব পরের বছরগুলোতেও থাকে।

ইতিহাস বলছে, ১৯৯৮, ২০১০, ২০১৬, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো রেকর্ড গরম বছরগুলো বড় এল নিনোর সময় বা তার পরপরই দেখা গেছে। এবারও বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, যদি শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হয়, তাহলে ২০২৭ সালে নতুন বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনকার পৃথিবী আগের চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ। ফলে মাঝারি মাত্রার এল নিনোও অতীতের তুলনায় বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতা ইতোমধ্যেই বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ফলে খরা, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব মেটিওরোলজির জলবায়ুবিদ ফেলিসিটি গ্যাম্বল বলেছেন, ২০ বছর আগে এল নিনোর সময় যা ঘটেছিল, এখন একই ধরনের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরণ অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

কোন অঞ্চল বেশি ঝুঁকিতে

বড় এল নিনোর সময় সাধারণত আমাজনের কিছু অংশ, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় খরা দেখা দেয়। ভারতীয় মৌসুমি বৃষ্টিতেও প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এল নিনো নিজে আরও শক্তিশালী হচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এর প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভয়াবহ হতে পারে।