১০:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
মতভেদ থেকে তাকফির: ধর্মের ব্যাখ্যা যখন সহিংসতার অস্ত্রে পরিণত হয় সৌদি আরবের উন্নয়নের নতুন মানদণ্ড: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি শুধু প্রযুক্তি, নাকি রাষ্ট্রের সক্ষমতার পরীক্ষা? জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সামরিক জোটে বদলে যাচ্ছে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা সমীকরণ টানা পঞ্চম মাসে টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি কমল, চাপ বাড়ছে গাড়ি শিল্পে ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমামোতো, ফিরছে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল

সুপার এল নিনোর আশঙ্কা, ২০২৭ সালে ভাঙতে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রার সব রেকর্ড

প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি। আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি যদি “সুপার এল নিনো”তে রূপ নেয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরে বিশ্বের আবহাওয়া আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ২০২৭ সালকে নিয়ে এখন থেকেই সতর্কতা বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা নোয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাইয়ের মধ্যেই এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। ইতোমধ্যে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সমুদ্রের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অস্বাভাবিক উষ্ণ পানির বিশাল স্তরও জমতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, চলতি বছরের শেষ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। আধুনিক ইতিহাসে মাত্র তিনটি এল নিনো—১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬—এই মাত্রা অতিক্রম করেছিল।

এল নিনো কতটা শক্তিশালী হতে পারে

যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অ্যাডাম স্কেইফ জানিয়েছেন, এবারকার এল নিনো কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এমনকি রেকর্ড গড়ার মতোও হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন।

এর বড় কারণ হলো বাণিজ্যিক বায়ুপ্রবাহ বা ট্রেড উইন্ডসের আচরণ। সাধারণত নিরক্ষরেখা বরাবর পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত এই বাতাস দুর্বল হয়ে গেলে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়। কিন্তু এসব বায়ুপ্রবাহ অনেক সময় হঠাৎ শক্তিশালী হয়ে এল নিনোর গতি থামিয়ে দিতে পারে বা দুর্বল করে ফেলতে পারে।

নোয়ার বিশেষজ্ঞ মিশেল এল’হুরো বলেছেন, এই বায়ুপ্রবাহ কয়েক মাস আগে থেকে নির্ভুলভাবে অনুমান করা খুব কঠিন। ফলে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, এবারের এল নিনো কতটা ভয়াবহ হবে।

A Super El Niño is coming. Here's how a hotter ocean could change the  weather near you | CNN

বাড়তে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা

সাধারণত এল নিনো ডিসেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে সমুদ্রের জমে থাকা তাপ ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলে ছড়ায়। ফলে এর প্রভাব পরের বছরগুলোতেও থাকে।

ইতিহাস বলছে, ১৯৯৮, ২০১০, ২০১৬, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো রেকর্ড গরম বছরগুলো বড় এল নিনোর সময় বা তার পরপরই দেখা গেছে। এবারও বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, যদি শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হয়, তাহলে ২০২৭ সালে নতুন বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনকার পৃথিবী আগের চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ। ফলে মাঝারি মাত্রার এল নিনোও অতীতের তুলনায় বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতা ইতোমধ্যেই বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ফলে খরা, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব মেটিওরোলজির জলবায়ুবিদ ফেলিসিটি গ্যাম্বল বলেছেন, ২০ বছর আগে এল নিনোর সময় যা ঘটেছিল, এখন একই ধরনের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরণ অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

কোন অঞ্চল বেশি ঝুঁকিতে

বড় এল নিনোর সময় সাধারণত আমাজনের কিছু অংশ, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় খরা দেখা দেয়। ভারতীয় মৌসুমি বৃষ্টিতেও প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এল নিনো নিজে আরও শক্তিশালী হচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এর প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভয়াবহ হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মতভেদ থেকে তাকফির: ধর্মের ব্যাখ্যা যখন সহিংসতার অস্ত্রে পরিণত হয়

সুপার এল নিনোর আশঙ্কা, ২০২৭ সালে ভাঙতে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রার সব রেকর্ড

০৮:০৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি। আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি যদি “সুপার এল নিনো”তে রূপ নেয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরে বিশ্বের আবহাওয়া আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ২০২৭ সালকে নিয়ে এখন থেকেই সতর্কতা বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা নোয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাইয়ের মধ্যেই এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। ইতোমধ্যে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সমুদ্রের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অস্বাভাবিক উষ্ণ পানির বিশাল স্তরও জমতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, চলতি বছরের শেষ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। আধুনিক ইতিহাসে মাত্র তিনটি এল নিনো—১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬—এই মাত্রা অতিক্রম করেছিল।

এল নিনো কতটা শক্তিশালী হতে পারে

যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অ্যাডাম স্কেইফ জানিয়েছেন, এবারকার এল নিনো কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এমনকি রেকর্ড গড়ার মতোও হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন।

এর বড় কারণ হলো বাণিজ্যিক বায়ুপ্রবাহ বা ট্রেড উইন্ডসের আচরণ। সাধারণত নিরক্ষরেখা বরাবর পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত এই বাতাস দুর্বল হয়ে গেলে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়। কিন্তু এসব বায়ুপ্রবাহ অনেক সময় হঠাৎ শক্তিশালী হয়ে এল নিনোর গতি থামিয়ে দিতে পারে বা দুর্বল করে ফেলতে পারে।

নোয়ার বিশেষজ্ঞ মিশেল এল’হুরো বলেছেন, এই বায়ুপ্রবাহ কয়েক মাস আগে থেকে নির্ভুলভাবে অনুমান করা খুব কঠিন। ফলে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, এবারের এল নিনো কতটা ভয়াবহ হবে।

A Super El Niño is coming. Here's how a hotter ocean could change the  weather near you | CNN

বাড়তে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা

সাধারণত এল নিনো ডিসেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে সমুদ্রের জমে থাকা তাপ ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলে ছড়ায়। ফলে এর প্রভাব পরের বছরগুলোতেও থাকে।

ইতিহাস বলছে, ১৯৯৮, ২০১০, ২০১৬, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো রেকর্ড গরম বছরগুলো বড় এল নিনোর সময় বা তার পরপরই দেখা গেছে। এবারও বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, যদি শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হয়, তাহলে ২০২৭ সালে নতুন বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনকার পৃথিবী আগের চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ। ফলে মাঝারি মাত্রার এল নিনোও অতীতের তুলনায় বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতা ইতোমধ্যেই বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ফলে খরা, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব মেটিওরোলজির জলবায়ুবিদ ফেলিসিটি গ্যাম্বল বলেছেন, ২০ বছর আগে এল নিনোর সময় যা ঘটেছিল, এখন একই ধরনের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরণ অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

কোন অঞ্চল বেশি ঝুঁকিতে

বড় এল নিনোর সময় সাধারণত আমাজনের কিছু অংশ, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় খরা দেখা দেয়। ভারতীয় মৌসুমি বৃষ্টিতেও প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এল নিনো নিজে আরও শক্তিশালী হচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এর প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভয়াবহ হতে পারে।