ছয় সপ্তাহ ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালু রাখার পরেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নির্ণায়ক সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি আশা করেছিলেন একটি দ্রুত বিজয়, কিন্তু বাস্তবে তা মেলেনি। প্রথমে মার্কিন বাহিনী ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে, তারপর এপ্রিলের মাঝামাঝিতে ইরানি বন্দরগুলোয় অবরোধ আরোপ করে। এরপর বেইজিং সফরে গিয়ে ট্রাম্প আশা করেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করবেন। প্রতিটি পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয়েছে।

সংকটের কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বের জ্বালানি বাজারে চাপ অব্যাহত রয়েছে। ইরান এরই মধ্যে পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি নামে একটি নতুন সংস্থা গঠন করেছে, যার কাজ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পারাপার নিয়ন্ত্রণ করা। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি সম্ভাব্য হামলা এড়াতে ট্রাম্পকে থামিয়ে রেখেছে। হজ মৌসুমের কারণে মে মাসের শেষ সপ্তাহে সামরিক পদক্ষেপ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে এবং সৌদি আরব স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেছে যেন যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হয়। ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকরা, নেতানিয়াহু থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক, পরামর্শ দিচ্ছেন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় সীমিত হামলা চালানো হোক। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ইরান আত্মসমর্পণ না করে উল্টো আরব প্রতিবেশীদের ওপর পাল্টা হামলা চালাতে পারে।
সুনির্দিষ্ট কোনো পথ নেই
ট্রাম্প প্রশাসন এখনো সমঝোতার একটি সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করছে। সে অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালিতে শিপিং পুনরায় চালু করতে রাজি হবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার জন্য মুলতবি রাখা হবে। কিন্তু এটি ট্রাম্পের জন্য একটি কঠিন বিক্রয় হবে, কারণ প্রণালি বন্ধ হয়েছিলই তার নিজের যুদ্ধের কারণে। ১৯ মে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসার জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে, সম্ভবত শুক্র, শনি বা রবিবার কিছু একটা সিদ্ধান্ত হবে, আবার হয়তো আগামী সপ্তাহের শুরুতে। এই অনিশ্চয়তা ইঙ্গিত দেয় যে সংকটের সমাধান এখনো দূরে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















