যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলির ঘটনায় নিহত সন্দেহভাজন যুবক অতীতে সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে “আসল ওসামা বিন লাদেন” বলে দাবি করেছিল বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়েও হুমকিমূলক পোস্ট করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর দেশজুড়ে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা ঘিরে প্রশ্নও উঠছে।
ঘটনার সময় হোয়াইট হাউসে ছিলেন ট্রাম্প
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ বছর বয়সি নাসির বেস্ট নামের ওই যুবক শনিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছে গুলি চালায়। সে সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভবনের ভেতরে ছিলেন।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন বেস্ট। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় যুবকের হাতে একটি রিভলভার ছিল। গুলি চালানোর আগে তাকে এলাকায় অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়।
![]()
আগেও নজরে এসেছিল সন্দেহভাজন
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর থেকেই নাসির বেস্ট সিক্রেট সার্ভিসের নজরে ছিল। তাকে বারবার হোয়াইট হাউসের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এমনকি বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে কীভাবে ভেতরে ঢোকা যায়, সে বিষয়েও নিরাপত্তা সদস্যদের প্রশ্ন করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে তার সামাজিক মাধ্যম ঘেঁটে বেশ কয়েকটি উদ্বেগজনক পোস্ট পাওয়া গেছে। সেখানে সে নিজেকে “আসল ওসামা বিন লাদেন” বলে দাবি করেছিল। পাশাপাশি ট্রাম্পকে ক্ষতি করার ইঙ্গিতও ছিল কিছু পোস্টে।
নিজেকে ‘ঈশ্বর’ ও ‘যিশু’ বলেও দাবি
আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নাসির বেস্ট নিজেকে “ঈশ্বর” ও “যিশু খ্রিস্ট” বলেও দাবি করেছিল। গত বছর একাধিকবার তাকে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
একবার হোয়াইট হাউসের কাছে যান চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে আদালত তাকে হোয়াইট হাউস এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়।

তবে এর আগে তার কাছে কখনও অস্ত্র দেখা যায়নি বা সহিংস আচরণের অভিযোগও ওঠেনি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
গুলির ঘটনায় আতঙ্ক
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার কিছু পর গুলির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রথমে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে।
ঘটনার পর প্রায় আধাঘণ্টা হোয়াইট হাউস লকডাউন করা হয়। ভবনের ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গুলির ঘটনায় অন্তত একজন পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে সিক্রেট সার্ভিসের কোনো সদস্য আহত হননি।
ঘটনার তদন্তে এফবিআই ও স্থানীয় পুলিশ কাজ করছে।
ট্রাম্প যা বললেন

ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প সিক্রেট সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, হামলাকারীর সহিংস অতীত ছিল এবং হোয়াইট হাউস নিয়ে তার অস্বাভাবিক আসক্তি থাকতে পারে। ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















