যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের কাছে নিরাপত্তা চৌকিতে গুলির ঘটনায় এক সন্দেহভাজন যুবক নিহত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ছিলেন। তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিলেন এবং ঘটনায় তার ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।
ঘটনাস্থলে আতঙ্ক

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হোয়াইট হাউসের কাছে একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে ওই যুবক ঘোরাফেরা করছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে সে একটি ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দিকে গুলি ছোড়ে। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনায় একজন পথচারীও আহত হন বলে জানা গেছে।
সন্দেহভাজনের পরিচয়
নিহত যুবকের নাম নাসির বেস্ট। তার বয়স ২১ বছর। বিভিন্ন পুরোনো নথিতে তাকে মানসিকভাবে অস্থির হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউসের আশপাশে বিশৃঙ্খল আচরণের কারণে তাকে আটকও করা হয়েছিল।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অতীতের কিছু নথিতে ওই যুবক নিজেকে “যিশু” বলে দাবি করেছিলেন। এছাড়া তাকে ওই এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছিল।

নিরাপত্তা জোরদার
গুলির ঘটনার পরপরই পুরো হোয়াইট হাউস এলাকা লকডাউন করা হয়। সংবাদকর্মী ও কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে তদন্তকারীরা এবং এলাকাজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নিরাপত্তা বিভাগ ও অন্যান্য সংস্থা যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। রাজধানী ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার আশপাশে একের পর এক নিরাপত্তা উদ্বেগের ঘটনা সামনে এসেছে। এই গুলির ঘটনার পর আবারও হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিকভাবে অস্থির ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















