০৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
প্রিমিয়ার লিগের সাফল্য থেকে কী শিখতে পারে ব্রিটেনের রাজনীতি ইবোলা সতর্কবার্তা: কঙ্গোর নতুন সংকট ভবিষ্যৎ মহামারির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, ইউরোপকে এখনই বিকল্প নিরাপত্তা পরিকল্পনার পথে হাঁটার আহ্বান ট্রাম্পের নীতিতে ধাক্কা, তবু এগিয়ে আমেরিকার অর্থনীতি হাম পরিস্থিতির দায় কার জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘স্বাধীন তদন্ত’ চাচ্ছে সরকার রামিসার হত্যা ইস্যুতে ‘সিরিয়াল কিলার’ রসু খাঁর ঘটনা কেন সামনে আসছে? শাশুড়িকে ধর্ষণের অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার চীনের শানসি কয়লাখনি বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা কমে ৮২, বিশৃঙ্খলায় বাড়ে বিভ্রান্তি এআই ঝড়ে চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্ক, ব্যাংক ও প্রযুক্তি খাতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা হোয়াইট হাউসের কাছে গুলির ঘটনা, নিহত সন্দেহভাজন যুবক

প্রিমিয়ার লিগের সাফল্য থেকে কী শিখতে পারে ব্রিটেনের রাজনীতি

একসময় ইংল্যান্ডের ফুটবলকে নিয়ে হাসাহাসি হতো। মাঠে সহিংসতা, আর্থিক বিশৃঙ্খলা আর দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্ব ফুটবলে দেশটির অবস্থান ছিল প্রশ্নের মুখে। অথচ এখন সেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও লাভজনক ফুটবল প্রতিযোগিতা। ব্রিটেনের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, দেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের জন্য প্রিমিয়ার লিগের সাফল্য থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে।

ব্রিটেনের অর্থনীতি এখন ধীরগতির, মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বও ক্রমাগত চাপে পড়ছে। এই অবস্থায় ফুটবলের মডেলকে সামনে এনে নতুন করে ভাবার আহ্বান উঠছে।

বিদেশি বিনিয়োগের শক্তি

প্রিমিয়ার লিগের বড় শক্তি হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগ, কোচ এবং খেলোয়াড়দের স্বাগত জানানো। ইংল্যান্ড বুঝেছিল, শুধু স্থানীয় প্রতিভার ওপর নির্ভর করলে বিশ্বসেরা হওয়া সম্ভব নয়। তাই তারা বিদেশি মূলধন ও দক্ষতাকে গ্রহণ করেছে খোলা মনে।

Manchester City Banned From Champions League for 2 Seasons - The New York  Times

ম্যানচেস্টার সিটির উদাহরণ প্রায়ই সামনে আসে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি সাধারণ ক্লাব বিশ্বসেরা দলে পরিণত হয়েছে। শুধু ক্লাব নয়, পুরো পূর্ব ম্যানচেস্টারের অর্থনৈতিক চিত্রও বদলে গেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ব্রিটেনের জাতীয় অর্থনীতিতেও একই ধরনের উন্মুক্ত নীতি প্রয়োজন।

কিন্তু বর্তমান সরকারের কিছু নীতিতে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। কাজের ভিসা সীমিত করা এবং ধনীদের ওপর কঠোর করনীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

প্রতিযোগিতাই সাফল্যের চাবিকাঠি

প্রিমিয়ার লিগের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো কঠিন প্রতিযোগিতা। এখানে ক্লাবগুলো নিজেদের উন্নতির জন্য একে অপরের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই করে। এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশই লিগকে শক্তিশালী করেছে।

তবে সম্প্রতি ফুটবলে স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকে জটিল করে তুলতে পারে।

তাদের যুক্তি, ফুটবলের নানা অনিয়ম থাকলেও সেগুলো অনেক সময় অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। অতিরিক্ত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ খেলাটির গতিশীলতা কমিয়ে দিতে পারে।

British politics is turning into the Premier League

নেতৃত্বের সংকট

ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতির আরেকটি বড় মিল হলো নেতৃত্বের গুরুত্ব। সফল ক্লাবগুলো সাধারণত দীর্ঘ সময় একই কোচের অধীনে স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু ভুল নেতৃত্ব ধরে রাখলে ফল উল্টোও হতে পারে।

ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে দলীয় অসন্তোষ বাড়ছে। সমালোচকদের মতে, তিনি মানুষের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা কম এবং সংকটের কথাই বেশি উঠে আসে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেন এখন এমন একজন নেতার খোঁজে আছে, যিনি মানুষের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারবেন। ফুটবলের ভাষায়, দেশের ডাগআউটে দরকার এমন একজন কোচ, যিনি কঠিন সময়েও দলকে জয়ের বিশ্বাস দিতে পারেন।

ফিরে আসার সুযোগ এখনও আছে

ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাস দেখায়, একসময় ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে থাকা একটি ব্যবস্থা কীভাবে বিশ্বসেরা হতে পারে। পরিকল্পনা, উন্মুক্ততা, প্রতিযোগিতা এবং কার্যকর নেতৃত্বের সমন্বয়ই সেই পরিবর্তনের মূল ছিল।

অনেকের বিশ্বাস, একই পথ অনুসরণ করলে ব্রিটেনও বর্তমান হতাশা কাটিয়ে আবার শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারে। তবে তার জন্য প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং এমন নেতৃত্ব, যা মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে।

An outsider asks: what has happened to Britain? | Politics | The Guardian

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রিমিয়ার লিগের সাফল্য থেকে কী শিখতে পারে ব্রিটেনের রাজনীতি

প্রিমিয়ার লিগের সাফল্য থেকে কী শিখতে পারে ব্রিটেনের রাজনীতি

০৩:০২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

একসময় ইংল্যান্ডের ফুটবলকে নিয়ে হাসাহাসি হতো। মাঠে সহিংসতা, আর্থিক বিশৃঙ্খলা আর দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্ব ফুটবলে দেশটির অবস্থান ছিল প্রশ্নের মুখে। অথচ এখন সেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও লাভজনক ফুটবল প্রতিযোগিতা। ব্রিটেনের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, দেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের জন্য প্রিমিয়ার লিগের সাফল্য থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে।

ব্রিটেনের অর্থনীতি এখন ধীরগতির, মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বও ক্রমাগত চাপে পড়ছে। এই অবস্থায় ফুটবলের মডেলকে সামনে এনে নতুন করে ভাবার আহ্বান উঠছে।

বিদেশি বিনিয়োগের শক্তি

প্রিমিয়ার লিগের বড় শক্তি হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগ, কোচ এবং খেলোয়াড়দের স্বাগত জানানো। ইংল্যান্ড বুঝেছিল, শুধু স্থানীয় প্রতিভার ওপর নির্ভর করলে বিশ্বসেরা হওয়া সম্ভব নয়। তাই তারা বিদেশি মূলধন ও দক্ষতাকে গ্রহণ করেছে খোলা মনে।

Manchester City Banned From Champions League for 2 Seasons - The New York  Times

ম্যানচেস্টার সিটির উদাহরণ প্রায়ই সামনে আসে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি সাধারণ ক্লাব বিশ্বসেরা দলে পরিণত হয়েছে। শুধু ক্লাব নয়, পুরো পূর্ব ম্যানচেস্টারের অর্থনৈতিক চিত্রও বদলে গেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ব্রিটেনের জাতীয় অর্থনীতিতেও একই ধরনের উন্মুক্ত নীতি প্রয়োজন।

কিন্তু বর্তমান সরকারের কিছু নীতিতে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। কাজের ভিসা সীমিত করা এবং ধনীদের ওপর কঠোর করনীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

প্রতিযোগিতাই সাফল্যের চাবিকাঠি

প্রিমিয়ার লিগের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো কঠিন প্রতিযোগিতা। এখানে ক্লাবগুলো নিজেদের উন্নতির জন্য একে অপরের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই করে। এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশই লিগকে শক্তিশালী করেছে।

তবে সম্প্রতি ফুটবলে স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকে জটিল করে তুলতে পারে।

তাদের যুক্তি, ফুটবলের নানা অনিয়ম থাকলেও সেগুলো অনেক সময় অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। অতিরিক্ত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ খেলাটির গতিশীলতা কমিয়ে দিতে পারে।

British politics is turning into the Premier League

নেতৃত্বের সংকট

ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতির আরেকটি বড় মিল হলো নেতৃত্বের গুরুত্ব। সফল ক্লাবগুলো সাধারণত দীর্ঘ সময় একই কোচের অধীনে স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু ভুল নেতৃত্ব ধরে রাখলে ফল উল্টোও হতে পারে।

ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে দলীয় অসন্তোষ বাড়ছে। সমালোচকদের মতে, তিনি মানুষের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা কম এবং সংকটের কথাই বেশি উঠে আসে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেন এখন এমন একজন নেতার খোঁজে আছে, যিনি মানুষের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারবেন। ফুটবলের ভাষায়, দেশের ডাগআউটে দরকার এমন একজন কোচ, যিনি কঠিন সময়েও দলকে জয়ের বিশ্বাস দিতে পারেন।

ফিরে আসার সুযোগ এখনও আছে

ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাস দেখায়, একসময় ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে থাকা একটি ব্যবস্থা কীভাবে বিশ্বসেরা হতে পারে। পরিকল্পনা, উন্মুক্ততা, প্রতিযোগিতা এবং কার্যকর নেতৃত্বের সমন্বয়ই সেই পরিবর্তনের মূল ছিল।

অনেকের বিশ্বাস, একই পথ অনুসরণ করলে ব্রিটেনও বর্তমান হতাশা কাটিয়ে আবার শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারে। তবে তার জন্য প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং এমন নেতৃত্ব, যা মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে।

An outsider asks: what has happened to Britain? | Politics | The Guardian