দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত। আগামী ১ জুলাই থেকে রাজ্যে এই প্রকল্প কার্যকর হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর ফলে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ সরাসরি এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় আসছে।
শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর নবান্নে এই ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, টিকাকরণ কর্মসূচি, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
দীর্ঘ বিরোধের অবসান
২০১৮ সালে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হলেও পশ্চিমবঙ্গ এতদিন এর বাইরে ছিল। আগের রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের মতবিরোধের কারণে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন আটকে ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবার সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার কেন্দ্রের স্বাস্থ্য প্রকল্পে সহযোগিতা করেনি। ফলে বাংলার কোটি কোটি মানুষ কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখন সেই পরিস্থিতি বদলানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কার্ড তৈরির কাজ শুরু
রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। ১ জুলাই থেকে সাধারণ মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
বর্তমানে প্রায় ছয় কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করছেন। সরকার জানিয়েছে, ধাপে ধাপে এই সমস্ত উপভোক্তাকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
ওষুধেও বড় ছাড়
সরকার আরও জানিয়েছে, অমৃত ফার্মেসি প্রকল্পের মাধ্যমে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে দেওয়া হবে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের আর্থিক বরাদ্দ
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য পশ্চিমবঙ্গকে ৩৫০৫ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকার বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ৫২৭ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্যকে দেওয়া হয়েছে।
এই বৈঠকে মুখ্যসচিব, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা, স্বাস্থ্যসচিবসহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক হল।
পশ্চিমবঙ্গে ১ জুলাই থেকে আয়ুষ্মান ভারত চালু হচ্ছে। স্বাস্থ্যসাথী থেকে নতুন প্রকল্পে রূপান্তর এবং কম দামে ওষুধ মিলবে সাধারণ মানুষের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















