০৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডলি পার্টন: ভালোবাসা, গান আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য জীবন নরওয়ের রাজা হারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যু, শোকে ওসলো বিতর্ক পেরিয়ে নতুন উচ্চতায় র‍্যাচেল জেগলার, এবার ব্রডওয়েতে ইভা পেরন শিল্পের নতুন প্রভাবশালীদের খোঁজে টাইম, ৫০ বছর পর প্রচ্ছদে জীবিত চিত্রশিল্পী ৯/১১-এর ২৫ বছর: যে ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে এক প্রজন্ম নিজের ঘরেও পরবাসী: ‘কারা আমাদের মানুষ’—এই প্রশ্নের রাজনীতি ট্রাম্প-শির নৈশভোজে জাঁকজমক, আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের গভীর টানাপোড়েন ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর

ইউএপিএ মামলায় জামিন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নতুন বিতর্ক, বড় বেঞ্চে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

ভারতের কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ-র অধীনে অভিযুক্তদের জামিন পাওয়া নিয়ে ফের বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। দীর্ঘদিন বিচার শেষ না হওয়া অবস্থায় অভিযুক্তদের জেলে আটকে রাখা কতটা সাংবিধানিক, তা নিয়ে শীর্ষ আদালতের বিভিন্ন রায়ে মতভেদ সামনে এসেছে। সেই কারণেই এবার বিষয়টি বড় বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি দিল্লি দাঙ্গা মামলার দুই অভিযুক্ত আবদুল খালিদ সইফি ও তসলিম আহমদকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আদালত জানায়, দীর্ঘ বিচারবিলম্ব কি ইউএপিএ-র কঠোর জামিনবিরোধী ধারা অতিক্রম করতে পারে কি না, তা বড় বেঞ্চে ঠিক করা হবে।

ইউএপিএ-তে জামিন এত কঠিন কেন

ইউএপিএ-র ৪৩ডি(৫) ধারাকে ভারতের সবচেয়ে কঠোর জামিনবিরোধী বিধানগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। এই ধারায় বলা হয়েছে, আদালত যদি প্রাথমিকভাবে মনে করে অভিযোগ সত্য হওয়ার যথেষ্ট ভিত্তি আছে, তাহলে অভিযুক্ত জামিন পাবেন না।

২০১৯ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বিস্তারিত প্রমাণ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখেই আদালত জামিন নাকচ করতে পারে। ফলে সাধারণ ফৌজদারি আইনে যেখানে “জামিনই নিয়ম”, সেখানে ইউএপিএ-তে বাস্তবে “জেলই নিয়ম” হয়ে দাঁড়ায়।

দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে আদালতের উদ্বেগ

২০২১ সালের কেএ নাজিব মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, কোনও অভিযুক্তকে অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিচার ছাড়া জেলে আটকে রাখা যায় না। আদালত বলেছিল, বিচার প্রক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ হলে সাংবিধানিক আদালত মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

এই রায়কে কেন্দ্র করেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিচারপতি বি ভি নাগরত্না ও উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ সম্প্রতি মন্তব্য করে, ছোট বেঞ্চগুলোর কিছু রায় নাজিব মামলার মূল নীতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশেষ করে উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উমর খালিদ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে আছেন।

আর্টিকেল ২১ বনাম কঠোর আইন

সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও দ্রুত বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই শুধুমাত্র অভিযোগ গুরুতর বলেই কাউকে বছরের পর বছর বিচারহীন অবস্থায় আটকে রাখা যায় না।

বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া মন্তব্য করেন, রাষ্ট্র সময়মতো বিচার শেষ করতে ব্যর্থ হলে তার দায় অভিযুক্তের ওপর চাপানো যায় না। তিনি আরও বলেন, ইউএপিএ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার খুবই কম, অথচ বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে জেলে থাকছেন।

বড় বেঞ্চে কী হতে পারে

এখন সুপ্রিম কোর্টের বড় বেঞ্চকে ঠিক করতে হবে, দীর্ঘ বিচারবিলম্ব এবং মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন কি ইউএপিএ-র কঠোর জামিনবিধির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে কি না।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু দিল্লি দাঙ্গা মামলা নয়, ভবিষ্যতের বহু ইউএপিএ মামলার দিকও নির্ধারণ করবে। কারণ এই রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কঠোরতা আর ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে আদালত কোন ভারসাম্য তৈরি করতে চায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডলি পার্টন: ভালোবাসা, গান আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য জীবন

ইউএপিএ মামলায় জামিন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নতুন বিতর্ক, বড় বেঞ্চে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

০৭:৩৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ভারতের কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ-র অধীনে অভিযুক্তদের জামিন পাওয়া নিয়ে ফের বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। দীর্ঘদিন বিচার শেষ না হওয়া অবস্থায় অভিযুক্তদের জেলে আটকে রাখা কতটা সাংবিধানিক, তা নিয়ে শীর্ষ আদালতের বিভিন্ন রায়ে মতভেদ সামনে এসেছে। সেই কারণেই এবার বিষয়টি বড় বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি দিল্লি দাঙ্গা মামলার দুই অভিযুক্ত আবদুল খালিদ সইফি ও তসলিম আহমদকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আদালত জানায়, দীর্ঘ বিচারবিলম্ব কি ইউএপিএ-র কঠোর জামিনবিরোধী ধারা অতিক্রম করতে পারে কি না, তা বড় বেঞ্চে ঠিক করা হবে।

ইউএপিএ-তে জামিন এত কঠিন কেন

ইউএপিএ-র ৪৩ডি(৫) ধারাকে ভারতের সবচেয়ে কঠোর জামিনবিরোধী বিধানগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। এই ধারায় বলা হয়েছে, আদালত যদি প্রাথমিকভাবে মনে করে অভিযোগ সত্য হওয়ার যথেষ্ট ভিত্তি আছে, তাহলে অভিযুক্ত জামিন পাবেন না।

২০১৯ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বিস্তারিত প্রমাণ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখেই আদালত জামিন নাকচ করতে পারে। ফলে সাধারণ ফৌজদারি আইনে যেখানে “জামিনই নিয়ম”, সেখানে ইউএপিএ-তে বাস্তবে “জেলই নিয়ম” হয়ে দাঁড়ায়।

দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে আদালতের উদ্বেগ

২০২১ সালের কেএ নাজিব মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, কোনও অভিযুক্তকে অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিচার ছাড়া জেলে আটকে রাখা যায় না। আদালত বলেছিল, বিচার প্রক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ হলে সাংবিধানিক আদালত মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

এই রায়কে কেন্দ্র করেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিচারপতি বি ভি নাগরত্না ও উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ সম্প্রতি মন্তব্য করে, ছোট বেঞ্চগুলোর কিছু রায় নাজিব মামলার মূল নীতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশেষ করে উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উমর খালিদ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে আছেন।

আর্টিকেল ২১ বনাম কঠোর আইন

সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও দ্রুত বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই শুধুমাত্র অভিযোগ গুরুতর বলেই কাউকে বছরের পর বছর বিচারহীন অবস্থায় আটকে রাখা যায় না।

বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া মন্তব্য করেন, রাষ্ট্র সময়মতো বিচার শেষ করতে ব্যর্থ হলে তার দায় অভিযুক্তের ওপর চাপানো যায় না। তিনি আরও বলেন, ইউএপিএ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার খুবই কম, অথচ বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে জেলে থাকছেন।

বড় বেঞ্চে কী হতে পারে

এখন সুপ্রিম কোর্টের বড় বেঞ্চকে ঠিক করতে হবে, দীর্ঘ বিচারবিলম্ব এবং মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন কি ইউএপিএ-র কঠোর জামিনবিধির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে কি না।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু দিল্লি দাঙ্গা মামলা নয়, ভবিষ্যতের বহু ইউএপিএ মামলার দিকও নির্ধারণ করবে। কারণ এই রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কঠোরতা আর ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে আদালত কোন ভারসাম্য তৈরি করতে চায়।