যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কলকাতা সফর ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শনিবার চার দিনের ভারত সফরের শুরুতেই তিনি কলকাতার মাদার হাউসে যান এবং মিশনারিজ অব চ্যারিটির সদর দফতরে মাদার তেরেসার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি নির্মলা শিশু ভবনও ঘুরে দেখেন।
রুবিওর এই সফর এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে খ্রিস্টান সংগঠনগুলোর বিদেশি অনুদান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে এবং চার্চের সম্পত্তিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
কলকাতায় উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সফর
শনিবার সকালে কলকাতায় পৌঁছান মার্কো রুবিও। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনি মাদার হাউসে যান। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা সময় কাটান তিনি ও তার স্ত্রী জিনেট রুবিও।
মিশনারিজ অব চ্যারিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি ছিল মূলত একটি পারিবারিক সৌজন্য সফর। প্রতিনিধি বলেন, মাদার তেরেসার সমাধিতে প্রার্থনা করতেই রুবিও সেখানে গিয়েছিলেন।
এরপর তিনি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালও পরিদর্শন করেন। পরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা ছিল।
এফসিআরএ সংশোধনী নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত
রুবিওর সফরের পরই কেন্দ্রের প্রস্তাবিত এফসিআরএ সংশোধনী নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়।
তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ অভিযোগ করেন, একদিকে কেন্দ্র সরকার খ্রিস্টান সংগঠনগুলোর বিদেশি অনুদান সীমিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অতিথির সামনে একই সংগঠনকে মানবিক কাজের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। তিনি এটিকে “চরম ভণ্ডামি” বলে মন্তব্য করেন।

তার দাবি, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে বহু শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়তে পারে।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য এসব অভিযোগকে “তথ্য বিকৃতি” বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, মিশনারিজ অব চ্যারিটির বিদেশি অনুদান গ্রহণের অনুমোদন এখনও বৈধ রয়েছে এবং ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে।
পুরনো বিতর্ক আবার সামনে
২০২২ সালে মিশনারিজ অব চ্যারিটির বিদেশি অনুদানের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার ঘটনা আবারও আলোচনায় এসেছে। সেই সময় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। পরে অবশ্য সংস্থাটির লাইসেন্স পুনর্বহাল করা হয়।
এবারের সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক কংগ্রেসম্যানও ভারত সরকারকে সংশোধনী প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে মানবিক কাজ পরিচালনাকারী অনেক সংগঠন আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
কলকাতায় দীর্ঘদিন পর কোনও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ঘিরে কূটনৈতিক মহলেও আগ্রহ দেখা গেছে। এর আগে ২০১২ সালে হিলারি ক্লিনটন কলকাতা সফর করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুবিওর এই সফর শুধু কূটনৈতিক দিক থেকেই নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ধর্মীয় সংস্থাগুলোর অর্থায়ন বিতর্ককেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















