০৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
বইয়ের দোকান এখন শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, গড়ে উঠছে নতুন সামাজিক পরিসর মালয়ালম সিনেমার আলাদা পথচলা, সমাজ বদলের ইতিহাসেই লুকিয়ে তার শক্তি প্রকৃতিই প্রযুক্তি: কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির নতুন শক্তি হিসেবে প্রকৃতিকে দেখার আহ্বান তাপপ্রবাহ আসলে কী, কেন হঠাৎ বাড়ছে গরমের দাপট ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার নতুন চিত্র, বাড়ছে বেসরকারি চিকিৎসার খরচ বিসিসিআই আরটিআইয়ের বাইরে, তথ্য জানার অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক কঙ্গো-উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়ছে বিরল ইবোলা, আতঙ্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য মহল তরুণদের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠনের ওয়েবসাইট বন্ধ, সরব দেশজুড়ে বিতর্ক ভারতে সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, একমাত্র চালু খনিতে মুনাফার বন্যা কর্ণাটকে গড়ে উঠছে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম

ভারতকে ঘিরে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে নতুন বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের গুরুত্ব আবারও স্পষ্ট করলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে তিনি চলতি বছরের শেষ দিকে মোদিকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানান।

চার দিনের ভারত সফরে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছান রুবিও। সফরে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও অংশ নেবেন। এতে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের প্রতিনিধিরাও থাকবেন।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদার

বৈঠকের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষা, কৌশলগত প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, যোগাযোগ, শিক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কসহ নানা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মার্কো রুবিও বলেন, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি কোয়াড জোটকে আরও সক্রিয় করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

জুনে ফ্রান্সে অনুষ্ঠেয় জি-সেভেন সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও ট্রাম্পের আরেক দফা বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বছরের শেষে যুক্তরাষ্ট্রে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনেও মোদির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

ইরান ইস্যুতেও আলোচনা

বৈঠকে ইরান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে কোনোভাবেই ইরানের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেবে না তারা। একই সঙ্গে ভারতকে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি সব ধরনের সংঘাত শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

কোয়াড নিয়ে নতুন সক্রিয়তা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর এটি কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তৃতীয় বৈঠক। তবে গত দুই বছর ধরে ভারতে হওয়ার কথা থাকা কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা, ভিসা জটিলতা এবং ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি নিয়ে ওয়াশিংটনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও দিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার দাবি অস্বীকার করেছে।

এক অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, কোয়াড ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকগুলোর একটি এবং এখন সেটিকে নতুনভাবে সক্রিয় করা হবে। তিনি আরও বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানের ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভিসা নীতিতে নতুন উদ্বেগ

সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্র দিল্লিতে নতুন কনস্যুলার সহায়তা ভবনের উদ্বোধনও করে। সেখানে ব্যবসা ও বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক ভারতীয়দের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক ভিসা সেবা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে একই সময়ে এইচ-ওয়ানবি ভিসা এবং স্থায়ী বসবাসের আবেদন সংক্রান্ত নতুন মার্কিন বিধিনিষেধ ভারতীয় পেশাজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বইয়ের দোকান এখন শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, গড়ে উঠছে নতুন সামাজিক পরিসর

ভারতকে ঘিরে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে নতুন বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

০৭:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের গুরুত্ব আবারও স্পষ্ট করলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে তিনি চলতি বছরের শেষ দিকে মোদিকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানান।

চার দিনের ভারত সফরে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছান রুবিও। সফরে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও অংশ নেবেন। এতে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের প্রতিনিধিরাও থাকবেন।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদার

বৈঠকের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষা, কৌশলগত প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, যোগাযোগ, শিক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কসহ নানা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মার্কো রুবিও বলেন, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি কোয়াড জোটকে আরও সক্রিয় করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

জুনে ফ্রান্সে অনুষ্ঠেয় জি-সেভেন সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও ট্রাম্পের আরেক দফা বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বছরের শেষে যুক্তরাষ্ট্রে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনেও মোদির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

ইরান ইস্যুতেও আলোচনা

বৈঠকে ইরান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে কোনোভাবেই ইরানের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেবে না তারা। একই সঙ্গে ভারতকে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি সব ধরনের সংঘাত শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

কোয়াড নিয়ে নতুন সক্রিয়তা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর এটি কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তৃতীয় বৈঠক। তবে গত দুই বছর ধরে ভারতে হওয়ার কথা থাকা কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা, ভিসা জটিলতা এবং ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি নিয়ে ওয়াশিংটনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও দিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার দাবি অস্বীকার করেছে।

এক অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, কোয়াড ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকগুলোর একটি এবং এখন সেটিকে নতুনভাবে সক্রিয় করা হবে। তিনি আরও বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানের ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভিসা নীতিতে নতুন উদ্বেগ

সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্র দিল্লিতে নতুন কনস্যুলার সহায়তা ভবনের উদ্বোধনও করে। সেখানে ব্যবসা ও বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক ভারতীয়দের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক ভিসা সেবা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে একই সময়ে এইচ-ওয়ানবি ভিসা এবং স্থায়ী বসবাসের আবেদন সংক্রান্ত নতুন মার্কিন বিধিনিষেধ ভারতীয় পেশাজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।