০১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
চীনের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা জোরদারে পাকিস্তান, আফগান ভূখণ্ড নিয়ে কড়া বার্তা বেইজিংয়ের পাকিস্তানে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফের আশ্বাস শাহবাজ শরিফের পাকিস্তানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিরাপত্তা জোরদার, গঠন হচ্ছে ‘ওয়াপডা সিকিউরিটি ফোর্স’ আসামে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল উত্থাপন, বিজেপি শাসিত তৃতীয় রাজ্যে নতুন বিতর্ক ভারতে আবারও বাড়তে পারে জ্বালানির দাম, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাড়ছে চাপ আজ দেশের ১০ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত পদ্মা সেতুতে স্বস্তির ঈদযাত্রা, এখনো নেই যানজট ঈদযাত্রায় তিন মহাসড়কে বড় শঙ্কা, কোথায় বেশি যানজটের আশঙ্কা ঢাকার হাটে মাঝারি গরুতেই ঝুঁকছেন ক্রেতারা ট্রাম্পের নতুন গ্রিন কার্ড নীতি: অভিবাসনকে আরও অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দেওয়ার রাজনীতি

চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতিতে নতুন মিশন, মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাল চীনের নভোচারীরা

চাঁদে মানুষ পাঠানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেল চীন। দেশটির নতুন মানববাহী মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগংয়ে পৌঁছেছে। এই মিশনকে ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে বেইজিং।

রোববার গভীর রাতে গোবি মরুভূমির জিউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ‘শেনঝৌ-২৩’ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়। লং মার্চ-২এফ রকেটের মাধ্যমে মহাকাশযানটি কক্ষপথে পাঠানো হয়। উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে সফলভাবে সংযুক্ত হয়।

নতুন দলে রয়েছেন কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু, সাবেক বিমানবাহিনীর পাইলট ঝ্যাং ঝিয়ুয়ান এবং লি কা-ইং। লি কা-ইং প্রথম হংকং নাগরিক হিসেবে মহাকাশ সফরে অংশ নিলেন। মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর পর তাদের স্বাগত জানান আগের মিশনের নভোচারীরা।

China sends astronaut on year-long space mission as it eyes 2030 moon  landing | Reuters

চাঁদে যাওয়ার লক্ষ্য

চীনের মানববাহী মহাকাশ প্রকৌশল দপ্তর জানিয়েছে, তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশন ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য বড় ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থান, প্রযুক্তি পরীক্ষা এবং মহাকাশে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে চীন চাঁদে নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই মিশনের নভোচারীরা প্রায় ছয় মাস মহাকাশ স্টেশনে থাকবেন। তারা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং মহাকাশে হাঁটার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। দলের একজন সদস্য আরও দীর্ঘ সময় কক্ষপথে অবস্থান করবেন, যা চীনের প্রথম এক বছরব্যাপী মহাকাশ মিশনের অংশ।

নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা

চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরে নতুন প্রজন্মের লং মার্চ-১০এ রকেট এবং মেংঝৌ মহাকাশযানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হবে। এসব প্রযুক্তি ভবিষ্যতে মানুষকে চাঁদে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে।

China sends astronaut on year-long space mission as it eyes 2030 moon  landing | The Business Standard

চীনের কর্মকর্তাদের দাবি, তারা অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, বরং মানবজাতির অগ্রগতির অংশ হিসেবেই চন্দ্র অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মহাকাশ প্রতিযোগিতার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।

রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা

চীন ও রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশ সহযোগিতা বাড়িয়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে চাঁদ ও গভীর মহাকাশ গবেষণার জন্য তথ্যকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাঁদে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের ধারাবাহিক মহাকাশ মিশন শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই বাড়াচ্ছে না, বরং বিশ্ব মহাকাশ প্রতিযোগিতায় দেশটির অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।

রাশিয়া ও চীন একে অপরের সমর্থনে 'একে অপরের পাশে' দাঁড়াবে

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা জোরদারে পাকিস্তান, আফগান ভূখণ্ড নিয়ে কড়া বার্তা বেইজিংয়ের

চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতিতে নতুন মিশন, মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাল চীনের নভোচারীরা

১১:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

চাঁদে মানুষ পাঠানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেল চীন। দেশটির নতুন মানববাহী মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগংয়ে পৌঁছেছে। এই মিশনকে ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে বেইজিং।

রোববার গভীর রাতে গোবি মরুভূমির জিউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ‘শেনঝৌ-২৩’ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়। লং মার্চ-২এফ রকেটের মাধ্যমে মহাকাশযানটি কক্ষপথে পাঠানো হয়। উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে সফলভাবে সংযুক্ত হয়।

নতুন দলে রয়েছেন কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু, সাবেক বিমানবাহিনীর পাইলট ঝ্যাং ঝিয়ুয়ান এবং লি কা-ইং। লি কা-ইং প্রথম হংকং নাগরিক হিসেবে মহাকাশ সফরে অংশ নিলেন। মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর পর তাদের স্বাগত জানান আগের মিশনের নভোচারীরা।

China sends astronaut on year-long space mission as it eyes 2030 moon  landing | Reuters

চাঁদে যাওয়ার লক্ষ্য

চীনের মানববাহী মহাকাশ প্রকৌশল দপ্তর জানিয়েছে, তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশন ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য বড় ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থান, প্রযুক্তি পরীক্ষা এবং মহাকাশে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে চীন চাঁদে নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই মিশনের নভোচারীরা প্রায় ছয় মাস মহাকাশ স্টেশনে থাকবেন। তারা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং মহাকাশে হাঁটার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। দলের একজন সদস্য আরও দীর্ঘ সময় কক্ষপথে অবস্থান করবেন, যা চীনের প্রথম এক বছরব্যাপী মহাকাশ মিশনের অংশ।

নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা

চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরে নতুন প্রজন্মের লং মার্চ-১০এ রকেট এবং মেংঝৌ মহাকাশযানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হবে। এসব প্রযুক্তি ভবিষ্যতে মানুষকে চাঁদে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে।

China sends astronaut on year-long space mission as it eyes 2030 moon  landing | The Business Standard

চীনের কর্মকর্তাদের দাবি, তারা অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, বরং মানবজাতির অগ্রগতির অংশ হিসেবেই চন্দ্র অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মহাকাশ প্রতিযোগিতার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।

রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা

চীন ও রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশ সহযোগিতা বাড়িয়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে চাঁদ ও গভীর মহাকাশ গবেষণার জন্য তথ্যকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাঁদে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের ধারাবাহিক মহাকাশ মিশন শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই বাড়াচ্ছে না, বরং বিশ্ব মহাকাশ প্রতিযোগিতায় দেশটির অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।

রাশিয়া ও চীন একে অপরের সমর্থনে 'একে অপরের পাশে' দাঁড়াবে