ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দলের নায়ক ছিলেন জুড বেলিংহাম। তিনি দুটি গোল করে থমাস টুখেলের দলকে শেষ চারে পৌঁছে দেন। ম্যাচের নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে তার দ্বিতীয় গোলই ব্যবধান গড়ে দেয়।
মূল লড়াইয়ে বেলিংহামের ছাপ
ম্যাচের শুরুতে নরওয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে খেলায় ফেরে। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই জুড বেলিংহাম সমতা ফেরান। ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলই জয়ের সুযোগ তৈরি করলেও নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি।
অতিরিক্ত সময়ে এবেরেচি এজের পাস থেকে মর্গান রজার্সের শট নরওয়ের গোলরক্ষক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে বেলিংহাম জালের ঠিকানা খুঁজে নেন। সেটিই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে।

বিতর্কও ছিল ম্যাচজুড়ে
ইংল্যান্ডের প্রথম গোলের আগে বলটি স্টেডিয়ামের স্পাইডারক্যামের তারে লেগেছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। রিপ্লেতে এমন সম্ভাবনা দেখা গেলেও ফিফা জানায়, বলের প্রযুক্তিগত সেন্সরে এমন কোনো স্পর্শের প্রমাণ মেলেনি। ফলে খেলা থামানো হয়নি এবং সেই আক্রমণ থেকেই ইংল্যান্ড গোল পায়।
নরওয়েরও অভিযোগের সুযোগ ছিল। এক পর্যায়ে তাদের একটি গোল বাতিল হয়, কারণ ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) এরলিং হালান্ডের ধাক্কার ঘটনা শনাক্ত করে। শেষ দিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেওয়া একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্তও ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয়।
টুখেলের স্বীকারোক্তি
ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল ম্যাচ শেষে স্বীকার করেন, তার দলের পারফরম্যান্স নিখুঁত ছিল না। তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের খেলায় অনেক কারিগরি ভুল ছিল এবং দল যথেষ্ট দ্রুত খেলতে পারেনি। তার ভাষায়, এই ম্যাচে তারা কিছুটা ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছে।

তবে ম্যাচ চলাকালে একাধিক কৌশলগত পরিবর্তন এনে দলকে প্রতিযোগিতায় ধরে রাখার কৃতিত্বও টুখেলের। তার বদলি খেলোয়াড়রা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
হালান্ডকে আটকে দিল ইংল্যান্ড
নরওয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র এরলিং হালান্ডকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। জন স্টোনসের নেতৃত্বে রক্ষণভাগ হালান্ডের জন্য পরিষ্কার সুযোগ তৈরি হতে দেয়নি। অতিরিক্ত সময়ে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়, যা ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের সফলতারই প্রতিফলন।
অন্যদিকে বেলিংহাম আবারও বড় ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ধারাবাহিক গুরুত্বপূর্ণ গোল করে তিনি দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। জয়ের পর মিয়ামির স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড সমর্থকদের কণ্ঠে দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বনিত হয়েছে ‘হে জুড’ গান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















