০২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
মাঠজুড়ে ধীর পায়ে হাঁটা, কিন্তু সিদ্ধান্তের মুহূর্তে বজ্রপাত: মেসির ফুটবল বুদ্ধির প্রকৃত রহস্য বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার সাহসই রাষ্ট্রের ব্যর্থতা: তাজুল ইসলাম অন্ধকারের টানে বাড়ছে তারাদেখা ভ্রমণ, বিশ্বজুড়ে নতুন পর্যটন প্রবণতার উত্থান মুখের ইতিহাসে লুকিয়ে মানুষের পরিচয়, সৌন্দর্য ও সমাজের বদলে যাওয়া গল্প নিলামে পুরোনো চিত্রকর্মের জোয়ার: শতাব্দীপ্রাচীন শিল্পকর্মে ফিরছে সংগ্রাহকদের আগ্রহ পিলাটেসে বিশ্বজুড়ে নতুন উন্মাদনা, কেন হঠাৎ এত জনপ্রিয় এই ব্যায়াম? ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন বইয়ের আলোড়ন, বাস্তবতা নাকি কল্পনার জগতে হোয়াইট হাউস? খরার মধ্যেও অটল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গাছ, বিস্ময়কর অভিযোজনের নতুন রহস্য উন্মোচন দিনে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যায়ামেই মিলতে পারে বড় স্বাস্থ্যসুরক্ষা

ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিগুলো কি আর প্রচলিত নিয়ম মানছে না? বদলে যাচ্ছে করপোরেট শাসনের বিশ্ব

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে প্রচলিত করপোরেট শাসনের নিয়ম যেন আর আগের মতো কার্যকর থাকছে না। শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার যে ধারণা গত কয়েক দশক ধরে আধুনিক করপোরেট ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, এখন তা বড় প্রযুক্তি ও কৌশলগত কোম্পানিগুলোর বাস্তবতায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

শেয়ারহোল্ডার-কেন্দ্রিক মডেলের উত্থান

একসময় ধারণা করা হয়েছিল, বিশ্বের সব বড় কোম্পানি ধীরে ধীরে এমন এক ব্যবস্থায় চলে যাবে যেখানে শেয়ারহোল্ডারদের লাভই হবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য। ইউরোপ ও এশিয়ার বহু দেশও নিজেদের করপোরেট আইন সেই ধারা অনুসরণ করে পরিবর্তন করেছে। বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলগুলোর বিস্তারও এই মডেলকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে সাম্প্রতিক বাস্তবতা বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম আর সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। একটি নির্দিষ্ট আকারে পৌঁছানোর পর অনেক প্রতিষ্ঠান এমন অবস্থানে চলে যায়, যেখানে বাজারের চাপ বা প্রচলিত শাসনব্যবস্থার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমে আসে।

Maximizing shareholder profits is a great way to destroy humanity

চার ধরনের করপোরেট দর্শনের উদ্ভব

বর্তমান সময়ে বিশ্বের ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্যের প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোটামুটি চারটি ভিন্ন ধরণের করপোরেট দর্শনে ভাগ করা যায়।

প্রথম দলে রয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা এখনো মূলত শেয়ারহোল্ডারদের লাভকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরে রেখেছে। এদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এবং সরকারি মালিকানার বাইরে পরিচালিত হয়। তারা বড় মুনাফা অর্জনের ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।

দ্বিতীয় দলে রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রতিষ্ঠাতা বা দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত। এখানে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা বিশ্বাস করেন, প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্বই বেশি দক্ষ। ফলে অনেক বড় বিনিয়োগ বা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প শেয়ারহোল্ডারদের তাৎক্ষণিক লাভের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন বাস্তবতা

দক্ষিণ কোরিয়ার বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত উত্থান দেশটির অর্থনীতি ও সমাজে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। বিপুল মুনাফার অংশ কে পাবে—শ্রমিক, সরকার নাকি বিনিয়োগকারী—তা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।

South Korea plans new chip cluster as AI boom strains capacity - Nikkei Asia

শ্রমিকরা বড় অঙ্কের বোনাস আদায়ে চাপ সৃষ্টি করছেন। রাজনীতিকেরা ভাবছেন, এই মুনাফা থেকে কীভাবে রাষ্ট্র আরও বেশি সুবিধা নিতে পারে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার প্রতিযোগিতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

জাতীয় স্বার্থের প্রতীক হয়ে ওঠা কোম্পানি

আরেক ধরনের প্রতিষ্ঠান শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, নিজ দেশের কৌশলগত শক্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। উন্নত চিপ উৎপাদন কিংবা জ্বালানি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে তাদের অবস্থান পুরো দেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু বিনিয়োগকারীদের নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ইলন মাস্কের ব্যতিক্রমী করপোরেট মডেল

বিশ্বের অন্যতম আলোচিত উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচলিত করপোরেট কাঠামোর বাইরে এক ভিন্ন ধরনের শাসনব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এখানে প্রতিষ্ঠাতার হাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। অনেক ক্ষেত্রেই মুনাফা অর্জনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে প্রচলিত শেয়ারহোল্ডার-কেন্দ্রিক বিশ্লেষণ দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ইলন মাস্কের সফলতার গল্প | The Daily Star

এই বাস্তবতার কারণে আর্থিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়নেও বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় নগদ প্রবাহে ইতিবাচক না থাকার সম্ভাবনা থাকলেও তার ভবিষ্যৎ মূল্য অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতের করপোরেট শাসন কোন পথে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন প্রজন্মের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে কোন ধরনের করপোরেট কাঠামো অনুসরণ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কেউ মনে করছেন, তারা প্রতিষ্ঠাতানির্ভর মডেল অনুসরণ করবে। আবার কেউ ধারণা করছেন, জাতীয় কৌশলগত স্বার্থের কারণে সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। ফলে আগামী দিনের করপোরেট বিশ্বে একক কোনো শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের মডেল পাশাপাশি টিকে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিগুলোর অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, ব্যবসার আকার যত বড় হচ্ছে, করপোরেট শাসনের প্রচলিত নিয়ম তত বেশি পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতের বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য, মালিকানা ও নেতৃত্বের ধারণাও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠজুড়ে ধীর পায়ে হাঁটা, কিন্তু সিদ্ধান্তের মুহূর্তে বজ্রপাত: মেসির ফুটবল বুদ্ধির প্রকৃত রহস্য

ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিগুলো কি আর প্রচলিত নিয়ম মানছে না? বদলে যাচ্ছে করপোরেট শাসনের বিশ্ব

১২:৪৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে প্রচলিত করপোরেট শাসনের নিয়ম যেন আর আগের মতো কার্যকর থাকছে না। শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার যে ধারণা গত কয়েক দশক ধরে আধুনিক করপোরেট ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, এখন তা বড় প্রযুক্তি ও কৌশলগত কোম্পানিগুলোর বাস্তবতায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

শেয়ারহোল্ডার-কেন্দ্রিক মডেলের উত্থান

একসময় ধারণা করা হয়েছিল, বিশ্বের সব বড় কোম্পানি ধীরে ধীরে এমন এক ব্যবস্থায় চলে যাবে যেখানে শেয়ারহোল্ডারদের লাভই হবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য। ইউরোপ ও এশিয়ার বহু দেশও নিজেদের করপোরেট আইন সেই ধারা অনুসরণ করে পরিবর্তন করেছে। বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলগুলোর বিস্তারও এই মডেলকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে সাম্প্রতিক বাস্তবতা বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম আর সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। একটি নির্দিষ্ট আকারে পৌঁছানোর পর অনেক প্রতিষ্ঠান এমন অবস্থানে চলে যায়, যেখানে বাজারের চাপ বা প্রচলিত শাসনব্যবস্থার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমে আসে।

Maximizing shareholder profits is a great way to destroy humanity

চার ধরনের করপোরেট দর্শনের উদ্ভব

বর্তমান সময়ে বিশ্বের ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্যের প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোটামুটি চারটি ভিন্ন ধরণের করপোরেট দর্শনে ভাগ করা যায়।

প্রথম দলে রয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা এখনো মূলত শেয়ারহোল্ডারদের লাভকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরে রেখেছে। এদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এবং সরকারি মালিকানার বাইরে পরিচালিত হয়। তারা বড় মুনাফা অর্জনের ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।

দ্বিতীয় দলে রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রতিষ্ঠাতা বা দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত। এখানে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা বিশ্বাস করেন, প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্বই বেশি দক্ষ। ফলে অনেক বড় বিনিয়োগ বা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প শেয়ারহোল্ডারদের তাৎক্ষণিক লাভের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন বাস্তবতা

দক্ষিণ কোরিয়ার বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত উত্থান দেশটির অর্থনীতি ও সমাজে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। বিপুল মুনাফার অংশ কে পাবে—শ্রমিক, সরকার নাকি বিনিয়োগকারী—তা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।

South Korea plans new chip cluster as AI boom strains capacity - Nikkei Asia

শ্রমিকরা বড় অঙ্কের বোনাস আদায়ে চাপ সৃষ্টি করছেন। রাজনীতিকেরা ভাবছেন, এই মুনাফা থেকে কীভাবে রাষ্ট্র আরও বেশি সুবিধা নিতে পারে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার প্রতিযোগিতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

জাতীয় স্বার্থের প্রতীক হয়ে ওঠা কোম্পানি

আরেক ধরনের প্রতিষ্ঠান শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, নিজ দেশের কৌশলগত শক্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। উন্নত চিপ উৎপাদন কিংবা জ্বালানি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে তাদের অবস্থান পুরো দেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু বিনিয়োগকারীদের নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ইলন মাস্কের ব্যতিক্রমী করপোরেট মডেল

বিশ্বের অন্যতম আলোচিত উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচলিত করপোরেট কাঠামোর বাইরে এক ভিন্ন ধরনের শাসনব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এখানে প্রতিষ্ঠাতার হাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। অনেক ক্ষেত্রেই মুনাফা অর্জনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে প্রচলিত শেয়ারহোল্ডার-কেন্দ্রিক বিশ্লেষণ দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ইলন মাস্কের সফলতার গল্প | The Daily Star

এই বাস্তবতার কারণে আর্থিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়নেও বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় নগদ প্রবাহে ইতিবাচক না থাকার সম্ভাবনা থাকলেও তার ভবিষ্যৎ মূল্য অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতের করপোরেট শাসন কোন পথে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন প্রজন্মের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে কোন ধরনের করপোরেট কাঠামো অনুসরণ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কেউ মনে করছেন, তারা প্রতিষ্ঠাতানির্ভর মডেল অনুসরণ করবে। আবার কেউ ধারণা করছেন, জাতীয় কৌশলগত স্বার্থের কারণে সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। ফলে আগামী দিনের করপোরেট বিশ্বে একক কোনো শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের মডেল পাশাপাশি টিকে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিগুলোর অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, ব্যবসার আকার যত বড় হচ্ছে, করপোরেট শাসনের প্রচলিত নিয়ম তত বেশি পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতের বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য, মালিকানা ও নেতৃত্বের ধারণাও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হতে পারে।